গ্রামটির নাম ছিল শান্তিপুর। এর লোকেরা শান্তিপ্রিয় ও পরিশ্রমী ছিল। তারা তাদের ছোট ছোট জমিতে চাষাবাদ করে এবং মাছ ধরে জীবনযাপন করত। গ্রামের মানুষদের মধ্যে বন্ধুত্ব এবং ভ্রাতৃত্ব ছিল দৃঢ়। তারা সুখে-দুঃখে একে অপরের পাশে দাঁড়াত।
কিন্তু একদিন গ্রামের উত্তর প্রান্তে থাকা পাহাড় থেকে একদল দস্যু এসে গ্রামের মানুষদের উপর অত্যাচার শুরু করে। তারা গ্রামের জমি দখল করতে চেয়েছিল এবং গ্রামের মানুষদের ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের সম্পদ লুট করত। গ্রামের মানুষরা তাদের এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে কিছু করতে সাহস পেত না।
গ্রামের একজন সাহসী যুবক, অরুণ, এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কিছু করার সিদ্ধান্ত নিল। সে জানত একা কিছু করা সম্ভব নয়, তাই সে গ্রামের সব মানুষের সাথে পরামর্শ করে এবং তাদের সাহস যোগাতে শুরু করল। অরুণ গ্রামের প্রাচীন জ্ঞানী মানুষের পরামর্শ নিয়ে একটি পরিকল্পনা তৈরি করল। তার সাথে গ্রামের অন্য যুবকেরাও যোগ দিল। তারা রাতে গোপনে মিটিং করে কীভাবে দস্যুদের প্রতিহত করা যায় তার কৌশল নিয়ে আলোচনা করত।
গ্রামের প্রতিটি মানুষকে তাদের নিজেদের দায়িত্ব দেওয়া হল। কেউ পাহারা দেবে, কেউ খাবার সরবরাহ করবে, কেউ তথ্য সংগ্রহ করবে। গ্রামের মহিলারাও পিছিয়ে রইল না। তারা ওষুধ এবং প্রাথমিক চিকিৎসার দায়িত্ব নিল।
একদিন, দস্যুরা যখন গ্রামে আক্রমণ করল, গ্রামের সব মানুষ একসাথে তাদের প্রতিহত করল। দস্যুরা এই একতা এবং প্রতিরোধের জন্য প্রস্তুত ছিল না এবং অবশেষে পিছু হটতে বাধ্য হল।
গ্রামবাসীরা তাদের একতা এবং সাহসের জন্য জয় লাভ করল। দস্যুরা আর কখনও তাদের গ্রামে আক্রমণ করার সাহস পায়নি। গ্রামের মানুষরা বুঝতে পারল যে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক হয়ে লড়াই করলে যেকোনো বিপদকে প্রতিহত করা সম্ভব।
শান্তিপুরের এই বিজয়ের গল্প আশেপাশের গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে পড়ল। অন্যান্য গ্রামবাসীরাও অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য সাহস পেতে শুরু করল এবং তাদের নিজেদের গ্রাম রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে উঠল।
--এই গল্পের মাধ্যমে আমরা দেখতে পাই যে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হয়। প্রতিটি মানুষের দায়িত্ব ও ভূমিকা রয়েছে এবং একসাথে কাজ করলেই কেবল সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুলাই, ২০২৪ সকাল ৭:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


