somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নাটক: নেতাই (চতুর্থ ও শেষ অঙ্ক)

১৭ ই মে, ২০০৬ ভোর ৪:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শেষ দুটো লেখা পোষ্ট করেছিলাম আমাদের সমাজের অবহেলিত কিছু মানুষদের নিয়ে। এবার একই বিষয় নিয়ে লেখা আমারই এক ছোটগল্পের নাট্যরূপ। তিনটি অঙ্কে ভাগ করে পোষ্ট করছি (আসলে চারটি অঙ্ক রয়েছে, দু:খিত)। আশা করি পড়বেন ও আপনাদের মন্তব্য জানাবেন।
........................................................................

চতুর্থ অঙ্ক

চরিত্র: নেতাই, মালিক , মালকিন, দিদিমনি, মেজমালিক, তিনজন ডাকাত, দিদিমনির মামা
সাথে আর কিছু লোকজন (বিয়ের জন্যে নিমন্ত্রিত) হলে ভাল হয়।

রাতের ট্রেনের একটা কামরায় বসে সবাই। নেতাই মাটিতে বসে। তার পরণে আগের মতোই পুরোনো ছেড়া পোষাক। সবাই আনন্দে উত্তেজিত হয়ে খোশগল্পে মগ্ন। সবচে বেশী আনন্দিত দিদিমনি। মালিক ও দিদিমনির মামা ও গভীর গল্পে। একমিনিট পর স্তিমিত হয়ে আসবে সে আওয়াজ।

মালকিন: (ফিসফিসিয়ে বলার ভঙ্গীতে দিদিমনিকে কাছে এনে) গহনাগুলো সাবধানে রেখেছিস তো ?
দিদিমনি: হ্যা মা, খুব সাবধানে আমার কাছেই রেখেছি।
মালকিন: ভালো করেছিস্ । তোর এত বড় ঘরে বিয়ে হচ্ছে। আমার কি যে আনন্দ !
দিদিমনি: হ্যা মা, শুনেছি ওরা নাকি বাবার চেয়েও বেশী বড়লোক।
মালকিন: ওদের বিরাট ব্যাবসা। তোর বাবার ব্যাবসা কে গিলে ফেললেও টের পাওয়া যাবেনা।
দিদিমনি: মামু না হলে আমার এমন বিয়ে হতোই না, তাইনা মা ?
মালকিন: তোর মামু না হলে আমাদের কিছুই হতো না। তোর বাবার যা আছে, সেতো মামুর জোরেই।
দিদিমনি: (হঠাৎ একটু জোরে ডেকে উঠলো) বাবা, বাবা !
মালিক: (চমকে উঠে মেয়ের দিকে তাকিয়ে) কি, মা ?
দিদিমনি: তোমার জোর বেশী না , মামুর ?
মালিক: (একটু থমকে গিয়ে)এতোদিন ভেবে এসেছি আমার। এখনতো দেখছি তোরই মামুরই বেশী। .... তো এখন একটু ঘুমোনোর চেষ্টা কর মা। নইলে বিয়ের সময় চেহারা ভালো দেখা যাবে না।
দিদিমনি: ঠিক আছে বাবা। (হঠাৎ চীৎকার করে)মামু জিন্দাবাদ !
দিদি ও মেজমালিক: মামু জিন্দাবাদ !

হঠাৎ ঘটাং শব্দ করে থেমে গেলো ট্রেন। বাইরে শোরগোল শোনা গেল। নেতাই তখন মাটিতে বসে ঘুমে। শব্দ শুনে অবাক হয়ে চোখ কচলে এদিক ওদিক তাকালো। মামা জানলা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে তাকালেন।

মামা: (মুখ ভেতরে এনে) সামনের দিকে চীৎকার শুনছি। ডাকাত নাকি পড়েছে ।
মেজমালিক: (ভয়ার্ত হয়ে) এখন কি হবে মামা !
দিদি ও মেজমালিক এখন কি হবে মামা !
সবাই: এখন কি হবে মামা।

