somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কাজের মেয়ে

১৮ ই জুলাই, ২০০৬ সকাল ৮:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গ্রাম থেকে কাজের মেয়েদের এনে কাজ করানো হয় প্রচুর কিন্তু বেতন দেওয়া হয় খুব কম। শহরের গৃহিণীরা অন্যকে দিয়ে কাজ করাতে পছন্দ করেন, নিজে করতে চান না। এ কারণে কাজের মেয়েদের তাড়িয়ে বেড়ান গৃহিণীরা। ঘুরেফিরে গৃহিণীরা হুকুম করে এবং এক এক করে কাজের মেয়েটি কাজ করে যায়। তাদের দিয়ে কাজ করালেও উপযুক্ত বেতন তাদের দেওয়া হয় না। অনেক পরিবারেই কাজের মেয়েকে করে রাখা হয় গৃহবন্দী। স্বামী-স্ত্রী চাকরিতে যাওয়ার সময় কাজের মেয়েকে ঘরে তালা দিয়ে রেখে যায়, যা অমানবিক।

যে মেয়েটি পুরো পরিবারের কাজ করছে, তাকে ডাইনিং টেবিলে বসে খাওয়ার সুযোগ নাইবা দেওয়া হলো, তবে তাকে পরিবারের সবাই যা খাচ্ছে, তা অন্ত ত দেওয়া যেতে পারে। এসব ক্ষেত্রে অনেক পরিবারের চিত্র রয়েছে ভিন্ন, তারা কাজের মেয়ের জন্য ভিন্ন খাবারের ব্যবস্থা করে, যা সামাজিক আচরণের ক্ষেত্রে বেমানান। আমরা যা খাই, কাজের মেয়েকেও তা খেতে দিলে তার মনে কখনো হীনমান্যতা দেখা দেবে না বরং সে সম্মানিত বোধ করবে এবং কাজেও উৎসাহ পাবে।

কাজের মেয়েকে যেটুকু সম্মান আমাদের দেওয়া উচিত তাতো দেই-ই না বরং কেউ বাসায় এলে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের সঙ্গে গৃহিণীরা বলতে থাকে আমার কাজের মেয়েটি খুব ফাঁকিবাজ ও কোনো কাজ করতে চায় না। এ ধরনের আচরণ কাজের মেয়ের মন দুঃখ দেয় এবং কখনো হিংস্র করে তোলে। অন্যের সামনে কাজের মেয়েটিকে তাচ্ছিল্য না করে যদি পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় ও আমার পরিবারের একজন। ওর হাতে রয়েছে আমাদের পুরো সংসার। ওর কারণে আমরা দুজন চাকরি করতে পারছি, তা না হলে একজনকে চাকরি ছেড়ে দিতে হতো। এভাবে যদি অন্যের কাছে কাজের মেয়েকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে সে সংসারের কাজের প্রতি বেশি আগ্রহী ও মনোযোগী হবে। কারণ কাজের মেয়েটি বুঝতে পারবে সে পরিবারের জন্য অনেক বড়ো ভূমিকা রাখছে।

কাজের মেয়েরও চাওয়া-পাওয়া আছে। সে না চাইতেই আপনি তাকে একটি সুন্দর জামা কিনে দিলেন, মন তার আনন্দে ভরে যাবে এবং কাজে উৎসাহ পাবে। সপ্তাহে একদিন যদি কাজের মেয়েটিকে নিয়ে আপনারা কোথাও বেড়িয়ে আসেন, তাহলে সে আপনার সংসারের কাজের প্রতি আরো আগ্রহী হয়ে উঠবে। প্রতিদিনের একঘেয়েমি কাজের মধ্যেও সে নতুনত্ব খুঁজে পাবে। আপনার পরিবারের কাজের মেয়ের কাজ করার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে, তাহলে কাজের মেয়েরা তার কর্মক্ষেত্রকে আপন করে নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী হবে।

সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে ফিরে আসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬


সময়ের সাথে সাথে নিজেকে বদলে নিতে হয়,
তোমার শরীর জুড়ে যখন
অভিজ্ঞতার গল্প পাঠের আসর,
তখনও ছেলে ভোলানো ছড়ায়
নিজেকে ভোলালে চলে?

আঁজলা ভরে সময়ের যন্ত্রণাকে পান কর,
পান কর সত‍্যকে।
পান কর... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্পত্তি

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৪৭

সম্পত্তি
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

মায়ের কোলে থাকা অবস্থায়
বাবা ইন্তেকাল করেন।
দিগবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েন মা
বাবার অর্জিত কোনো সম্পত্তি ছিল না।
ওয়ারিশ সূত্রে কিছু খণ্ড খণ্ড জমি
এখনও বিদ্যমান বা আছে।
শৈশবে দেখেছি একটি জমিতে
চার-পাঁচটি কদম গাছ,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×