somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

১০ বার নয়, ১০০বার নয়, মাত্র ১বার বলুন/করুন...

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


১০ বার নয়, ১০০বার নয়, মাত্র ১বার বলুন/করুন...
৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ৩টায়
শেয়ার করুন:

সামুর অন্য একটি ব্লগে শিরোনামের বিষয়টি নিয়ে একটু আলাপ করেছিলম নাজনীন আপুর একটি মন্তব্যের উত্তরে। আজ আর একটু বাড়িয়ে লিখতে চাইছি...


আমার এই লেখা শিশুদের জন্য কিন্তু বড়রা পড়বে ও মানবে। আমাদের অনেকের ঘরে বিভিন্ন বয়সের শিশু আছে। ওদেরকে আমরা অবশ্যই অনেক ভালোবাসি। প্রানের চেয়েও বেশি! কিন্তু আমরা বড়রা শিশুদের সাথে অনেক অন্যায় আচরণও করি। আর হয়তো কোন কোন আচরণ একটি শিশুর জন্য মারত্নক ক্ষতিকরও হয়ে থাকতে পারে। আমরা অবশ্যই জেনে বুঝে করিনা। আমাদের জ্ঞানের অভাবেই এটি করি। (শিশুদেরকে নিয়ে আমার আগেও একটি লেখা ছিলো। সেটি এটি: শিশুর সাথে কখনই এই কাজটি করবেন না...)

যাই হোক, এবার আমি যেটা বলতে চাইছিলাম যে, আমরা বড়রা অনেকেই মনে করি শিশুর শিক্ষা স্কুল থেকে শুরু হবে। তার আগে শুধুই হেসে খেলে বড় হওয়াই ভালো। অবশ্য কেউ কেউ আর একদম উল্টাটা করি। শিশুকে একদম খেলার সময় না দিয়ে, জগতের নানা জ্ঞানে জ্ঞানী করতে থাকি। আমরা অনেকেই শিশুকে অধিকাংশ সময় এইভাবে শেখাই:

- সুনাতা, আন্টিকে সালাম দাও। বল, আসসালামু আলাইকুম।

আবার বিদায় দেবার সময় হয়তো বলি:
- সুনাতা, আন্টিকে আবার আসতে বলে দাও।

ইত্যাদি ইত্যাদি (আমি খুবই ছোট্ট একটা উদাহরণ দিলাম।)

আমরা অনেকেই এই পদ্ধতিতে বাচ্চাকে শেখাবার চেষ্টা করি কিন্তু নিজেরা অনেকেই পালন করিনা। মানে নিজেরাই সালাম দেইনা কিন্তু বাচ্চাকে দিতে বলি, নিজেরাই অনেক ডিসিপ্লীন মেনে কাজ করিনা কিন্তু বাচ্চাকে করতে বলি।

অথচ, বাচ্চাকে ভালো কিছু শেখাবার জন্য ১০ বার নয় ১০০ বার নয় মাত্র ১বার একটি ভালো কাজ ওর সামনে করলেই হয়। ব্যাস! সত্যিই বলছি, প্রয়োজনে আপনি সকল ভালো কাজগুলি আপনার বাচ্চাকে দেখিয়ে দেখিয়ে করুন, কাজটি করার সময় তাকে দেখার সুযোগ করে দিন, কাজটি করার সময় সে প্রশ্ন করে বিরক্ত করবে (কারন সব কিছুই তার অজানা ও প্রচন্ড আগ্রহ) তার সকল প্রশ্নের উত্তর দিন। যদি দেখেন সে আপনার ভালো কাজটির প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছে তবে এই সুযোগে বাড়তি কথা বলুন তার সাথে কাজটি নিয়ে। কাজটি সম্পর্কে কিছু তথ্য দিত তাকে। সে মনে রাখতে পারবে কি পারবে না প্রতিটি কথা বুঝতে পারছে কি পারছেনা এতো গভীর চিন্তা না করলেও হবে। যাষ্ট একবার করুন তার সামনে। একই ভাবে ভালো ভালো আচরণ তার সামনে করুন। (একই ভাবে আপনার খারাপ স্বভাব বা যা দেখলে শিশু বিভ্রান্ত হতে পারে তা তার সামনে করবেন না।)

অফিস যাবার সময় কিছু পিতাকে বলতে শুনেছি যারা তার পুত্র/কন্যা সন্তানকে বলছে, "আম্মুকে বিরক্ত করবে না, আম্মুর কথা শুনবে, তোমরা তোমার আম্মুক ঘরের কাছে হেল্প করবে।" ইত্যাদি ধরনের। কিন্তু দেখা যায়, এই পিতাগুলির অনেকেই তার সেই স্ত্রীকে ঘরের কাজে সাহায্য করেনা না। অথচ একজন স্বামী যদি তার স্ত্রীকে ঘরের কাজে সাহায্য করেন তবে তার সন্তান সেটি অবশ্যই দেখবে এবং শিখবে যে সেটাই করা উচিত। শিশুটিকে আলাদা করে বলার দরকার নেই। শিশুর ভেতর শিশু সুলভ অনেক আচরণতো থাকবেই। না শুনবার প্রবনতাও থাকবে। কিন্তু তারপরও শিশুকে ভালোকিছু শেখানো কঠিন কাজ নয় বরং একটু ধৈর্যের কাজ। আমরা নিজেরা পালন করার মাধ্যম্যে শিশুকে সহজে শেখাতে পারি।

বড় লেখা অনেকেই পড়েন না, তাই বড় করছিনা। আশা করি অনেকে বুঝতে পেরেছেন আমার বক্তব্য।
নজরুল ইসলাম
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:৪৫
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×