somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আসুন সবাই মন্তব্য করুন, নিজের অনুভূতি জানান!

২৮ শে জুলাই, ২০২৪ রাত ৮:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
গল্প আমি লিখতে পারি না, তবে চেষ্টা করছি। ভুল-ত্রুটি হলে ধরিয়ে দেবেন।



এক মধ্যবিত্ত কৃষক অনেকগুলো ভেড়া পুষত। গল্পের সুবিধার্থে তার নাম দিলাম ডোডো। সারাদিন সে ভেড়াগুলো বিভিন্ন স্থানে চরিয়ে বেড়াতো আর তার এ কাজে সহায়তা করত তার অনেকগুলো পোষা কুকুর। কুকুরগুলি বিভিন্ন প্রজাতির, জার্মান শেফার্ড, ডোবারম্যান, বুলডগ, সাথে স্থানীয় প্রজাতির কিছু নেড়িকুত্তা। তো সারাদিন ভেড়া চরানোর সময় কুকুরগুলির কাজ ছিল ভেড়াগুলো যাতে দলছুট হয়ে না যায়, বা কোন নেকড়ে অথবা শেয়াল ভেড়াগুলোর কোন ক্ষতি না করতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখা। আবার ডোডো যখন ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ত তখনও কুকুরগুলি তাদের দায়িত্ব ঠিকঠাক মত পালন করতো। এভাবেই দিন চলছিল, ডোডো কুকুরগুলির সাহায্যে সারাদিন ভেড়া চরিয়ে সন্ধায় ঘরে ফিরে আসত। তখন কুকুরগুলি প্রতিটি ভেড়াকে তাদের থাকবার স্থান বা খামারে ঢোকাতে সাহায্য করত। আর সব শেষে সারারাত ডোডোর ফার্ম ও বাড়ি পাহারা দিত। বিনিময়ে কুকুরগুলি ডোডোর কাছ থেকে পেত পর্যাপ্ত মাংশ বা যথেষ্ট খাবার। আর এই খাবারের লোভেই কিছু নেড়ি কুত্তাও সেই পাহারাদার কুকুরের দলে ভিড়ে যায়।

এভাবে ডোডোর দিন কাটতে থাকে। পরিবার পরিজন্ নিয়ে সে অনেক সুখী, তার ঘরে পর্যাপ্ত খাবার যথেষ্ট টাকা-পয়সা রয়েছে। উপরন্তু রয়েছে বেশ কিছু জমিও, তাই তার মন সবসময় অনেক ফুর্তিতে থাকত, তার যখন যা ইচ্ছে হতো সে তাই করতো। তার ইচ্ছেগুলোর মধ্যে ছিল আশে-পাশের নিম্নবিত্ত বা স্বল্প আয়ের লোকদের খাবার দেয়া, তাদের বিপদে-আপদে পাশে থাকা ইত্যাদি। তার এই ধরণের কাজগুলো আবার তার স্ত্রী এবং কিছু প্রতিবেশী ভালোচোখে দেখতে পারতো না। তারা সবাই সচেষ্ট থাকতো কিভাবে ডোডোকে বিপদে ফেলা যায় বা তাকে বোকা বানিয়ে তার অর্থ সম্পদে ভাগ বসানো যায়। ডোডো এসব বুঝতে পারত, কিন্তু সে না বোঝার ভান করে বার বার তাদের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে নিজের আর্থিক ক্ষতি করত। কারণ সে ছিল, নির্বিবাদী বা কিছুটা ভীতু প্রকৃতির। আর অনেক সময় তার প্রতিবেশীরা তার সাথে অনেক খারাপ আচরণ করতো, তারা তাকে দিয়ে যা ইচ্ছে তাই করিয়ে নিত, তাকে কোন কথা বলতে দিত না বা প্রতিবাদ করতে দিত না। অবশ্য ডোডোরও কোন ইচ্ছে ছিল না এ সব বিষয়ে নাক গলানোর, সে তার নিজের কাজ নিয়েই সারাদিন ব্যস্ত থাকতো।

এভাবে দিন পার হয়ে যাচ্ছিল কিন্তু কিছুতেই তার প্রতিবেশীরা তাকে হারাতে না পেরে এক ভয়ংকর চক্রান্ত শুরু করল। তারা ডোডোর কুকুরগুলির দিকে নজর দিল। যদিও সেগুলো প্রভুভক্ত ছিল, কিন্তু তারপরেও তারা প্রতিবেশীদের চাতুরতায় জড়িয়ে পড়ল, বেশি বেশি খাবারের লোভে প্রতিবেশিদের শেখানো হিংস্রতা দেখাত ডোডোর ভেড়ার পালগুলির উপর।