মামা চুপচাপ। বাইরে শোরগোলের শব্দ বাড়বে আরো।

দিদিমনি: (জোরে চীৎকার করে) ডাকাত পড়েছে ? (চীৎকার করে কেঁদে উঠে) ওমা আমার কি হবে গো। আমার বিয়ের কি হবে গো।
মালিক: শালা, তোমার কতো মতা। কিছু করো একটা। পুলিশ ডাকো, পুলিশ পুলিশ....। না আমি নিজেই ডাকছি। (জানলা দিয়ে মুখ বের করে) পুলিশ পুলিশ ।

মেজমালিক চেষ্টা করলো একটা চেয়ারের তলায় গিয়ে লুকোতে। সেখান থেকে তাকে বের করে আনলো মালকিন। কানের কাছে মুখ নিয়ে একটা কিছু বলবে (দর্শকরা যাতে টের পান, সেভাবে)। মেজমালিক তা শুনে দ্রুত নেতাইএর কাছে গিয়ে দাঁড়াবে।

মেজমালিক: এই শালা, কাপড় খোল ! জলদী কর।
নেতাই: এইটা ত পুরান কাপড়। নতুন ডা ত পরি নাই। এইডা ডাকাইতে লইয়া কি করব ?
মেজমালিক: বেশী কথা বলিস না হারামজাদা। যা বলছি, তা ই কর।
নেতাই: হগলের সামনে খুলমু ?
মেজমালিক: হ্যা হারামজাদা।
নেতাই: আমার শরম করব। আপনে খোললে আপনের করব না ?
মেজমালিক: আমিও খুলব।
নেতাই: (অবাক হয়ে) আপনেও কাপড় খোলবেন হগলের সামনে, আপনের শরম করব না ?
মেজমালিক: শরম আমার নেই এখন। কিন্তু আর দেরী করিস না হারামজাদা। তাড়াতাড়ি যা বলছি, তা ই কর।

বলে মেজমালিক নিজের কাপড় খোলা শুরু কররে। নেতাই একটু অবাক হয়ে তাকিয়ে নিজেরগুলোও খুলবে। তারপর মেজমালিকের ঈশারায় বুঝে নিয়ে পাল্টাপাল্টি করে ফেলবে পোষাক। নেতাইকে সরিয়ে তার জায়গায় বসে ওকে নিজের জায়গায় গিয়ে বসার ঈশারা করবে মেজমালিক। নেতাই সেটাই করবে।

দড়াম করে দরজা খুলে তিনজন ডাকাত ঢুকবে ভেতরে উদ্যত পিস্তল হাতে। সবাই ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে নিজের জায়গায় গিয়ে বসবে।

প্রথম ডাকাত: কাউকে যেন বলতে না হয়, এটা দাও, সেটা দাও। জিনিসপত্র যা আছে, সাথে সাথে দিয়ে দেবে।
দ্বিতীয় ডাকাত: কেউ কোন কথা বলবে না। কথা বললেই এক গুলিতে খুলি উড়িয়ে দেব।

তৃতীয় ডাকাত একটা ঝোলা নিয়ে একে একে সবার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। সবাই যা যা দেবার, দিয়ে দিল ভয়ে ভয়ে। দিদিমনির কাছে গিয়ে দাঁড়াতে ছোট্ট একটা ব্যাগ দিল সে। কিন্তু তৃতীয় ডাকাত তাকে টেনে সরিয়ে দিয়ে তার পেছনে রাখা গহনার ঝোলাটি নিজেই নিয়ে নিল। নেতাইও মেজমালিকের পকেট থেকে তার মানিব্যাগটি বের করে দিল।

সবকিছু নিয়ে বেরিয়ে যাবার মূহুর্তে প্রথম ডাকাত তাকাল ও এগিয়ে গেল মেজমালিকের দিকে।

তৃতীয় ডাকাত: (বাধা দিয়ে) ওই ফকিরের বাচ্চার কাছে আর কি পাবি ? চল্ অন্য কামরায় যাই।
প্রথম ডাকাত: ওই শালা তাহলে ফার্ষ্ট কাশে চড়বে কেন ?

