আজকের কাগজে প্রকাশিত আফরোজা নাজনীন এর এই রিপোর্টটি কাটপেষ্ট করলাম, যাতে আরেকবার সবার চোখে পড়ে।
আফরোজা নাজনীন
একজন নারীর মা হওয়া তার জন্য সম্মানের বিষয়। কিন্তু এ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হতে তাকে পার হতে হয় অন্তবীহিন পথ। গর্ভাবস্থায় নারী পায় না সুষ্ঠু সেবা, পায় না পর্যাপ্ত খাবার। অবিশ্বাস্য হলেও তার ওপর চলে অমানবিক অত্যাচার, যে অত্যাচার তার গর্ভস্থ সন্তানের ও তার জীবনকেও করে তোলে বিপন্ন।
শুধু বাংলাদেশে নয় দক্ষিণ এশিয়ার মাতৃমৃত্যুর অন্যতম কারণ গর্ভাবস্থায় শারীরিক নির্যাতন। পাকিস্তানের হাসপাতালগুলোতে যারা বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেয় তাদের এক তৃতীয়াংশ নারী শারীরিক নির্যাতনের শিকার। শ্রীলংকায় এ হার শতকরা ৬০ভাগ। কানাডায় এ হার ৬ দশমিক ৬ ভাগ।
নারীর প্রতি যত রকমের সহিংসতা ঘটে তার শতকরা ৮০ ভাগই হয় পরিবারের মধ্যে। ইউএনএফপির এক রিপোর্টে জানা যায়, স্বামী বা ঘনিষ্ট পুরুষসঙ্গী দ্বারা প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের নির্যাতিত হওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, নির্যাতনের ক্ষেত্রে পাপুয়া নিউগিনির পরেই বাংলাদেশের স্থান।
বিবাহিত নারীদের নির্যাতন করে স্বামী, শাশুড়ি ও ননদ। এফপিএবি জানায়, নির্যাতিতদের মধ্যে শতকরা ৮৯ ভাগ স্বামী, শতকরা ৮৪ ভাগ শাশুড়ি ও শতকরা ৬৩ ভাগ ননদের হাতে নির্যাতিত হয়।
চিকিৎসকের মতে, গর্ভকালীন যে কোনও নির্যাতনের ফলাফল মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। বিশেষত নির্যাতিতের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকির সম্মুখিন হয়। এদিকে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার এক জরিপে জানা গেছে, গর্ভধারণের সময় প্রহারের শিকার শতকরা ৮০ ভাগ নারী গর্ভধারণের আগেও একই ব্যক্তির হাতে তারা প্রহৃত হয়েছেন।
আইসিডিডিআরবি জানায়, ঢাকার শতকরা ১০ ভাগ ও মতলবের শতকরা ১২ ভাগ নারী গর্ভাবস্থায় নির্যাতনের শিকার হয়। এদের মধ্যে শতকরা ৩৭ ভাগ অভিযোগ করেছেন এসময় তাদের পেটে লাথি ও ঘুষি মারা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, নানা কারণে নারীরা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হলেও বাইরে তা প্রকাশ হয় কম।
এফপিএপবি কুমিল্লা, বরিশাল, ময়মনসিংহ ও রাজশাহীতে 'কমব্যকটিং জেন্ডার বেইসড ভায়োলেন্স ডিউরিং প্রেগন্যান্সি' শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে গত তিনবছর যাবত। এ প্রকল্পের এক জরিপে জানা যায়, শতকরা একশ' ভাগ নারী বলেছেন, গর্ভকালীন প্রায় সকল নারী কোনও না কোনও ধরনের নির্যাতনের শিকার হন। শতকরা ২০ ভাগ বলেছেন, গর্ভকালীন শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। শতকরা ৪৬ ভাগ বলেছেন, প্রসবপূর্ব ও পরবর্তী সেবা দেওয়া হয় না। শতকরা ৬২ ভাগ বলেছেন, গর্ভকালীন নিয়মিত ও পরিমিত খাবার দেওয়া হয় না। জরিপকারী শতকরা ৬০ ভাগ চিকিৎসক বলেছেন, গর্ভকালীন নির্যাতনের কারণে মায়ের মৃত্যুও হয়।
এফপিএবি এর এক গবেষণায় জানা যায়, ৫৬ শতাংশ নারী গর্ভকালীন সময়ে গালাগালি ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়। ১২ শতাংশ বলেছেন, গর্ভকালীন জোর পূর্বক যৌনকর্মের শিকার হন। ১ শতাংশ বলেছেন, গর্ভকালীন জোরপূর্বক এমআর ও এবরশন করা হয়। ৪৮ শতাংশ জরিপকারী চিকিৎসক বলেছেন, নির্যাতনের ফলে মৃত ও বিকলাঙ্গ সন্তান প্রসব হয়। ৫৩ শতাংশ বলেছেন গর্ভপাত হয়। ২৫ শতাংশ বলেছেন, প্রসবকালীন জটিলতা হয়।
ইউএনএফপি জানায়, ৬৫ শতাংশ পুরুষ বউ পেটানোকে ঠিক কাজ বলে মনে করে। ৩৮ শতাংশ জানে না শারীরিক নির্যাতন কি। ৪০ শতাংশ মনে করে নারীকে সামাজিক ঘেরাটোপে রাখা উচিত। ৩০ শতাংশ মামুলি নির্যাতনের বিরোধী।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


