somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সময়ের সওয়ার (২য় পর্ব)

২৫ শে নভেম্বর, ২০১৪ দুপুর ২:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ সন্ধ্যায় টিউশনি শেষে ঢু মাড়লাম সাইবারে।কোন কাজ নাই তবু মেইলটা ওপেন করলাম।সেখানে লিখা ডিয়ার সজল, প্লিজ মিট মি অন ফ্রাইডে মর্নিং এট নাইন এ এম।
আমি লিখে জানালাম যে আমি আসব।
যথাসময়ে হাজির হলাম।মূলত বেতনের বিষয় নিয়ে আলাপ হল।শেষ মেষ নির্ধারিত হল বিশ হাজার। আগামী কাল যোগদান করতে বললেন ।অফিসে গেলেই যোগদান পত্রটি দেয়া হবে ।মেজাজটা খুব ফুরফুরা লাগছে।কিন্তু রাস্তায় নেমেই মেজাজটা বিগড়ে গেল। জনতার মুখে কিছুটা আতঙ্ক বিরাজমান। কারণ আগামীকাল হরতাল ,জামায়াতের এক নেতা কামরুজ্জামানের ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আন্তঃ ট্রাইব্যুনাল।সেজন্য জামাত নেতারা ক্ষুদ্ধ হয়ে হরতাল দিয়েছে।। যাক কাল অফিসে-ত যেতেই হবে।
আম্মা আব্বাকে ফোন করে খুশীর খবরটা দিলাম।শায়লার অবদার,‌ প্রথম মাসের বেতন পেয়ে আমাকে একটা ঘড়ি আর একটা জামা দিতে হবে।
আম্মা একথা শুনে বললেন,-খোকা ও বললেই শুনিস না।প্রথম মাসে ঘড়ি কিনা দিস পরের মাসে জামা দিস। তুই বেশী বেশী বই কিনা পড়া লেহা কর।সামনের বি সি এস এস পরীক্ষায় মেজিষটেট হউন লাগব কিন্তু।আমি তরে বই কিননের টেকা দিতে পারি নাই দেইখ্যা গতবার পাশ করত পারস নাই।বাবা এইবার তোর পাশ করনই লাগব।
-আম্মা তুমি বেশী বেশী কইরা দোয়া কইর ,তাইলে ইনশাল্লাহ আমি পারামই।
-বাবা কাইলকা হরতাল,সাবধানে যাইও।পথঘাট ভালা কইরা দেইখা যাইও।
-আম্মা, তুমি চিন্তা কইর না।
আম্মা কত চিন্তা করে আমাকে নিয়ে।তার কাছে মনে হয় সবচেয়ে সেরা চাকরি মানেই ম্যাজিস্ট্রেট হওয়া।বি সি এসে সব ক্যাডারের চাকরিই সম্মানের।এডমিন ক্যাডারের লোকদের দাম্ভিকতা আর অহংকারে ওই চাকরী মোটেও ভাল কিছু মনে হয়না।প্রশাসনিক জটিলতায় তারা লাল ফিতে দিয়ে সরকারী ফাইলকে বন্দি দশায় ফেলে ফায়দা লুটে।কেউ কেউ অমায়িকও হন তবে তাদের সংখ্যা হাতে গুণা।
রাতে শুয়েছি ঠিকই কিন্তু কিছুতেই ঘুম আসছে না।হুমায়ুন আহমেদের ফাউনটেন পেন বইটি চোখের সামনে মেলে ধরলাম।পাতাগুলি উল্টাতে উল্টাতে চোখ গেল বৃষ্টি নেশা ভরা সন্ধ্যা বেলা গল্পটির দিকে। গল্পটি এক নিঃশ্বাসে পড়ে যাচ্ছি কারণ বৃষ্টি আমারও খুব পছন্দের।পড়ে হঠাৎ চোখ পড়ল কোরআন নিয়ে তিনি ব্যাখ্যা দিয়েছেন।তাতে মনে হচ্ছে কোরআনের বাঙলা তরজমা উনি পড়েছেনতবে পুরুটা নয়।তবে প্রশ্ন হল তার ছেলে নিনাদ যে কথাটি বলল যে খোদা আকাশে আছেন।তরজমা অনুযায়ী হ্যাঁ এটাইতো অনেক জায়গায় আছে যে আমাদের আকাশের উপর আরও সাতটি আকাশ বিদ্যমান তার উপর আল্লাহর অবস্থান।এই অনুবাদটি তার চোখে পড়লনা কেন?বাংলাদেশের ক্রিকেটার আর নিনাদ তো ঠিক জায়গায়ই আছে।হতে পারে এটি তার চোখে পড়েনি।তার লেখার একজন মুগ্ধ পাটক আমি।তার মানে তো এটা না যে আমাকে ধরে নিতে হবে তিনি যা লিখেছেন সব ঠিক আছে অথবা তার সব কিছুই বিশ্বাস করতে হবে মন্ত্র মুগ্ধের মত।