এক পর্যায়ে তাদের এই হিংস্রতা কেবল ভেড়ার পালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, তা ছড়িয়ে পড়ে ডোডোর ছেলে-মেয়েদের উপরেও। তার ছোট-বড় বেশি কিছু বাচ্চা-কাচ্চা ছিল, সাথে ছিল অনাথ বা দরিদ্র বাচ্চারা, ডোডো যাদের সবাইকে নিজের বাচ্চাদের মতোই মনে করত। একদিন প্রতিবেশিদের শেখানো হিংস্রতা প্রয়োগ করল তাদের এতদিনের ভরণ-পোষন দেওয়া মালিকের বাচ্চাদের উপরেই। বেশ কয়েটি বাচ্চা কুকুরের কামড়ে মারাত্ম আহত হয় কয়েকজন মারাও গেল।

ডোডো কেবল নিশ্চুপ হয়ে ভাবতে লাগল হায়রে যে কুত্তাগুলোকে আমি এতদিন ধরে খাবার-দাবার, আশ্রয় দিয়ে লালন-পালন করে আসছি তারাই কিনা আমার বাচ্চাদের উপর হামলে পড়ল, তাদের আঁচড়িয়ে কামড়িয়ে আহত ও নিহত করল। কিন্তু তার স্ত্রী ও প্রতিবেশী সবাই তাকে এই কথা বলে যে, বাচ্চাগুলো অনেক দুষ্ট প্রকৃতির ছিল, যাক ভালোই হল, তারা সব-সময় আমাদের নিকট খাবার-দাবার চেয়ে বিরক্ত করত, আর তাই কুকুরগুলো তাদের মত দুষ্টদের হত্যা করেছে। আর আমরা যা বলছি, সেটাই তুমি মেনে নেবে। নইলে......

ছবি : Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জুলাই, ২০২৪ রাত ৮:০৩
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ মুজিব হল → ওসমান হাদি হল: নতুন বাংলাদেশের শুরু ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:২৩


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হল ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে দেশের শিক্ষাঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে ডাকসু নেতারা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট নাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাত কোটি বাঙালির হে মুগ্ধ জননী রেখেছো বাঙালি করে মানুষ করনি‼️রবিন্দ্র নাথ সঠিক ছিলেন বঙ্গবন্ধু ভুল ছিলেন। বাঙালি আজও অমানুষ!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:১৩


১০ই জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশের জনগন সহ সমগ্র বিশ্বের প্রতি যে নির্দেশনা। তা এই ভাষণে প্রতিটি ছত্রে ছত্রে রচিত করেছিলেন। ৭ই মার্চের চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ ছিলো ভাষণের নির্দেশনাগুলো! কি অবলীলায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

জন্মের শুভেচ্ছা হে রিদ্ধী প্রিয়া

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:০১



জন্মের শুভেচ্ছা নিও হাজার ফুলের
শৌরভে হে রিদ্ধী প্রিয়া, তোমার সময়
কাটুক আনন্দে চির।স্মৃতির সঞ্চয়
তোমার নিখাঁদ থাক সারাটা জীবন।
শোভাতে বিমুগ্ধ আমি তোমার চুলের
যখন ওগুলো দোলে চিত্তাকর্ষ হয়
তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মা জননী

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৯


তুমি আপসহীন বলে ঘুমিয়ে গেলে
শহীদ জিয়ার পাশে অশ্রুসিক্ত শুধু
বাংলার মাটিতে ধানের শীষে শীষে
তোমার নামের ধ্বনিতে গান গায়ব
আমরা শুনোবো যে দোয়েলের ঠোঁটে
তুমি চিরামলিন তোমার কর্ম আদর্শে
আমরা জাগবো লাল সবুজ পতাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

=হাঁটি, আমি হাঁটি রোজ সকালে-মনের আনন্দে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭

রোজ সকালে খুব হাঁটার অভ্যাস আমার, সকালটা আমার জন্য আল্লাহর দেয়া অনন্য নিয়ামত। হাঁটা এমন অভ্যাস হয়েছে যে, না হাঁটলে মনে হয় -কী যেন করি নাই, কী যেন হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×