somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বোতল বার্তা: তৃতীয় বিশ্বের এক রূপকথা

১৯ শে অক্টোবর, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এটা কি কোন রূপকথা, কোন এক মানুষের বাঁচার আর্তনাদ নাকি অথৈ সমুদ্র জলে ডুবে যাওয়া কোন নাবিকের বোতল বার্তা? বাংলাদেশের কোন এক টেক্সটাইল মিলে পোষাক প্যাকিংএর কাজ করতেন যুবক গাজী। বৃদ্ধ বাবা মা আর নয় ভাই বোনের বিরাট সংসার। মাসিক বেতন মাত্র একহাজার টাকা। সংসারের বাকী যারা সক্ষম, তাদের সবার মিলিত আয়েও দুবেলা ভাত জোটানো দুষ্কর। অভাবের অথৈ সমুদ্রে হাবুডুবু খাচ্ছেন গাজী ও তার সংসার।

দেশের বাইরে এক অর্ডারের কাপড়চোপড় প্যাকেটবন্দী করার সময় মরিয়া হয়েই ছোট্ট এক কাগজে নিজের অবস্থার কথা ও ঠিকানা লিখলেন গাজী। একটি সার্টের ভাজের ভেতর লুকিয়ে দিলেন তার বাঁচার আকুতি।

সমুদ্র পেরিয়ে সে কাপড় পৌছুল জার্মানীর এক মফস্বল শহরে। একটি সার্ট কিনলেন এক জার্মান তরুনীর তার বাবার জন্মদিনের উপহার হিসেবে। বাবা সার্ট পড়তে গিয়ে খুঁজে পেলেন সেই কাগজ। দুরদেশের এক অসহায় যুবকের দুর্ভাগ্যের কথা ভেবে সিক্ত হলো মন। গাজীকে সমবেদনা জানিয়ে চিঠি লিখলেন।

তারপর শুরু হল চিঠির যোগাযোগ। সে যোগাযোগ আন্তরিকতায় পরিনত হবার পর গাজী নিমন্ত্রন জানালেন দম্পতিকে। পৃথিবীর আরেক প্রান্তে তারাও বাংলাদেশের কোন এক অজ পাড়াগায়ে আতিথ্য গ্রহন করলেন গাজী পরিবারের। হতদরিদ্র গাজী তার অন্তসত্বা স্ত্রী সমস্ত সাধ্য দিয়ে আপ্যায়ন করলেন দু্থজনকে। আনন্দ ও নিবিড়তার মাঝে সময় কাটানোর পর একদিন অশ্রুসজল চোখে ফিরে এলেন এ দম্পতি তাদের নিজেদের দেশে।

এখানকার এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে অংশ নেন এই দম্পতি। বাংলাদেশের স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে অশ্ত্রসজল তাদের চোখ। গাজী পরিবারের আতিথেয়তা তাদেরকে স্পর্শ করেছে, সে সময়টুকু ভিডিওক্যামেরায় ধারণ করেছেন। তার টুকিটিকি দেখালেন। বাংলাদেশের গ্রাম তাদের ভাল লেগেছে খুব। ঢাকা শহর ভাল লাগেনি একেবারেই। তাদের ধারনা, শহরবাসী পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা কি, সেটাই হয়তো জানেন না।

--ছবিটি টিভি সাক্ষাতকারের সময় তোলা। বা্থদিকের দু্থজন এই দম্পতি, ডানে এর পরিচালক--
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাচার হওয়া টাকা বাংলাদেশেই আছে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১০:৩৭

বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাচার হওয়া টাকা বাংলাদেশের ভিতরেই আছে - অন্য কারো মালিকানায়।

যদিও পাচারকারীরা হয়তো ওয়ার ট্রান্সফার বা টাকাকে বিদেশে ডলারে কনভার্ট করে বিদেশের কোন ব্যাংকে সরিয়ে নিয়েছে। কিন্তু,বাংলাদেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

পশ্চিমবঙ্গে মমতা দিদি নিশ্চিত জিতে যেতেন যদি..

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:৪৯


আগামীকাল পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম ধাপ। গোটা রাজ্যে এখন যে উত্তাপ চলছে, সেটা এপ্রিলের গরমকেও হার মানাচ্ছে। এক দিকে মমতা ব্যানার্জি, তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেত্রী, টানা তৃতীয় মেয়াদের পর চতুর্থবারও... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশি দৃষ্টিতে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন ও ভারতের হিন্দুরাষ্ট্র হয়ে ওঠার প্রচেষ্টা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:০৬


কাল থেকে দুই ধাপে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন শুরু হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি ভারতের কেন্দ্রীয় শাসনক্ষমতা ও মতাদর্শ দ্বারা যেমন প্রভাবিত, তেমনি এর প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশেও প্রতিফলিত হয়। ভারতে যখন হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদী... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৬

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:২৩



আমার নাম শাহেদ। শাহেদ জামাল।
আজ আপনাদের বলবো আমার জেল জীবনের কথা। জেলখানার খাবারের মান ভালো না। ফালতু খাবার। একদম ফালতু। এত ফালতু খাবার হয়তো আপনি জীবনে খান... ...বাকিটুকু পড়ুন

-প্রতিদিন একটি করে গল্প তৈরি হয়-৫০

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯



একটি সাইকেলের জন্য কন্যা অনেক দিন ধরে অপেক্ষা করছে। সে মাটির ব্যাংকে টাকা জমিয়েছে।


ক্লাস ওয়ানে উঠলে তাকে বাই সাইকেল কিনে দেবো বলেছিলাম।

তো একদিন গেলাম, দেখলাম কিন্তু কিনলাম না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×