কে না চায়? সবাই চায়, নায়ক হতে। তাই আমার সে চাওয়ায় কোন দোষ আছে বলে আমি মনে করি না। কিন্তু দোষ তখনি যখন নায়ক হতে গিয়ে খলনায়ক হয়ে যাই।
সিনেমায় নায়কের এ্যকশন দেখে বাসায় প্র্যাকটিস করতে গিয়ে নিরীহ ছোট ভাইয়ের নাক ফাটিয়ে রক্ত বের করে নায়োকচিত চেহারায় বাহবা পাওয়ার আশা করছি তখন তার চিৎকারে ছুটে আসা মায়ের হাতে ঠ্যাঙ্গানি খেয়েও নায়ক হওয়ার সাধ বিন্দুমাত্র কমেনি।
নায়কেরা সব পারে। তারা কোথাও ব্যর্থ হয় না। এটা আমার দৃঢ় বিশ্বাস। তাই আমার ভিতর একটা সবজান্তার ভাব সবসময় থাকত। স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় সকল ইভেন্টে নায়ক হওয়ার খায়েস ছিল প্রবল। দৌড় প্রতিযোগিতায় আমাকে কেউ হারাতে পারবে না এমন একটা ভাব আমার ভিতরে ছিল।
কারন আমার একমাত্র প্রতিযোগী দৌড় প্রতিযোগী বাবা বাঁশের কঞ্চি হাতে নিয়ে দৌড়ে আমাকে কখনো ধরতে পারতে না। তাই দৌড় নিয়ে বন্ধুরের কাছে গল্প করাটা বাড়াবাড়ি মনে হয়নি।
কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।
বাঁশি বাজার কিয়ৎক্ষন পরেই নিজেকে আবিষ্কার করলাম ভূমিতলে। মাথা তুলে দেখি ততক্ষনে অন্যরা মাঠের অর্ধেকটা পেরিয়ে গেছে।
করলাম হাই জাম্পে অংশগ্রহন। জাম্প দিয়ে ভাবলাম দড়ি আমার গা স্পর্শ করেনি। যাক এখানে অন্তত পাশ করেছি। আনন্দে চোখটা চক চক করে উঠল। কিন্তু যখন শুনলাম, লাফিয়ে দড়ির উপর দিয়ে না গিয়ে দড়ির নিচ দিয়ে পেরিয়ে(পালিয়ে) এসেছি তখন সত্যি চোখের কোনাটা চিক চিক করে উঠেছিল।
যদিও আমার নায়কত্ব প্রমান করতে পারিনি তবুও তো আমি আমার জীবনের নায়ক। খেয়াল করলাম, নায়ক যেহেতু আছে, নায়িকাতো লাগবে? নায়িকা ছাড়া নায়ক, বড্ড বেমানান।
তবে নায়িকার দেখা পেতে বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয়নি।
একদিন কুকুরের দাবড়ানি খেয়ে রাস্তার পাশে এক বাসায় নিরাপত্তার জন্য ঢুকে দেখি নায়িকা স্বয়ং। হাসছে খিলখিল করে।
সিনেমায় দেখেছি নায়ক যখন জয়ী হয় তখন নায়িকার মুখে হাসি শোভা পায়। আমি তো জয়ী। কারন কুকুর আমাকে ধরতে পারেনি। মনটা আনন্দে ভরে গেল। যাক সঠিক নিশানায় নায়ক হতে পেরেছি।
তাই একটু ধাতস্ত হওয়ার চেষ্টায় নিজেকে দেখতে গিয়ে দেখি পরনে শুধু আন্ডার ওয়ার।
আরে! পরনের প্যান্ট গেল কই??
আচানক কান্ড!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

