somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মেঘের আঁচলে মুখ লুকায় মেঘ বালিকা!

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ৮:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


(উৎসর্গ- পৃথিবীর সকল বীরাঙ্গনা ও তাদের সন্তানদের। আমার এই লেখাটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক, যদি কারো জীবনের সাথে মিলে যায় সেটা হবে কাকতালীয়)

তুমি শুনছো পৃথিবী ? শোনো, কান পেতে শোনো কি অঝোর ধারায় বয়ে যায় কষ্টের জলপ্রপাত! জন্ম হয়েছিল সেদিন সবুজ পতাকার তলে; স্বাগত জানাওনি সেদিন অনাকাঙ্খিত নবজাতকটিকে! আমার মা, আমার সেই বীরাঙ্গনা মা আমার জন্মের দায় চুকাতে চুকাতে অন্তর্লীন হয়ে গেছে ওই মেঘ সমাচ্ছন্ন আকাশে। কোথায় সেই জন্মদাতা আমি জানিনা; জানতেও চাইনা। শুধু জেনেছি, এই সমাজ আমার মা'কে খেতাবের মালায় ঘটা করে তার যন্ত্রণার অনলে লু-হাওয়া দিয়েছে। আর সেই লু-হাওয়ায় আমার দুঃখিনী মা, আমার সবুজ স্বপ্ন দেখার সেই মা, জ্বলে-পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে।

অভিমানী মা আমাকে ছেড়ে গেছে সেই কবে, সে চলে গিয়ে মুক্তি পেয়েছে কিন্তু আমি! আর কত! পথের ধূ্লোয় গড়াগড়ি খেয়ে রাতে'রে চিনেছি- দিনে'রে চিনেছি আমি। আমার বীরাঙ্গনা মা'র জায়গা হয়নি তোমার সবুজের বুকে অথচ আমি সেই পথের গলিতে দেখেছি কি অনায়াসে বিক্রি হয়ে যায় সম্ভ্রম! দামী পারফিউমের গন্ধে অবলীলায় মুছে যায় বীর্যের দাগ! রাতের আঁধারের পাপ ধুয়ে দিনে কি সুশীল ওরা! নাহ- কেউ কিছু বলেনা, কেউ কিছু জানেনা, আমিও কিছু জানিনা বলেই পা বাড়াই স্বপ্নকাতর জীবনের সন্ধানে---।

পেটের ক্ষুধা, সে যে কি ক্ষুধা আমি উপলব্দি করেছি তবুও বিক্রি হতে চাইনি কোন মূল্যে। ভেবেছি ঘাম বিক্রি করে যদি পেটের ক্ষুধা নিবারণ করা যায় আর নিজেরে যদি কিছুটা নিরাপদ রাখা যায়! কারন খোলা আকাশ, পেটের গঞ্জনা, বার বছরের একটা বালিকা, এই ত্রয়ের মিশ্রণে নিজেরে বেশ অসহায় ও বিপদজনকই মনে হয়েছে। আর ''বীরাঙ্গনার সন্তান'' মানেই ''অবাঞ্চিত'' উপাধিটা আমার কপালে লেপ্টে আছে সেই জন্মলগ্ন থেকেই। যতই পথ হেঁটেছি আমায় তাড়া করেছে সেই উপাধি। জানিনা পৃথিবী, তোমার বুকের জমিনে কেন এত ঝাঁঝালো গন্ধ!

ঠিকানা হয়েছিল সুশীল সমাজের ভদ্র ঘরে। ''ভরপেটে এতটুকু সুখের নিদ্রা'' যেন কতকালের আকুতি! ভালই যাচ্ছিল দিন কিন্তু সেখানেও বাঁধ সাধে বুঝি নিয়তি! মাঝ রাতে কারো পায়ের শব্দে যেন চমকে উঠি, আমি চিৎকার করি, আরো চিৎকার কিন্তু হায়েনার দুটো হাত খাবলে ধরে নিষ্পেষিত করে আমায়। আমি দেখি সে গৃহকর্তা আমায় শাসিয়ে বলছে, ''খবরদার যদি কাউকে বলিস!''

