আজকাল দেশ থেকে কোন রিং আসলেই খুব ভয় কাজ করে আমার মধ্যে,তবুও ফোনটা ভয়ে ভয়ে রিসিভ করলাম..
- হ্যলো? কে?
-- নীল, আমি আজাদ
-কিরে,কেমন আছিস,কোন সমস্যা?
-- মোহনার অবস্থা খুব খারাপ,তাকে এই মাত্র হাসপাতালে ভর্তি করেছি,বার বার তোর কথা বলছে,তোকে দেখতে চাচ্ছে।তুই একটু আয়না দোস,আমি আর পারছিনা,
-শোন এত অস্থির হোসনে,ডাক্তার কি বললো?
--তেমন কিছুনা,তুইতো জানিস সব,আর কি বলার আছে বল?
-হুম জানি,আমি আসবোনা,আমার পক্ষে সম্ভবনা মোহনার সামনে যাওয়া,যা ইচ্ছে কর তুই,পারলে তুইও মর,আমাকে ফোন দিবিনা খবরদার,কেমন ভালোবাসলি মোহনাকে তুই,ভালোবাসলে কিভাবে মানুষ মরে,কার ক্ষমতা আছে ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে যাওয়ার,বিধাতা এত বেরহম নয়,নির্ঘাৎ তোর ভালোবাসায় ভন্ডামী ছিলো।যা ফোন কাট, যা ইচ্ছে তা হোক.....
-- নীল তুইও??????
-আমি কি?ঐ গাধার বাচ্ছা গাধা আমি কি ? বল আমি কি?
-- নীল পারলে একটু আয়,আমি একা একা আর পারছিনা।এই মুহুর্তে তোকে খুব দরকার নীল,তুই ছাড়া আমি অসহায় দোস প্লিজ একদিনের জন্য হলেও আয় দোস ।
-আমি দেখি,পরে জানাবো।মোহনা কি করছে এখন,তুই কোথায়?
--আমি বারান্দায়,ওর মা বাবা দুজনি আছে,কিছু বলছেনা, অপলক তাকিয়ে থাকে শুধু যেই সামনে আসে তার দিকে।তুই একটু কথা বলবি?ফোনটা দেব?
-কথা বলতে পারবে? পারলে দে..
-- হুম পারে কিন্তু একটু বলার পর হাপিয়ে উঠে,তোর কথা শুনলে সে কথা বলবে,।
- আচ্ছা দে ফোনটা।
২।--- নীল তুই কিভাবে গেলি আমাকে ফেলে,তুই এত কঠিন হলি কবেরে?
(মোহনার থেমে থেমে টেনে বলা কথা গুলো আমার কানে যেতেই আমি কেমন যেন হয়ে গেলাম,হুহু করে উঠলো বুকের ভিতরটা,চোখের সামনে বেড়ে উঠা একটা মানুষ আবার চোখের সামনেই ঝরে পড়ে যাওয়া দেখবো জীবনে ভাবিনি।
মোহনা আমার নিকটাত্মীয় হলেও বন্ধুর মত চলেছি দুজন,আমি তার বয়সে কিছুটা বড় হলেও আলোচনার টেবিলে কখনো কোন বিষয় আমাদের বিরোধ হতোনা,যে কোন বিষয়ে আমরা শেষ ঐক্যমতে পৌছেই আলোচনা শেষ করতাম।
একদিন বই মেলায় মোহনাকে সাথে নিয়ে গেলাম,সেখানে দেখা হলো আজাদের সাথে। আজাদ আমার খুব প্রিয় একটা বন্ধু,এই ছেলেটার একটা মারাত্মক গুন হলো তাকে আমি রাগাতে পারিনা,যত শক্ত করেই বলিনা কেন সে বড়জোর একটা আঘাতের মুচকি হাসি দিয়ে উড়িয়ে দেয়ার চরম শক্তি আজাদের আছে।এমন অনেক গুনে গুনাণ্বিত এই মানুষটা আমার খুব আপন মানুষে পরিণত হয়েছে দিনে দিন.।
মোহনা শাড়ি পড়তে খুব ভালোবাসে,একটা গাড় নীলের শাড়ি পড়েছিলো সেদিন,পাশ দিয়ে হেটে গেলে যে কোন ছেলের ঘাড় ফিরে তাকাতে ইচ্ছে করবে।আজাদ সাধারণত মেয়েদের নিয়ে তেমন কোন উৎসাহ দেখায়না,পাশ দিয়ে মেয়ে গেলো নাকি মেষ গেল তার কোন মাথা ব্যথা দেখিনি আমি কোনদিন,বরং কোন অপরিচিত মেয়ে দেখলে তাকে মেয়ে হয়ে যাবার দৃশ্যে হেসেছি অনেকদিন।
সেই আজাদ যখন আমার দিকে ইষৎ ঝুকে কানের কাছে মুখে এনে ফিস ফিস করে বলে উঠলো -দোস কেরে মেয়েটা।বললাম আমার কাজিন।কথাটা শুনে নিরাশ হলো নাকি খুশি হলো ঠিক বুঝতে পারিনি,ছেলেটা নিজেকে আড়াল করতে পারে ভালৈ,প্রায় তাকে আমি বুঝতে পারিনা,আমাকে আবারও প্রশ্ন করে জানতে হয়,।আজাদের প্রকাশ ভঙ্গিমাটা খুবই খারাপ,ফিল করে এক আর বুঝায় আরেক।কাউকে ভালোবাসলে মনে হবে তার প্রতি উদাসিন,আর ঘৃণা করলে মনে হবে পুর্ব জনম থেকে প্রেম করছে তার সাথে,এই হলো আজাদ।
বই মেলা থেকে কিছুটা দুরে সরে এসে দোয়েল চত্তরের পাশেই রাস্তার পাশে বসে পড়লাম তিনজন।এমন পরিবেশে বাদাম না খেলে আমি নিজেকে আবিষ্কার করতে পারিনা যে আমি ঠিক কি করছি আর কোথায় আছি.....
(চলবে)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




