somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

উচ্ছন্নে যাওয়া আমরা; একজন আব্দুল কালাম ও ভবিষ্যত ভাবনা

১৯ শে অক্টোবর, ২০১৪ বিকাল ৪:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




যে ক'জন মানুষের বক্তব্য আমাকে মুগ্ধ করেছে তাদের মধ্যে ড. ইউনূস; ফরহাম মজহার; সলিমুল্লাহ খান; সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী এবং অমর্ত্য সেনকে বাদ দিলে ভারতের সাবেক প্রেসিডেন্ট এপিজে আবদুল কালাম নিশ্চিতভাবে ড. ইউনূসের পাশপাশি থাকবেন।


তার বক্তব্য; চিন্তার বিস্তৃতি ; দর্শন এবং এগিয়ে থাকার চেতনা আমাকে কেবল মুগ্ধ করেননি ; ভাবিয়ে তুলেছে; আমরা্ আমাদের সন্তানদের জন্য কেমন একটা সমাজ রেখে যাচ্ছি।

শনিবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে আবদুল কালাম তার বক্তব্যটার শুরুতেই বলছেন, মানুষের বিকাশ তার পরিবার ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তার বক্তব্যের পরতে পরতে সৃজনশীলতার কথা। উদ্ভাবনের কথা এবং ব্যবস্থাপনার কথা। লক্ষ্য স্থির করার কথা।


বিস্ময় এবং কষ্ট দুটোই আমাকে আচ্ছন্ন করেছে। আরো বেশি আচ্ছন্ন করেছে ব্যর্থতা। কারণ আমরা আসলে পেছনে পড়ে আছি এবং নিয়তই পেছনে যাবার প্রতিযোগিতা করছি।

আবদুল কালাম বলছেন, বিশ্বের মানুষের সবচেয়ে বড় সঙ্কট হবে গুণগন মা্নসম্পন্ন শিক্ষা ও মূল্যাবোধ। এ জন্য বিশ্বজুড়েই একটা ভারসাম্যহীনতা তৈরি হবে।


আমাদের মত গরিব দেশ; বিশেষ করে ভারত দ্বারা শোষিত দেশ কীভাবে কোমর খাড়া করে দাঁড়াবে; সেটা নিয়ে তার স্পেশাল কোনো কথা তার বক্তব্যে না থাকলেও নিজেদের নিজের জন্য পরিকল্পনা করার কথা বলেছেন।

ধরে নিন পাটের কথা। বিশ্বব্যাংক বলেছে আমদজী বন্ধ করো। আমরা বন্ধ করে দিলাম। আরো অনেক চট কল বন্ধ করে দিযেছি। সেখানেই আব্দুল কালাম আমাদের সম্ভবানার কথা বললেন।

তার কথটা খুব মনে ধরেছে; কেউ বললো আপনি এটা বন্ধ করেন; অমনি আপনি তা বন্ধ করে দিবেন। আপনারা পরিকল্পনা কি? প্রশ্নটা তিনিই করলেন। আসলে বঙ্গ দেশের কারো কোনো পরিকল্পনা নেই।

'গানেই তো যেমনে নাচাও তেমনি নাচাও পুতুলের কি দোষ।' আমরা আসলে পুতুলের মতই।

মূল্যবোধ ও গুণতমত মানসম্পন্ন যে শিক্ষার কথা বলেছেন, আবদুল কালাম; সেটি কী আমাদের আছে। আমাদের সন্তানদের সামনে আমরা নিয়ে হাজির হচ্ছি। সে কি হবে? নাকি তার কী হবে ইচ্ছা। আমরা কোনটিকে প্রধান্য দিচ্ছি।

কিন্তু এ ইচ্ছাটা কীভাবে জন্মায়। সে জনন্য ক্ষেত্রে কেমন। দ্রাবিড় কিম্বা চণ্ডাল; আশরাফ কিম্বা আতরফ- যে গ্রোত্র ভুক্তই আমরা হই না কেনো; বৈশ্বিক সঙ্কট থেকে মুক্ত আমরা নই।

বাঙালি সমাজের ঐতিহ্য; মুসলামন কিম্বা হিন্দু; কিম্বা বৌদ্ধ কিম্বা খ্রিস্টানের একটা ধারা; আমরা যে ধর্ম বিশ্ববাসীরা বয়ে চলেছি- সে দিকে নজর দেবার সময় কী আমাদের আছে। চূড়ান্ত বিচারে নেই। আমরা ভারতীয় কিম্বা পশ্চিমা সংস্কৃতি দ্বারা সব সময় প্রভাবিত- নিশ্চতভাবেই এ প্রভাব থাকতে পারে; কিন্তু সেটি বাছ বিচারের জন্য যে দরকারি জিনিসটি দরকার; সেটি আমাদের নেই। তা হলো বিবেক দ্বারা তাড়িত হওয়া।