তুমি কি বলতে পারো পৃথিবী, কতটুকু পার্থক্য সেই সবুজ স্বপ্ন দেখা বীরাঙ্গনা মা আর এই সবুজের বুকে বাস করা বীরাঙ্গনা'র কন্যা'র মধ্যে ? কতটুকু পার্থক্য সেই একাত্তরের হায়েনা আর সুশীলের মুখোশে ভদ্রবেশী হায়েনার মধ্যে ? তুমি কি বলতে পারো পৃথিবী, আমার জন্মের দায় যেভাবে চুকাতে হয়েছে আমার মা'কে, সেই আমাকেও আমার অনাগত সন্তানের জন্মের দায় সেভাবে চুকাতে হবে ?

তুমি তোমার বুকে আবাদ করোনা কেন সেই মনুষ্যত্বের বীজ ? অনাকাঙ্খিতভাবে আর কত খসে যাবে স্বপ্নভুক প্রাণ! আমার মা, স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে পারেনি; আমিও পারিনা। এক বুক দীর্ঘশ্বাস নিয়ে, চেতন- অবচেতনে মুখ লুকাই আজ ঘন মেঘের আঁচলে! হেরে যাই; হেরে গেছি পশুত্বের কাছে তাইতো,

সন্তর্পণে একদিন
আপন ইচ্ছায় প্রমোদ তরী ভাসাই আবার অতীতের জীবনে
সেই পেটের গঞ্জনা, সেই খোলা আকাশ
ওখানেও ক্ষুধার্ত কুকুরগুলো আজকাল বড় যন্ত্রণা দেয় !
বিস্তর ব্যবধানের প্রাচীর খাঁড়া করে
"সুশৃঙ্খলিত সমাজ" নামকরনের যথার্থতা খুঁজি আমি মেঘ বালিকা-------।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ১০:৪৪
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এক সেকেন্ডের নেই ভরসা

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৩


সংসারের শত দায়িত্ব কাঁধে। ধাপে ধাপে সব পালন করতে হবে। মোটরসাইকেল নিয়ে ভালো মনে রাস্তায় নামলেন রাইড শেয়ার করবেন বলে। হঠাৎ একটা প্রাইভেট কারের সাথে ধাক্কা লাগল। আপনি রাস্তায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসমাপ্ত নীহারিকা - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭



বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাকে দেখলে মানুষের প্রথম যে কথাটা মনে হতো, তা হলো—ছেলেটার নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা আছে।
কালো জিনস। কালো টি-শার্ট। টি-শার্টে কখনো Behemoth, কখনো Slayer, কখনো Cannibal Corpse। কানে হেডফোন। চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:১৮


বাংলাদেশের সমাজে একটি নীরব বিপ্লব ঘটে গিয়েছে। দুই বছর আগে ব্লগে অ্যাকাউন্ট খোলার পর থেকে এই পরিবর্তন নিয়ে কম করে হলেও বিশটির বেশি পোস্ট লিখেছি। এই বিপ্লবের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:৫৬

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত



সময় চলেছে তার আপন খেয়ালে,
নদীর স্রোতেরা হারায় কালের বুকে;
আমি শুধু এক অনন্তকাল ধরে,
ডুবে আছি প্রিয়, তোমার চাওয়া পাওয়ার ওই সুখে।

বাহিরের সব নিয়ম চলুক তার মতো,
মহাবিশ্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলার পথে ক্ষণিক দেখা – (১১)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০২

পূর্বের পোস্টঃ ক্ষণিকের দেখা, মায়াময় এ ভুবনে -১০


অবশেষে আমার কিছু কথা শুনে ওরা হাসিতে ফেটে পড়লো। সবার মুখে ছিল উজ্জ্বল হাসি।

আজ দুপুরে একটি এলাকার মাসজিদ সংলগ্ন পুকুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×