অফিস যাওয়ার উত্তেজনায় সারারাত বারবার ঘুম ভেঙেছে, ভোরে ক্ষুধায় পেট চুঁচুঁ করছে। আসলে কি পেট চুঁচুঁ করে ক্ষুধায়?কি জানি। কিন্তু বেশ ক্ষুধা লেগেছে। ঘরে কিচ্ছু নেই যে খাব। ব্যাচেলার লাইফ খাদ্য বিষয়ে সম্পূর্ণ বুয়া নির্ভর। যা রাঁধে তাই খাওয়া। বাড়তি কিছুতো থাকে না ।এক গ্লাস পানি গলধকরন করলাম আর বুয়ার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম।এর মধ্যে আমি রেডি হলাম।কিন্তু বুয়ার খবর নাই।কাল এসে ইনিয়ে বিনিয়ে এমন এক কারণের উল্লেখ করবে।বকার আর ইচ্ছে করবে না।আরে বাবা!কতবার বলেছি না আসলে বলে যেতে যেন তার জন্য অপেক্ষা করতে না হয়।কে শুনে এসব।বাইরে গিয়ে হোটেলে বসে নাস্তার কাজটি সেরে তারপর অফিসে উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়া।
রাস্তায় খুব একটা মানুষজন নেই।আহারে!ঢাকা যদি এমনটিই হত সব সময়কার জন্য। কত শান্তিই না হত তাহলে ।একটু টেনশনও হচ্ছে।নতুন অফিস নতুন জন ।মাস শেষে আমাকে আর ধার দেনা করতে হবে না এটা ভেবেই শান্তি পাচ্ছি।তবে শুনেছি বেসরকারি অফিসে মালিককে তোষামোদ করে টিকে থাকতে।সেই সাথে কাজেরও হিসেব থাকে না।যখন যা হুকুম তাই সামলাতে হয়।তবে কাজ নিয়ে ভাবি না তবে তোষামোদ ?সেটা তো আমার দ্বারা হবার নয়।যাক আগে-তো শুরু করি।তারপর ভাবা যাবে। যতটা দুশ্চিন্তায় ছিলাম তেমনটি ঘটেনি চার পাঁচদিন হয়ে গেল নিজের ডেস্কে বসে কাজ করেই কেটেছে বেশী সময়।তরিকুল স্যারকে বেশ ভাল মানুষই লাগছে।জটিল নয় মোটেও।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে নভেম্বর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:২৯
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাদ্রাসা শিক্ষাকে না বলুন। মাদ্রাসা শিক্ষা বন্ধ করুন।

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪২

শুধু ভারত বিদ্বেষই না।

মাদ্রাসাগুলোতে কোনও ব্যতিক্রম ছাড়াই মোল্লারা ইসলামের দোহাই দিয়ে,

/নিজের দেশ তথা নিজের জন্মভূমি বাংলাদেশের প্রতি বিদ্বেষ করা শেখায়।

/মোল্লারা তাদের মাথায় এই ধারণা খুব অল্প বয়সেই ঢুকিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার নাফসকে আচ্ছা করে টাইট দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭

মানুষের ভিতরে এমন একটি অংশ আছে, যা মানুষকে খারাপ কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে, খারাপ কাজের বুদ্ধি দেয়। ইসলামী পরিভাষায়, আমরা মানুষের এই অংশকে নফস বলি। আপনি খারাপ কাজ থেকে দূরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×