somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নীল মনি
ভীষণ কঠিন পোড়ামাটিকে আবার সেই কাদামাটিতে ফিরিয়ে আনা,ভীষণ কঠিন আঘাত দেয়া শব্দমালা গুলো ফিরিয়ে নেয়া।ভীষণ কঠিন নিজের সম্পর্কে কিছু বলা।যে চোখ দেখিনি সে চোখ কেমন করে বিশ্বাস করবে জানি না।যে কখনো রাখিনি হৃদয়ের উপর হৃদয়;সে কেমন করে বুঝবে আমায়!

অনলি মি

১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ সকাল ১০:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

#জীবনের গল্প



"আপু আপনাকে আমি কতদিন খুঁজেছি লাইব্রেরিতে আসেন না কেন?"

-"আপু আসলে আমি একটু সিক ছিলাম।আমি তো ফেসবুকে ছিলাম।মেসেজ দিতেন।"
-"আমি আসলে খুঁজে পাইনি কিন্তু মনে মনে অনেক খুঁজেছি।"
-"এখনি যোগ করে নেন তাহলে।আমি রিকুয়েস্ট দিচ্ছি।"
"এই আপু, আপনার ফেসবুকে আপনার খোলা ছবি নেই?ভাইয়া কই? কাউকে দেখি না তো!"

"আমি হাসি আর বলি ছবি দিতে ভালো লাগে না।নিজেকে দেখতে কেমন বিরক্তি লাগে।"

"আপু,আপনি নিজের ছবিগুলো অনলি মি করে রাখবেন।"
"আমি বলি, আচ্ছা!"

বেশ কয়েকদিন হয়ে গেছে লাইব্রেরিতে আর যাই না।রাত প্রায় একটা।বাসায় দু'টো অতিথি এসেছে।খরগোশ।অন্যদিন রাতে তারা ঠিক ঘুমায়।কাল কেন জানি ঘুমুচ্ছে না।ওদেরকে রেখেছি বারান্দায় একটা কাঠের ঘরে।রাতে মনে হল ওরা দু'জন যুদ্ধ শুরু করেছে।বুঝলাম ঘুম আর হল।ফেসবুকে ঢুকলাম। ঘোরাঘুরি করছি।তারপর মনে হল কিছু ছবি অনলি মি করে রেখে দিই।যেই ভাবা সেই কাজ।সতেরটা ছবি সিলেক্ট করলাম।তার মধ্যে দুটো চুল খোলা।পরে আবার কি মনে করে আন সিলেক্ট করলাম।ওগুলো পোস্ট করে দিলাম।আরো তেরোটা নতুন যোগ করতে দিলাম।

"আপু!ঘুমান নি?বাচ্চারা জেগে কি?আমার বাচ্চা জেগে,দেড়টায় ঘুমাব আমি।কী করছেন?"

আমি বললাম আপনার কথা মত কিছু ছবি অনলি মি করে পোস্ট করছি।আপুর সাথে আরো অনেক কথা হল।খরগোশগুলোর হুটপাট থেমেছে কিছুটা।তন্দ্রাভাব এল।হঠাৎ টুং এক শব্দে তন্দ্রা ছুটে গেল।দেখি এক আপু ও এক ভাইয়া ছবিতে লাইক দিয়েছে।আমি তো আকাশ থেকে পড়লাম।ক্যামনে কি আমি তো অনলি মি করেছি, ফ্রেন্ডস হল কেমনে! আমি এত যে ডিলিট করতে যাই হচ্ছে না।কী করি আমি কী করি! এরপর দেখি সেই আপু লিখেছে "আপু ছবি কিন্তু ফ্রেন্ডস হয়ে গেছে।"আমি উনার লেখার প্রত্যুত্তর দিলাম।কাজ হল না।মেসেজ সেন্ড হয় না।মোবাইলের দিকে তাকিয়ে দেখলাম নেট চলে গেছে।একেবারে পুরো মোবাইল নেটওয়ার্ক হাওয়া!
মনে হল আমার মাথার নেটওয়ার্ক গেল! মনে মনে ভাবলাম ভাগ্যিস আমি চুল খোলা ছবি দিইনি!
তারপর ভাবলাম সেট অন অফ করলে নেট আসবে।এলো না নেট।আবার অন অফ করলাম। একটু এলো তাতে ফেসবুকে গিয়ে ডিলিট করলাম পোস্ট কিন্তু আদৌ ডিলিট হল কিনা জানি না।
মনে করলাম সিমটা খুলি।খুলতে যাব দেখি আবার একটু নেট এল।এভাবেই চলল কিছু সময়।এরপর চেষ্টা বাদ রেখে ঘুমানোর চেষ্টা করলাম।ঘুম এল একটু।মেয়ে উঠল। পানি খাবে। আমি পানি খাইয়ে ফ্রেশ রুম হতে ঘুরিয়ে এনে ঘুমিয়ে গেলাম।ঘুম ভেঙে গেল হঠাৎ।মনে হল ভয় পেয়েছি।
কী করি।হাতের কাছে মোবাইল ছিল।ঘুম ঘোরে দেখলাম নেটওয়ার্ক এসেছে।আমি নেট অন করে ফেসবুকে এলাম। এখানে এলে কাউকে না কাউকে জাগ্রত দেখা যাবে। প্রথমেই দেখি নোটিফিকেশন। কত লাইক।লজ্জায় আমি শেষ।তাড়াতাড়ি সব ছবি ডিলিট দিয়ে দিলাম।বড় একটা নি:শ্বাস নিলাম
আর মনে মনে ভাবলাম দরকার নেই ভাই আমার আর 'অনলি মি।'
©রুবাইদা গুলশান
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ সকাল ১০:২৯
৬টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীর ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৭


আজ দেশজুড়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। ২৪ -এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভ্ন্নি সময়ে বহু নিরীহ প্রাণ অকালে ঝরেছে। আবু সাঈদ, মুগ্ধ ছাড়াও নাম জানা-অজানা হাজারো ব্যাক্তি তাদের প্রাণ হারিয়েছেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

তেহরানের ছায়া কি এখন ঢাকা সেনানিবাসে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:০১


সোমবার সকালে জলসিঁড়িতে একটা অনুষ্ঠান হলো। ফিতা কাটা, ফুলের তোড়া, বক্তৃতা, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ, স্বাভাবিক একটা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যা যা থাকে সবই ছিল। সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান নিজে হাজির, পাশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাতিঘর (Lighthouse)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৬



বাতিঘর (Lighthouse)

বাতিঘর নিয়ে সেই ছোট্টবেলা থেকেই আমার অনেক কৌতুহল ছিল। কেন ঐ বয়সেই বাতিঘর নিয়ে আমার এতটা আগ্রহ ছিল, তার কারণ আজও খুঁজে পাই না। অথচ আমি নিজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

"৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে। শেখ হাসিনার প্রয়োজন ছিল বিশ্রাম। আওয়ামী লীগের দরকার ছিল শুদ্ধিকরণ। অন্যান্য দলগুলোরও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে বিষয়ে মজিবর ও হাসিনা এক বিন্দুও ভুল করেনি!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


বাংলাদেশের ইতিহাসে মজিবরের শেষ শাসন কাল ও হাসিনার শেষ শাসন কাল দুটি ভিন্ন সময়ে হলেও গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত মিল বহন করে। নির্বাচনী বৈধতার নিরিখে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনের সংগে ২০১৪, ২০১৮... ...বাকিটুকু পড়ুন

×