এর চেয়ে শোচনীয় অবস্থায় কোন দেশ, কোন জাতি যেতে পারে না। আমাদের দেশের রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতাদের প্রতিজনই অসাধু কি না, এ নিয়ে আলাপ চালানো যেতে পারে। তবে তারা যে দেশের জনগনের কাছে তাদের আস্থাযোগ্যতা হারিয়েছেন, তাতে সামান্যতম দ্বিমত থাকার কথা নয়। আমরা আজ জননেতা বলতে এমনজনদেরই জানি, যাদের কালো টাকার অন্ত নেই। জানগনের প্রতিনিধি হয়ে দেশের জন্যে কাজ করার চাইতে নিজেদের পকেট ভরাই তাদের প্রধান উদ্দেশ্য। নিজেদের সন্তানদের লালন করার চেয়ে তারা সন্ত্রাসী লালনেই বেশী পারদর্শী। আমরা যে তাদেরকে এভাবে চিনি, সেজন্যে আমার দায়ী নই, দায়ী তাদের কর্মপ্রবাহ। এই ছবি, এই বোধের পরিবর্তন দরকার। এই পরিবর্তন আমরা করবো, এটা আমাদের আর আশা করা যেতে পারে না, কারণ কোনঠাসা হতে হতে দেয়ালে ঠেকেছে পিঠ আমাদের। এখন রাজনীতিকদেরেকই শুদ্ধ হতে হবে, তাদের বিশ্বাসযোগ্যতার প্রমান দিতে হবে। যতদিন তা না হয়, গনতান্ত্রিক পদ্ধতির উপর যতটুকে আস্থা আমরা হারিয়েছি, তার গভীরতা আজ অবধি বিশাল হলেও সেটা আরো অসীমের দিকে যেতে থাকবে। তখন যে জনযুদ্ধ, প্রতিবাদ, প্রতিরোধ ও বিশৃঙ্খলার আগুন জ্বলবে আমাদের সমাজে, তাতে এসব রাজনীতিবিদের বিনাশ ঘটার আশা করতে পারলেও সাধারণ মানুষের রক্তও ঝরবে আরো বেশী। সেজন্যে এখনই চুড়ান্ত সময় নতুন হাতিয়ার খোঁজার, যে হাতিয়ার রাজনীতিবিদ, রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের নিজেদের শুদ্ধির প্রয়োজনীয়তা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে পারবে।
ড: ইউনুসের রাজনৈতিক আঙ্গনে পদচারণা নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে অনেক কথা হয়েছে। ওনি ক্ষমতায় এসে দুদিনেই কোন এক যাদুর কাঠির ছোঁয়ায় আমাদের দেশের চেহারা পাল্টে দেবেন, এত বড় আমার দুরাশা নয় । ওনার পুজিবাদী রাজনৈতিক প্রজ্ঞা আমাকে মুগ্ধও করে না। তারপরও আমি রাজনৈতিক রঙ্গমঞ্চে তাঁর এই পদার্পনকে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছি না। আমাদের যা বর্তমান অবস্থা, তাতে তার রাজনীতি যাই হোক না কেন, একটি মাত্র শর্ত পূরন করলেই তিনি সবার উপরে আসন গাড়তে পারেন। সে শর্ত হচ্ছে সততা। এটি একমাত্র শর্ত, যা সবার আগে পুরন হওয়া জরুরী। আমাদের দেশের কোন রাজনৈতিক দল ও তাদের নেতারা এ শর্ত পূরন করেন নি এতোদিন। তাদের ঔধ্যত্ব ও স্বেচ্ছাচারিতা এতদুর গেছে যে, সততার কোন প্রয়োজনীয়তাও তারা অনুভব করতেন না। ড: ইউনুসের রাজনৈতিক অঙ্গনে পদচারণা আজ তাদেরকে তার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করতে বাধ্য করছে। এখন ওরা নিজেদের ভেতরে শুদ্ধির চিন্তা অতি সামান্য হলেও করতে বাধ্য হচ্ছেন। এটা আমাদের জন্যে ভাল, দেশের জন্যে ভাল, সে সম্ভাবনাই আমি বেশী দেখছি। ক্ষতি যদি হয়, তা ড: ইউনুসেরই হবে। তার মিশন সফল না হলে দেশের কাছে, বিশ্বের কাছে তিনি তাঁর অর্জিত সন্মান হারাবেন। তবে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হবে প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোর, কারা তা টের পেতে বাধ্য হবেন যে, জনগনকে শোষন করে যে ক্ষমতা, সে ক্ষমতার ঐশ্বর্য বিশাল হলেও দীর্ঘস্থায়ী নয়। সে বোধ যদি ড: ইউনুসের রাজনৈতিক পদক্ষেপ ও জনগন আমাদের দেশের ক্ষমতাধরদের ভেতরে প্রবেশ করাতে পারেন, তা আমাদের জন্যে কখনোই ক্ষতিকর হতে পারে না।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