আমরা বিবেক নয়; ভোগ দ্বারা তাড়িত। যেখানে নীতি নৈতিকতার বালাই নেই; আমরা ধর্ম পালন করতে পারি না কিম্বা বাঙালি সংস্কৃতির লালন করতে পারি না- সে জন্য আমাদের লজ্জিত হবার বদলে অহঙ্কার হয়। আর কথা তো সত্যি অহঙ্কার পতুনের মূল। কেবল কেতাবে পড়েছি; বাস্তবে আমল করছি না।

মন খারাপ হচ্ছিলো কালামের বক্তব্যে- একটা উচ্ছন্নে যাওয়া; নানা রকমের বিভক্তির ভেতর দিয়ে বেড়ে উঠছে নতুন প্রজন্ম। যাদের দিয়ে আবদুল কালামের থিওরি মেনে বঙ্গদেশের উন্নয়ন হয় না।


তবুও আশায় বুক বাঁধি। আবদুল কালামের বক্তব্যের কিছুটা যদি উপলব্ধি করতে পারি ; তাহলে আমরা টিকে যাবো। নইলে বিশ কোটি কিম্বা তার কিছু কম বেশি লোকের বাজার ছাড়া আমরা কিছুই হতে পারবো না। এখানেই আফসোস।

আসনেনা মাও জে দং; লেলিন, সেক্যুলারিজম; জমায়াত ইসলাম; বাঙালি জাতীয়তাবাদ কিম্বা বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের তকমা খুলে চোখটা কচলে দেখুন না; কোথায় দাঁড়িযে আছি। কোথায় যাবার কথা ছিল। পথ কোথায়? ভাবনু।

আবদুল কালামের কথায় বলি আপনার ভিশনটা কি তা ঠিক করুণ। আপনার পকিল্পনা আপনি করুন। আপনি যে ক্ষেত্রে থাকুন না কেনো; হতে পারেন আপনি চাকুরীজীবী; হতে পারেন ব্যবসায়ী; কৃষক কিম্বা পলিটিশিয়ান। আপনাকেই আপনার গন্তব্য ঠিক করতে হবে। কেউ তা ঠিক করবে না।



সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৪ রাত ৯:৩১
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেশভাগের পর-

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৮



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
ওমর আলীর জ্বর এসেছে। জ্বর নিয়েই তিনি পত্রিকা পড়ছেন। দীর্ঘদিনের অভ্যাস। টারজান গিয়েছে বাজার করতে। এর আগেও টারজান বেশ কয়েকবার বাজার করেছে। বাজার করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হায়ার সেলফ্‌

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৪১


শীতের সময়ে রাত ১০ টা অনেক রাত। আর তা যদি হয় শহর থেকে দূরে শহরতলীতে,আবাসিক এলাকার আশপাশে,তাহলে তো কথাই নেই। রাত আটটা বাজতে না বাজতেই পাড়ার সকলে সেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এফএম রেডিও

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২০

২০০৯ সাল। একটি ছেলে। সে তার নানা নানীর সাথে মুন্সীগঞ্জ এ থাকতো। নানা তার নাতিকে একটি মোবাইল উপহার দেয়। নকিয়া ১৬৬১। সেই মোবাইলে এফএম রেডিও ছিলো। সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহজালাল রুমি দেশ ছেড়েছেন কার ভয়ে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৮


থাপ্পড়-কাণ্ডের পর দেশ ছেড়েছেন শাহজালাল রুমি। টঙ্গীতে নিজের মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করাই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর জন্য। গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি, ব্যক্তিগত বার্তায় ভয়ভীতি প্রদর্শন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের ওসমান হাদী সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্যান

লিখেছেন এল গ্যাস্ত্রিকো ডি প্রবলেমো, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

এ আমি কী দেখলাম! ব্লগের প্রতিবাদী মুখ, ভারতের যম, ওসমান হাদীর মুখপাত্র, একাত্তরকা গণ্ডগোলের ব্যাপারে সচেতন মুখ সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্লগটি স্থগিত অথবা বাতিল করা হয়েছে। দেশে যখন সামান্য চুমু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×