বলেই এগিয়ে যাবে মেজমালিকের দিকে।

প্রথম ডাকাত: এই শালা, তোর নাম কি রে হারামজাদা ?
মেজমালিক: (ভয়ার্ত স্বরে) আমি কিছু করি নাই। আ...আমার কাছে কিছু নাই।
দ্বিতীয় ডাকাত: (দাঁত খিঁচিয়ে ধমক দিয়ে )কিরে, নাম বল ! বলছিস না কেনো হারামজাদা ?
মেজমালিক: (ফোপাতে ফোপাতে)আমার .... আমার নাম রহিম বাদশা।
প্রথম ডাকাত: কি বলছিস ? বসে আছিস্ ন্যাতা পড়ে একটা। আর নাম বলছিস রহিম বাদশা। এখন থেকে তোর নাম হবে নেতাই। বুঝলি শালা, এখন থেকে তোর নাম হবে নেতাই।
দ্বিতীয় ডাকাত: (ট্রেনের অন্যদের দিকে তাকিয়ে গেল মালকিনের কাছে) এই বুড়ি, বল্ , এই হারামজাদার নাম কি বল্ ? কি নাম রাখলাম আমরা।
মালকিন: ওর নাম নেতাই, নেতাই, ..... নেতাই।
দ্বিতীয় ডাকাত: এই বুড়ি, আস্তে বলছিস কেন, জোরে বল্ , জোরে বল !
মালকিন: (জোরে) ওর নাম নেতাই, নেতাই, ..... নেতাই।
প্রথম ডাকাত: শালা, তোর নাম বল্ আরেকবার।
মেজমালিক: হ্যা, আমার নাম নেতাই, আমার নাম রহিম বাদশা নয়, আমার নাম নেতাই.....নেতাই।
প্রথম ডাকাত: এভাবে হবে না শালা। এত সহজে ছাড়বো না তোকে। নাক খত দে মেঝেতে। তারপর বল, আমার নাম নেতাই, আমার নাম নেতাই।

মেজমালিক নাকে খত দেবে। পর্দা পড়বে। পর্দা পড়ার পরও আওয়াজ শোনা যাবে, নেতাই.....নেতাই....... নেতাই।

নাটক শেষ, যবনিকা
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অন্তর্দিগন্ত

লিখেছেন মুনতাসির রাসেল, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:০৯



যে নদী সাগরকে ছোঁয়নি, সে-ই গায় সবচেয়ে নির্মল সঙ্গীত।
যে বৃক্ষের শাখা ফলের ভারে নত হয়নি, সে-ই আকাশকে বেশি বোঝে, বাতাসকে বেশি শোনে।

পৃথিবীর প্রাচীনতম ভ্রমগুলোর একটি এই,
মানুষ ভেবেছে প্রাপ্তিই পরিত্রাণ।

তাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

Laptop Stand কেন দরকার?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৪ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৯

Laptop Stand কেন দরকার? | Digital Fast IT থেকে স্মার্ট সমাধান



দীর্ঘ সময় ল্যাপটপ ব্যবহার করলে অনেকেরই একটি সাধারণ সমস্যা দেখা দেয়—ল্যাপটপের নিচের অংশ অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। অতিরিক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুবাই কি দুর্নীতিবাজদের গন্তব্য হয়ে উঠেছে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৪ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩০

কয়েক বছর আগে, কানাডার বেগম পাড়ার কথা ব্যারিস্টার সুমন ভাই বেশ ফলাও করে প্রকাশ করেছিলেন। বাংলাদেশী দূর্নীতিবাজদের আখড়া হয়ে উঠেছিলো কানাডার ঐ অঞ্চল। আজ পুসিলশের সাবেক প্রধান বেনজির দুবাইয়ে ধরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্ব দ্বীন হাসপাতাল ও বাংলাদেশ ফেসবুক বিচারক

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৫৪



সম্প্রতি আদ্ব দ্বীন হাসপাতালের ঘটনা কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ফেসবুক বিচারকগণ রায় দিয়েছেন “আদ্ব দ্বীন হাসপাতাল লাইসেন্স বাতিল করা যাবে না”।




...বাকিটুকু পড়ুন

ইমিগ্রেশনেই ধরা খেল বিএনপির কূটনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪০


ধরুন আপনার পাশের বাড়ির সাথে সম্পর্ক ভালো না। দীর্ঘদিনের পুরনো ঝামেলা, কথা বলাবলি বন্ধ, একে অপরকে দেখলে মুখ ঘুরিয়ে নেওয়ার অভ্যাস হয়ে গেছে। এই অবস্থায় পাশের বাড়িতে একটা বৈঠক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×