২০০৪ সালের কথা । পরীক্ষার ১ দিন আগে শুনতে পেলাম ম্যাথ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাস হয়েছে। এক ফ্রেন্ড কে ১০০ টাকা দিলে প্রশ্ন দিবে। এক টাকা ও নেই কাছে। বাপের ভরা মাটির ব্যাংক এ হামলা চালিয়ে কোন রকম ৪৫ টাকা বের হল। অতঃপর ব্যাংকটা হাত থেকে পড়ে অক্কা পেতেই দূতের বেশে ঘরে মায়ের আগমন। তারপর যা হয়েছিল তা এক ইতিহাস...
...
পরে ৬০ টাকা দিয়ে প্রশ্ন কিনলাম। সব প্রশ্নের উত্তর সহ প্রশ্ন মুখস্থ। প্রশ্ন দেওয়ার সময় স্যার বললেন, “গতবছরের প্রশ্নে ২০০৩ এর জায়গায় ভুল করে ২০০৪ লিখা হয়েছিল, এবারের টা ঠিকই আছে। প্রশ্ন হাতে পেয়েই সব অন্ধকার। বুঝলাম কাহিনীটা কি হয়েছে।... পরীক্ষা হল থেকে বের হয়ে ফাষ্ট হওয়ার স্বপ্নে বিভোর ছেলেটির একটাই ফিলিংস; “ইস প্রশ্ন যদি না কিনতাম তাহলে আজ অন্তত জীবনের প্রথম ফেল মারতাম না।... আর আগের দিনের মায়ের হাতের “ইতিহাস” টা ঘটত না ... তারপর থেকে আর কোনদিন প্রশ্ন কেনার চিন্তা তো দূরের কথা, ওর নাম ও নেই নি...
--
...শুনলাম আজ ম্যাথ ২য় পত্র নাকি চেঞ্জ করে দেওয়া হয়েছে। ফেসবুকে ও হায়-হতাশার স্ট্যাটাস দেখলাম অনেক ।... যদি এই কাজটা আরো আগে করা হত, তাহলে আজ যে ছেলেমেয়ে বাশ খেল, তারা অবশ্যই অন্য পরীক্ষার প্রশ্ন নিতে ভয় করত।... প্রশ্ন নিলে ও অন্তত বইয়ের বাকি প্রশ্নগুলোতে ও একবার চোখ বুলাতো। আজকেরপর এই ছেলেমেয়েরা এর পরের যেকোন পরীক্ষার প্রশ্ন নেওয়ার আগে অন্তত একবার হলে ও ভাববে, কারন একবার বেলতলায় গিয়ে তারা ধরা খাইছে।
--
কিন্তু আমাদের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী এই প্রশ্ন চেঞ্জ আগে করেন নি। তিনি জানেন, আমরা বাংলাদেশীরা হলাম “ভোলাটাইল” টাইপের। আগের সব ভুলে সবশেষে কি ঘটল এটা নিয়েই আমরা মেতে থাকি। তিনি এটা ও জানেন, আজকের প্রশ্ন চেঞ্জের ফলে আমরা আগের প্রশ্নফাস নিয়ে বেশি মাথা ঘামাবো না। এতে “এ+” এর হার ও বাড়লো, শিক্ষামন্ত্রী ও প্রশ্ন চেঞ্জ করে “দুধে ধোয়া সাধু” হয়ে গেলেন... দুই পক্ষই খুশি... তাহলে আর সমস্যা কোথায়? সব তো ভালই চলছে...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


