somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মোহনা-২

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ সকাল ৮:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঢাকা শহরে বেশিরভাগ বাদাম বিক্রেতার বাড়ি বি-বাড়িয়ার চাতল পাড় হয়ে থাকে,যখনি কোন ছেলেকে জিজ্ঞাসা করি তখনি উত্তর আসে- তার বাড়ি চাতল পাড়,তাই এখন নিজ থেকেই বলি-কিরে বাড়ী কি চাতল পাড়,তারা তখনি খুব খুশি হয়ে যায়,ভাবে আমার বাড়িও বোধ হয় সেখানে,কারণ চাতল পাড় হলো একটা গ্রাম,এইভাবে সরাসরি গ্রামের নাম বলে ফেল্লে ওরা নিশ্চিৎ হয়ে যায় যে আমি তাকে চিনি।এতে একটা লাভ হয় যে বাদামের ওজনে ঠকায়না,খুব আন্তরিকতার সাথে বেছে বেছে ভালো বাদাম গুলো দেয়ার চেষ্টা করে।

---কিরে তুই কি ছেলেটাকে চিনিস,?( মোহনা অবাক হয়ে প্রশ্ন করলো আমাকে)।
-- আরে না,বুঝবেননা,এটাও একটা টেকনিক নীলের,ব্যবসায়ীরা এমনি হয়,সব যায়গায় মগজ কাজে লাগায়।(কথাটা বলেই আজাদ হো হো করে হেসে উঠলো,অনেক ক্ষণ থেকে লক্ষ্য করলাম আজাদ অকারণেই একটু বেশি শব্দ করে হাসছে,যদিও আজাদের হাসিটা আমার নিজেরি ভালো লাগে,তবে আজকে আজাদের উচ্ছলতা চোখে পড়ার মত।কারণটা কি তাহলে মোহনা,নিজের মনে প্রশ্ন।তাহলেতো ভালৈ গাধাটা অন্তত এতদিনে কোন ভালো কিছু নিয়ে ভাবছে।

- ওহ!! তুই তাহলে মগজের ব্যবহার করিসনা,?কবে থেকে তুই মনের ব্যবহার শুরু করলি শুনি?আজকে একটু আগ থেকে তাইনা আজাদ? (আমার হঠাৎ এমন ভাবে বলার ধরণ দেখে কারণটা দুজনেই বুঝতে পেরে দুদিকে তাকালো লজ্জায়।

৩।সেদিনের পর থেকে আজাদ আমাকে মোহনা বিষয়ে আর একটি কথাও জানতে চাইনি,মোহনা কি করে কোথায় থাকে,আবার কবে আসবে এসব কিছুই না,কিন্তু যতবার তার সাথে আমার দেখা হয় আমি যেন তার চেহারাতে প্রশ্ন গুলো ভেসে উঠা দেখি,এবং মোহনা বিষয়ে এইভাবে চুপ করে যাওয়ায় সন্দেহটা আরও বেশি বেড়ে গেলো।এখন সে প্রায়ই ফোন করে জানতে চায় আমি ফ্রি কিনা, কি করছি,কোথাও যাবো কিনা,আজকে দেখা হবে কিনা ইত্যাদি ইত্যাদি।যা আগের তুলনায় একটু বেশি বলেই আমার মনে হচ্ছিলো,এতদিনের এত কাছের মানুষটার কোন পরিবর্তন আমার চোখে পড়বেনা তা কি করে হয়।একদিন অবসরে আমি তাকে রিং করলাম..
- হ্যালো আজাদ,তুই কি ফ্রি আছিস?
-- হুম ফ্রি আছি,কোথায় আসতে হবে বল?।( অন্যদিন হলে "কেন" কথাটা জুড়ে দিতো যা আজ সে করেনি)
- শোন, আমি সন্ধ্যায় একটু পপুলারে যাবো,একটা ব্যবসায়ীক কাজে,তুই ৭টার সময়ে বাটা সিগন্যালের মোড়ে থাকিস আমি সেখানে আসবো।

এই রেষ্টুরেন্টা আমার খুব ভালো লাগে,অতিরিক্ত কোন ডেকোরেশান তারাতো করেইনি বরং দেয়ালের প্লাষ্টার গুলো তুলে আস্ত ইটের খন্ড গুলো দেখা যাচ্ছে,এমন ভিন্নতা চোখে পড়ার মত,টেবিল চেয়ার গুলো বাঁশের খুটির উপর দাড়িয়ে,সব মিলে ভদ্র লোকের রুচির প্রশংসা না করলেই নয়,
একদম কোণায় দুজনের চেয়ার সাজানো একটা টেবিলে মুখো মুখি বসা আমি আর আজাদ।আজাদের ঘেমে যাওয়া দেখে মায়া লাগলো ছেলেটার জন্য,আমি তাকে সহজ করার জন্য নিজেই কথা শুরু করে দিলাম একদম কোন রকম ভুমিকা ছাড়াই।

