somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

' দেহ পাবি ; মন পাবি; ভ্যাট পাবি না'

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৩:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভ্যাট এখন চ্যাটে নাই। মাঠে গড়িয়েছে। গরমের এ মরসুমে, রাস্তায় ঠাডা রইদের মইধ্যে পুতু পুতু পোলাপাইন স্লোগান তুলছে।
বারগার, স্যান্ডুইচ, ইয়াম্মি জুস, পিৎজা, মুরগি ভাজা আর রুট বিয়ার--- যত কিছু্রই আমদানি হোক না ক্যান দেশে; বুকের উপ্রে লাত্থি লাগলে রাস্তায় আমরা খরায়া যামুই। এটা আবারো প্রমাণিত।
রাস্তায় খারাইলে, কিম্বা রাস্তায় আন্দোলন কইরলে তার দাবি মানবে ক্যাডা! উত্তর। সক্কার বাহাদুর। সক্কার ক্যাডা? তার চরিত্র কি-- রাজনীতিক।
কপ্পোরেট হাউস, টেলিকম কুম্পানি, বহুজাতিক খাইদ্য খানা আইনা দেশটারে ডিজিটাল জুস বা ডিজুস আসক্ত করা হইছে। চিন্তক ফরহাদ মজহার এটাকে কইছেন--' বিরাজনীতিকরণ প্রক্রিয়ার অংশ।' অনেকেরই মনে থাইবে--- গাঁইয়া ফোন তাদের ডিজুস প্যাকেজে রাতভর মাগনা কথা কইতে দিয়া কত পুলা মাইয়াকে মানসিক রোগী বানাইছে। সেই সাথে কাম-ক্ষুধা-যৌনতা ও বাসনার ভিত্রে ডুবায়া রাখছে। কেবল রাজনীতি বাদে সব করো থিওরি--- আর কি।
একদল রক্ষণশীল সুশীল আছে। তারা কইবো- রাজনীতি সচেতন হও। আরেক ভাগ কয়- রাজনীতি করে 'নষ্ট' হওনের কাম নাই। দুপক্ষেই দোষারোপ করনের কাম নাই । তবে রাজনীতির জ্ঞান থাকন জরুরি। নইলে যোগাযোগের ভাষাও বদলে যাইতে পারে। যেমনটা কয় দিন ধরে একটা স্লোগান নিয়ে আলোচনা হচ্ছে---' দেহ পাবি ; মন পাবি; ভ্যাট পাবি না।'
বিজ্ঞাপন--- 'এক ঢিলে মেনি পাখি' তখন প্রতিবাদ করি না। রস করি। আদি রস। 'জানু আহা' বলে চিক্কুর মারা মঠেলকে আমরা কিছু বলি না। ডায়মন্ড গলায় চড়িয়ে উদোম করা মাইয়্যা মাইনষের শরীর লইয়া আমগো কোনো বাৎ চিৎ নাই। ফর্শা না অইলে 'সফল' হওন যায় না এ থিওরি আমরা মাইনা লই! কারো মনে অয় না তখন---এটা অশ্লীল। হঠাৎ ভ্যাটের দাবিতে এ রকম একটা চিক্কুর ক্যান যে, তাতো অনেকেই বোঝেন।
এটা পুরো রাজনৈতিক।
সরকার দলীয় বন্ধুরা ফেসবুকে ব্লগে নানান জায়গা কইতাছে ভ্যাট তো দিবো ভার্সিটি; তুমার চিন্তা কি? তুমি আন্দোলনে আইছ ক্যারে। বাড়ি যাও!
রাজনীতি একটা চর্চার ব্যাপার। এইডারে এড়িয়ে যাওনের সুযোগ নাই। আমগো কিছু লোক বলে আরে, বাপু রাজনীতি করবে 'বস্তি'র পুলাপাইন। তুমি খাবে দাবে মাস্তি করবে। যা ইচ্ছা তাই করবে।
কিন্তু এইডা যে ভুল --- নিশ্চিতভাবে এ ভ্যাট প্রত্যাহারের আন্দোলন প্রমাণ কইরলো।
ভ্যাট নিয়ে অধিকতর ব্যাখ্যাও পইড়লাম। এনবিআর কইছে এটা বেতনের ভিত্রে আছে। আরে বাপ ভ্রিতে যেটা আছে হেইডা কি ভার্সিটি তার বাড়ি থেইকা আইনা দিব। ভাবখানা এমুন।
বাঙ্গবাসির ভোগের বাজারে সরকার নত অইয়া পইড়ছে। এখনো দোকানিরা প্যাকেজ ভ্যাট দেয়। সেইখানে বিশ্ববিদ্যালয়--- যেখানে পড়াশোনা হয়; সেখান থেকে কেনো ভ্যাট নেয়া হবে? তাও আবার সাড়ে পার্সেন্ট! এটার কারণ সম্ভবত দেশে এখন ইনডিয়া, মালয়শিয়া, চায়না, থাইল্যান্ড এডুকেশন ফেযার করে-- তাদের সরকারের একটা সমঝোতা থাইকতে পারে।
শিক্ষা খরচ বৃদ্ধি বড় রকমের বোকামি। প্রাইভেট ভার্সিটি মানুষ ক্যান পড়ে! পাবলিকে চান্স না পাইয়া। আর অল্প কিছু পুতু পুতু পুলাপাইন আছে তাগো মা বাপ ভার্সিটির বারান্দায় ড্রপ করতে চায় আবার পিক মারতে চায়। তারা । কিন্তু এ অল্প সংখ্যক পুলাপাইনের কথা মাথায় আইনা কি ভার্সিটি ভ্যাটের আওতায় আনন ঠিক? অবশ্যই না।
তাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস ফ্যাকাল্টি কিম্বা আইবিএ অবশ্যই ভ্যাটের আওতায় আইসতে পারে। সাহস থাইকলে সক্কার সেখানে গিয়া ১০ টাকা বেতন বাড়ায় দেখুক না।
দুব্বলের উপ্রে সব--- এইডা সইত্য । এটাও তো সইত্য প্রাইভেট ভার্সিটি পড়ুয়া পুলাপাইন নিজেদের দুব্বল করে রেখেছে। তাদের কাছে হাসিনা খালেদা এরশাদ মানে কৌতুক। এ কৌতুক কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হইতে পারে না।
বিপদে পড়লে এ সব নেতা নেত্রীর অনুসারির কাছেই যেতে হয়। কারণ এরাই সমাজ চালায়। আমরা সমাজ চালানোর মত লোক পাই না বইলাই তো এরা চালায়। যাদের আমরা 'বস্তির লোক' বইলা নাক সিটকাই; হেরাই আমগো নেতা। এটার দায় কার? আমার আফনের সক্কলের!
রাজনীতি আফনে কইরবেন কিনা সিদ্ধান্ত আফনার। কিন্তু আফনাকে রাজনীতি সম্পর্কে জাইনতে হবে। সচেতন মানুষ হিসাবে আফনার একটা মতামত থাকন জরুরি।
বাঙালির রক্তে সিরাজ উদ দৌলা যেমন আছে। মীর জাফরও আছে। সুতরাং সাধু সাবধান।
ভ্যাট মুক্ত শিক্ষার দাবি যৌক্তিক। এটা সরকারকে বুইঝতে হবে। সে বোঝানোর দায়িত্বতটা 'জ্ঞানী' শিক্ষক রাজনীতিকদের নিতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:৫৪
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গালিব সাহেব, মিথ্যারও তো একটু সামাজিক মর্যাদা আছে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩



মির্জা গালিব বলেছেন -
“পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মিথ্যা বলা হয় ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়ে, যেটা আদালতে। আর সবচেয়ে বেশি সত্য বলা হয় মদ ছুঁয়ে, যেটা পানশালা।”

গালিব সাহেব, আপনার কথায় যুক্তি আছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাউঞ্জ এন্ড ফুড রিভিউ; দ্যা সেন্স

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৪২


নিয়মিত-অনিয়মিত গত এক যুগ ধরে ভ্রমণ করছি এবং প্রায়োরিটি পাস দিয়ে বিভিন্ন দেশের এয়ারপোর্টে লাউঞ্জ ব্যবহার করছি প্রায় ৪ বছর ধরে। দীর্ঘ ফ্লাইট, লং ট্রানজিটের মধ্যে এয়ারপোর্টে ফ্রিতে দৃষ্টিনন্দন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

অধরা বালিকা

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:১৮




লোভনিয়া তুমি এক অধরা বালিকা
ঘুমগুলো কেড়ে নাও ধুম করে তুমি
অথচ আমার জন্য তুমি মরুভূমি
পর ঘরে মহারানি হয়ে থাক চাই।
পরের হৃদয় রাজ্যে থাকবে মালিকা
তেমনটা আশাকরি। তাতেই যে আমি
অনেক প্রশান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

যেখানে খোদা নেই; সেই ঠিকানার সন্ধানে( একটি দীর্ঘ সুফি দার্শনিক আত্মজিজ্ঞাসা)

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


প্রথমেই জানাই আমার এই লেখাটি ব্লগার মরুভুমির জলদস্যুর লেখা “শরাব পিনে দে”
হতে উৎসারিত, তাই তাঁর প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা ।

সেই লেখাটিতে তিনি মির্জা গালিব এর বিখ্যাত শেরটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৮ বছর পর ঋণের খোঁজে সন্তান বনাম হাজার কোটি টাকার খেলাপি: আমাদের ব্যাংকিং ও শেয়ারবাজারের ট্র্যাজেডি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৯

সংবাদের পাতার দুটি বিপরীতমুখী ছবি সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের চরম এক সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈপরীত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়।

একদিকে আমরা দেখি, ২৮ বছর আগে বাবার নেওয়া মাত্র ১০ হাজার টাকার দাদন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×