ভোরের চোখের পলক সীসার মতো ভারী। রাতটাও জগদ্দল পাথর হয়ে চেপে আছে বুকের কাঠামোয়। নি:শ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে বেশ।
কিন্তু এমন কি করে হয়? একটু আগে যা বাস্তব,সামান্য পরই তা ঘোরের মতো কি করে মগজের খাঁজে খাঁজে গুমড়ে বেড়াতে পারে?
অসুস্থতা?
হয়তো এটাই স্বাভাবিক, জোর করেই ভাবতে চাইলাম।
অপরিচিত, পরিবর্তিত, অথচ শুরুতেই চুরমার, এমনি এক দিন সামনে দাড়িয়ে, হতাশার মতো।
পাখির কিচির মিচির, ভোরের নরম রোদের কারুকার্যময় আদর, কেনটাই আমাকে উজ্জীবিত করতে পারলো না।
অথচ সামনে সারাটি দিন!
কিন্তু এমনি একটি দিন কি সুতোয় বোনা সম্ভব? এ দিনতো শুকনো বালির মতো আঙ্গুলের ফাঁক গলে ঝরে পড়ছে বার বার। হাজার চেষ্টাতেও কিছুতেই ধরে রাখতে পারছি না।
কলের পুতুলের মতো নিজেকে বশে আনায় প্রয়াসী হলাম।
যদিও নিজেকে অস্তিত্বশীল বলেই মনে হচ্ছে, তারপরও যেন এমনি এক আবরণের মাঝে আমি, যা অদৃশ্য। একে কি শরীর আখ্যা দেয়া যেতে পারে?
নিজের বুকের ভেতরেই যেন একফোটা অশ্রু শিশির হয়ে ঝরলো। এক নি:শ্বব্দ আর্তনাদের মতো। অথচ আমার ভেতরের আমিকে বাইরে প্রকাশের কোন পথই খুজে পেলাম না।
আমার কথা আর ভাষা আগেরই। অঙ্গভঙ্গীও অপরিবর্তিত। তারপরও আমার আমিত্বকে হারিয়ে নিজের কাছেই অপরিচিত আমি।
আমি এই বিবশতা, চক্রবাক চাইনা। সোজা থাকতে চাই। নিজের পথ নিজেই চিনে নিতে চাই।
আমি এক অভিনেতা। কেউ চেনেনা আমাকে। যে চরিত্রের অভিনয় আমার, মুখোশ হয়ে চেপে আমারই শরীর হয়ে আমাকে বন্দী করে রেখেছে।
চারপাশে নেই কেউ। আমার আর্তনাদ আমার ভেতরেই বিলীন।
সারাদিন অভিনয় সেরে ঘরে। নিজেই নি:শেষিত। অভিনয় জোকের মতো শুশে নেয় রক্ত।
মুখেশটা খুললাম আমার। একটা সোনালী খাঁচার ভেতরে বন্দী আমি। কারো, কারো চোখেই এ খাচা দৃশ্যমান নয়।
তারপরও চোখের পাতা বন্ধ হয়ে এলো আমার।
কিন্তু জানি তীরবিদ্ধ, শরাহত কালও আমি আজকের দিনটির মতোই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