- শোন আজাদ, আমরা অনেক বড় হয়েছি,নিজেকি চিনি সেই সাথে চরম ভাবে চিনি নিজের জীবনের ভালো মন্দ লাভ লোকসান টুকুও।আবেগের বশিভূত হয়ে ক্ষয়ে যাওয়া আমাদের মত বাস্তববাদি মানুষের মানায়না,জীবন নিয়ে আমরা জুয়া হয়তো খেলি কিন্তু আবেগের জোয়ারে ভাসিয়ে দিতে পারিনা।আর তুই এসব বিষয়ে আমার থেকে হিসেবি বলেই আমি মনে করি,তবুও তোকে আরেকবার মনে করিয়ে দিয়ে আমি মুল কথায় যেতে চাই,তুই কি বুঝতে পারছিস আমি কি বলতে যাবো এখন?
-- হুম!বলে যা..( হাতের তালুতে চিবুক ঠেস লাগিয়ে আমার চোখের দিকে তাকিয়েই খুব শান্ত ভাবেই কথাটা বললো,)
-মোহনা আমার বড় ফুফুর মেয়ে,জে,ইউ থেকে পলিটিক্যাল সাইন্সে মাষ্টার্স করে বের হলো,দুই ভাই বোনের মধ্যে মোহনা বড়,ফুফা আর্মি মাষ্টার ওয়্যারেন্ট অফিসার।ঢাকা ক্যান্টনমেন্টেই থাকেন স্বপরিবারে,ফুফু গৃহিনী।বেঁচে থাকার জন্য যতটুকু দরকার সেই টুকু নিয়েই সুখি এই পরিবারটা।আমাকে অনেক বেশি বিশ্বাস করে এই মানুষ গুলো,মোহনার বিয়ের বিষয়ে কেউ এগিয়ে আসলে ফুফার একটাই কথা নীলকে জিজ্ঞাসা করে বলবো,এই নিয়ে মোহনার আপত্তি অনেক,একদিন তো রেগেই গেলেন ফুফার উপর,বিয়ে করবো আমি আমাকে না প্রশ্ন করে নীলকে বলতে হবে কেন? ফুফার একটাই কথা নীল এই পরিবাররের একটা অংশ।আমার কিছু হয়ে গেলে নীলকেই তোরা সবার আগে পাবি বিপদে আপদে।আমার জানা মতে আমি এই পরিবারের জন্য তেমন কিছুই করিনি,তবুও কেন এরা এত নির্ভরতা খুঁজে আমার মাঝে আমি জানিনা।এখন বুঝতে পেরেছিস আজাদ আমি মোহনার কে এবং কতটুকু অধিকার রাখি তার ভালো মন্দে সিদ্ধান্তে?
-- হুম! বুঝতে পরেছি,(আগের মতই শান্ত উত্তর আজাদের)
-গুড,হঠাৎ করে এত গুলো কথা কেন বলছি তা নিশ্চই তোর বুঝতে সমস্যা হবার কথা নয়,আর তোর বন্ধু এই আমি তোকে যে পড়তে পারি সেটা নিশ্চই অস্বীকার করবিনা,তাইনা?
--হুম!
-মোহনার সাথে তোর বিষয়ে কথা বলেছি,শুধু জানতে চেয়েছি যতটুকু জানলি একজন ছেলে হিসেবে আজাদকে তুই কত নাম্বার দিবি।
--কত দিলো?
- আশি..
--বাকি বিশ কিসে বাদ দিলো বলেছে কিছু?
-হুম!নিজেকে আড়াল করিস বলে,আর বলেছে-আড়ষ্টতায় সুখ নেই,নিজেকে সবার মাঝে বিলিয়ে দেয়ায় জীবনের আনন্দ এই বিষয়ে বাদ দিয়েছে পনের ভাগ,বাকি পাঁচ খুব বেশি সিগারেট খাস তাই।
-- তোর চেয়ে বেশি?(কথাটা বলেই একটু সিরিয়াস ভাবে কি যেন ভাবছে,তার ভাব দেখে মনে হচ্ছে সত্যি সত্যি কোন পরীক্ষার রেজাল্ট নিয়ে আমাদের আলোচনা হচ্ছে।
-আমিতো ব্যবসা নিয়ে সব সময় মানসিক চাপে থাকি,আর তুই জব করিস,কোন দায় বদ্ধতা নেই।৮টা-৫টা জব,এর পর মনের সুখে খাওয়া,ঘুম এমন জীবনে ধোঁয়া আসবে কেন বল?
--হয়েছে,আর পন্ডিতি করিসনা,এখন কি করতে হবে সেটা বল?
-মোহনার সাথে কথা বল,দেখ মনের সাথে মতের সাথে মিলে কিনা,সময় দেব ৪ মাস।এরপর আমাকে তোর মতামত জানাবি,মোহনার মতামত আমি তার থেকেই জেনে নেবো,আর হ্যাঁ রাতে কখনৈই কল দিবিনা,এবং আমাকে না জানিয়ে বাইরে দেখা করবিনা।এই সব শর্ত মেনে নিলে আমি তোকে নাম্বার দিতে পারি দোস,আর না হয় মনের মধ্যে কিছু উকি দিলে তা মুছে ফেলাই ভালো।
-- হাহাহাহা তুই না আমাকে বিশ্বাস করিস,তুইনা আমার আত্মা?
-দেখ আজাদ,বিশ্বাস অবিশ্বাসের কোন প্রশ্ন নারে,মনটাকে আগে মনের উপর চালিত কর,মন যদি মনটাকে চিনে নেয়,তখন মন যা বলে তাই করিস,মনের আগে মন যদি দেহে চলে যায় তখন শরীরের আড়ালে মনটাকে আর দেখা যায়না চেনা যায়না,শরীর মানব জীবনের খুব গুরুত্ব পুর্ন দিক,তবে তা কখনৈ মনের আগে নয়।শরীর শুধু মাত্র কোন নির্দিষ্ট ধর্মীয় নিয়মেই মানুষ নিবে অথবা নিয়ম মানলেই শরীর হালাল এমন কিছুতে আমি বিশ্বাসী নই আজাদ।আমি বিশ্বাস করি এই বিষয়টা তখনি উচিৎ যখন একে অন্যের জন্য কলিজ্বায় রক্তক্ষরণ হয় এখানে নিয়ম থাকুক আর না থাকুক।মনে রাখবি এই একটা বিষয় কখনো কাউকে বিন্দু মাত্র ঠকাবিনা,সে যেই হোক।

