somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মোহনা

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ সকাল ৮:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজকাল দেশ থেকে কোন রিং আসলেই খুব ভয় কাজ করে আমার মধ্যে,তবুও ফোনটা ভয়ে ভয়ে রিসিভ করলাম..

- হ্যলো? কে?
-- নীল, আমি আজাদ
-কিরে,কেমন আছিস,কোন সমস্যা?
-- মোহনার অবস্থা খুব খারাপ,তাকে এই মাত্র হাসপাতালে ভর্তি করেছি,বার বার তোর কথা বলছে,তোকে দেখতে চাচ্ছে।তুই একটু আয়না দোস,আমি আর পারছিনা,
-শোন এত অস্থির হোসনে,ডাক্তার কি বললো?
--তেমন কিছুনা,তুইতো জানিস সব,আর কি বলার আছে বল?
-হুম জানি,আমি আসবোনা,আমার পক্ষে সম্ভবনা মোহনার সামনে যাওয়া,যা ইচ্ছে কর তুই,পারলে তুইও মর,আমাকে ফোন দিবিনা খবরদার,কেমন ভালোবাসলি মোহনাকে তুই,ভালোবাসলে কিভাবে মানুষ মরে,কার ক্ষমতা আছে ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে যাওয়ার,বিধাতা এত বেরহম নয়,নির্ঘাৎ তোর ভালোবাসায় ভন্ডামী ছিলো।যা ফোন কাট, যা ইচ্ছে তা হোক.....

-- নীল তুইও??????
-আমি কি?ঐ গাধার বাচ্ছা গাধা আমি কি ? বল আমি কি?
-- নীল পারলে একটু আয়,আমি একা একা আর পারছিনা।এই মুহুর্তে তোকে খুব দরকার নীল,তুই ছাড়া আমি অসহায় দোস প্লিজ একদিনের জন্য হলেও আয় দোস ।
-আমি দেখি,পরে জানাবো।মোহনা কি করছে এখন,তুই কোথায়?
--আমি বারান্দায়,ওর মা বাবা দুজনি আছে,কিছু বলছেনা, অপলক তাকিয়ে থাকে শুধু যেই সামনে আসে তার দিকে।তুই একটু কথা বলবি?ফোনটা দেব?
-কথা বলতে পারবে? পারলে দে..
-- হুম পারে কিন্তু একটু বলার পর হাপিয়ে উঠে,তোর কথা শুনলে সে কথা বলবে,।
- আচ্ছা দে ফোনটা।

২।--- নীল তুই কিভাবে গেলি আমাকে ফেলে,তুই এত কঠিন হলি কবেরে?

(মোহনার থেমে থেমে টেনে বলা কথা গুলো আমার কানে যেতেই আমি কেমন যেন হয়ে গেলাম,হুহু করে উঠলো বুকের ভিতরটা,চোখের সামনে বেড়ে উঠা একটা মানুষ আবার চোখের সামনেই ঝরে পড়ে যাওয়া দেখবো জীবনে ভাবিনি।
মোহনা আমার নিকটাত্মীয় হলেও বন্ধুর মত চলেছি দুজন,আমি তার বয়সে কিছুটা বড় হলেও আলোচনার টেবিলে কখনো কোন বিষয় আমাদের বিরোধ হতোনা,যে কোন বিষয়ে আমরা শেষ ঐক্যমতে পৌছেই আলোচনা শেষ করতাম।
একদিন বই মেলায় মোহনাকে সাথে নিয়ে গেলাম,সেখানে দেখা হলো আজাদের সাথে। আজাদ আমার খুব প্রিয় একটা বন্ধু,এই ছেলেটার একটা মারাত্মক গুন হলো তাকে আমি রাগাতে পারিনা,যত শক্ত করেই বলিনা কেন সে বড়জোর একটা আঘাতের মুচকি হাসি দিয়ে উড়িয়ে দেয়ার চরম শক্তি আজাদের আছে।এমন অনেক গুনে গুনাণ্বিত এই মানুষটা আমার খুব আপন মানুষে পরিণত হয়েছে দিনে দিন.।

