একটি গভীর অরণ্যে একদিন এক অদ্ভুত প্রাণীর আগমন ঘটে। গ্রামের মানুষরা তাকে ডাকতো "রক্তখেকো জানোয়ার" নামে। তার সম্পর্কে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়েছিল, কেউ বলতো সে রাতে বের হয়, কেউ বলতো সে দিনের আলোতেও ভয়ংকর।
এই রক্তখেকো জানোয়ার ছিল সত্যিই ভয়ংকর। তার চোখ ছিল আগুনের মতো লাল, তার নখ ছিল ধারালো এবং দীর্ঘ, এবং তার দাঁত ছিল ভয়ংকর বড়। তার সম্পর্কে মানুষের ভয় ছিল এতটাই যে, সূর্যাস্তের পর কেউ ঘর থেকে বের হতো না।
একদিন গ্রামের ছোট্ট ছেলে আরিফ ঠিক করলো সে এই রহস্যময় জানোয়ারের সত্তা জানবে। সে রাতের অন্ধকারে সাহস করে অরণ্যে প্রবেশ করল। অন্ধকারে কিছুদূর হেঁটে সে একটা বড় গাছের নিচে ছায়াময় কোনো কিছুর অস্তিত্ব টের পেল।
আরিফ তার ভেতর সাহস জুগিয়ে কাছে গিয়ে দেখল, রক্তখেকো জানোয়ার আসলে কোনো দৈত্য বা দানব নয়, বরং একটি আহত বাঘিনী। তার শরীরে গভীর ক্ষত ছিল, যা থেকে রক্ত ঝরছিল। আরিফ বুঝতে পারলো, জানোয়ারটি মানুষের আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে বাধ্য হয়েছে।
আরিফ সেই বাঘিনীকে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নিলো। সে গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠদের জানালো এবং তারা সবাই মিলে বাঘিনীকে চিকিৎসা করালো। ধীরে ধীরে বাঘিনীর ক্ষত সুস্থ হতে লাগলো।
গ্রামের মানুষরা বুঝতে পারলো, ভয় ও গুজবের কারণে তারা একটি অসহায় প্রাণীর প্রতি অন্যায় আচরণ করছিল।
এরপর থেকে, রক্তখেকো জানোয়ার আর কোনো আতঙ্কের প্রতীক থাকলো না। বরং, সে গ্রামের মানুষের বন্ধু হয়ে উঠলো। এই গল্প শিখালো, সবসময় গুজব বা ভয়কে সত্যি মনে করা উচিত নয়, বরং সাহস করে সত্য জানার চেষ্টা করতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জুলাই, ২০২৪ বিকাল ৫:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