(চলবে)

পাঠক ঘটনা গুলো অনেক দিন আগের কথা,সব কিছু হুবহু মনে না আসলেও ঘটনা মুল বিষয় গুলো মনে করার চেষ্টা করছি,ঠিক যে কথা গুলো দিয়ে এই সম্পর্ক সৃষ্টি হয়েছিলো।
মোহনার জন্য দোয়া করবেন।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ সকাল ৯:০৪
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এক সেকেন্ডের নেই ভরসা

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৩


সংসারের শত দায়িত্ব কাঁধে। ধাপে ধাপে সব পালন করতে হবে। মোটরসাইকেল নিয়ে ভালো মনে রাস্তায় নামলেন রাইড শেয়ার করবেন বলে। হঠাৎ একটা প্রাইভেট কারের সাথে ধাক্কা লাগল। আপনি রাস্তায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসমাপ্ত নীহারিকা - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭



বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাকে দেখলে মানুষের প্রথম যে কথাটা মনে হতো, তা হলো—ছেলেটার নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা আছে।
কালো জিনস। কালো টি-শার্ট। টি-শার্টে কখনো Behemoth, কখনো Slayer, কখনো Cannibal Corpse। কানে হেডফোন। চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:১৮


বাংলাদেশের সমাজে একটি নীরব বিপ্লব ঘটে গিয়েছে। দুই বছর আগে ব্লগে অ্যাকাউন্ট খোলার পর থেকে এই পরিবর্তন নিয়ে কম করে হলেও বিশটির বেশি পোস্ট লিখেছি। এই বিপ্লবের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:৫৬

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত



সময় চলেছে তার আপন খেয়ালে,
নদীর স্রোতেরা হারায় কালের বুকে;
আমি শুধু এক অনন্তকাল ধরে,
ডুবে আছি প্রিয়, তোমার চাওয়া পাওয়ার ওই সুখে।

বাহিরের সব নিয়ম চলুক তার মতো,
মহাবিশ্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলার পথে ক্ষণিক দেখা – (১১)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০২

পূর্বের পোস্টঃ ক্ষণিকের দেখা, মায়াময় এ ভুবনে -১০


অবশেষে আমার কিছু কথা শুনে ওরা হাসিতে ফেটে পড়লো। সবার মুখে ছিল উজ্জ্বল হাসি।

আজ দুপুরে একটি এলাকার মাসজিদ সংলগ্ন পুকুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×