মোহনা শাড়ি পড়তে খুব ভালোবাসে,একটা গাড় নীলের শাড়ি পড়েছিলো সেদিন,পাশ দিয়ে হেটে গেলে যে কোন ছেলের ঘাড় ফিরে তাকাতে ইচ্ছে করবে।আজাদ সাধারণত মেয়েদের নিয়ে তেমন কোন উৎসাহ দেখায়না,পাশ দিয়ে মেয়ে গেলো নাকি মেষ গেল তার কোন মাথা ব্যথা দেখিনি আমি কোনদিন,বরং কোন অপরিচিত মেয়ে দেখলে তাকে মেয়ে হয়ে যাবার দৃশ্যে হেসেছি অনেকদিন।
সেই আজাদ যখন আমার দিকে ইষৎ ঝুকে কানের কাছে মুখে এনে ফিস ফিস করে বলে উঠলো -দোস কেরে মেয়েটা।বললাম আমার কাজিন।কথাটা শুনে নিরাশ হলো নাকি খুশি হলো ঠিক বুঝতে পারিনি,ছেলেটা নিজেকে আড়াল করতে পারে ভালৈ,প্রায় তাকে আমি বুঝতে পারিনা,আমাকে আবারও প্রশ্ন করে জানতে হয়,।আজাদের প্রকাশ ভঙ্গিমাটা খুবই খারাপ,ফিল করে এক আর বুঝায় আরেক।কাউকে ভালোবাসলে মনে হবে তার প্রতি উদাসিন,আর ঘৃণা করলে মনে হবে পুর্ব জনম থেকে প্রেম করছে তার সাথে,এই হলো আজাদ।
বই মেলা থেকে কিছুটা দুরে সরে এসে দোয়েল চত্তরের পাশেই রাস্তার পাশে বসে পড়লাম তিনজন।এমন পরিবেশে বাদাম না খেলে আমি নিজেকে আবিষ্কার করতে পারিনা যে আমি ঠিক কি করছি আর কোথায় আছি.....

(চলবে)
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এক সেকেন্ডের নেই ভরসা

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৩


সংসারের শত দায়িত্ব কাঁধে। ধাপে ধাপে সব পালন করতে হবে। মোটরসাইকেল নিয়ে ভালো মনে রাস্তায় নামলেন রাইড শেয়ার করবেন বলে। হঠাৎ একটা প্রাইভেট কারের সাথে ধাক্কা লাগল। আপনি রাস্তায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসমাপ্ত নীহারিকা - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭



বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাকে দেখলে মানুষের প্রথম যে কথাটা মনে হতো, তা হলো—ছেলেটার নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা আছে।
কালো জিনস। কালো টি-শার্ট। টি-শার্টে কখনো Behemoth, কখনো Slayer, কখনো Cannibal Corpse। কানে হেডফোন। চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:১৮


বাংলাদেশের সমাজে একটি নীরব বিপ্লব ঘটে গিয়েছে। দুই বছর আগে ব্লগে অ্যাকাউন্ট খোলার পর থেকে এই পরিবর্তন নিয়ে কম করে হলেও বিশটির বেশি পোস্ট লিখেছি। এই বিপ্লবের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:৫৬

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত



সময় চলেছে তার আপন খেয়ালে,
নদীর স্রোতেরা হারায় কালের বুকে;
আমি শুধু এক অনন্তকাল ধরে,
ডুবে আছি প্রিয়, তোমার চাওয়া পাওয়ার ওই সুখে।

বাহিরের সব নিয়ম চলুক তার মতো,
মহাবিশ্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলার পথে ক্ষণিক দেখা – (১১)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০২

পূর্বের পোস্টঃ ক্ষণিকের দেখা, মায়াময় এ ভুবনে -১০


অবশেষে আমার কিছু কথা শুনে ওরা হাসিতে ফেটে পড়লো। সবার মুখে ছিল উজ্জ্বল হাসি।

আজ দুপুরে একটি এলাকার মাসজিদ সংলগ্ন পুকুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×