somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মৃত্যুর শব্দ!

২৬ শে জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ২:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ঠিক কার মৃত্যুর পর প্রথমবারের মত মৃত্যুর যে নিঃসঙ্গতা সেটা বুঝেছিলাম মনে নেই। তবে এটা মনে আছে যে মাগরীবের নামাজের পর আমার মামাদের পারিবারিক কবরস্থানের পাশে দাড়িয়ে ঝিঝি পোকার শব্দ আমাকে প্রথমবার মৃত্যু সম্পর্কে নাড়া দিয়েছিলো।

তখন খুব সম্ভবত ৬ষ্ঠ/৭ম শ্রেণীর ছাত্র; মাগরীবের নামাজ পড়ে একটু এগিয়ে গিয়ে কবর স্থানের পাশে দাড়িয়ে যে ঝিঝি পোকার শব্দ শুনেছিলাম, তার মধ্যে কেমন যেন একটা একাকিত্ব অনুভব করেছিলাম। আজও সেই সন্ধার কথা মনে আছে।

কবরস্থান কেমন যেন একটা অদ্ভুত জায়গা; গমগম করতে থাকা শহরের মাঝে যে কবরস্থান, সেখানেও যেন নিস্তব্ধতা নেমে আসে। আমাদের গ্রামের বাড়ি কারও একজনের মাটির তৈরী ঘরে ঢুকেছিলাম; জানতে পেরেছিলাম মাটির তৈরী ঘরে নাকি সাধারণ টিন বা বেড়া দিয়ে তৈরী ঘর থেকে কম শব্দ প্রবেশ করে। মাটির নিচে কবরে কেমন?

আমি যখনই কারও সামনে বলি যে 'জন্মের থেকেও মৃত্যু বড় সত্য'; তখন তারা আর্গুমেন্টে জড়ায় পড়ে। বলে জন্ম না হলে মৃত্যুর প্রশ্ন নাই; তাহলে জন্ম আর মৃত্যু দুইটাইতো সমান সত্য। কিন্তু আমি ভাবি অন্য ভাবে। কিভাবে?

একটা বাচ্চা মায়ের পেট থেকে বের না হওয়া পর্যন্ত মায়ের পেটের ভিতরে যতই নড়াচড়া করুক, আমরা তখনও ধরে নেই না যে বাচ্চাটার জন্ম হয়েছে। পেট থেকে যেদিন বের হয়, সেদিনই তার জন্মদিন হিসাব করি; আর বছর বছর অহেতুক যে জন্ম উৎসব আমরা পালন করি, সেটাও কিন্তু ঐ পেট থেকে বের হবার দিনটাকেই কেন্দ্রকরে করি। কিন্তু পৃথীবিতে এমন প্রচুর বাবা মা আছেন, যারা তাদের পেট থেকে বের হওয়া সন্তানকে কোলে নিয়েছেন মৃত অবস্থায়। পেট থেকে বের হবার আগেই বাচ্চা মারা গেছে।

আবার আমার একটা সন্তান হবেই এমনটা আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি না। কত দম্পতি আছেন যারা দুনিয়ার সব ডাক্তার-কবিরাজ বেঁটে খেয়েও একটা সন্তানের মুখ দেখতে পায় না। কিন্তু যে সব দম্পতির একটা বাচ্চা হয়, সেই বাচ্চার জন্য লিখে দেওয়া যায় যে এই বাচ্চা একদিন না একদিন মরবে। কবে? আমরা জানি না; আমাদের জেনে কাজও নেই। তবে মৃত্যু সত্য।

অর্থাৎ জন্মটা অবধারিত নয়; কিন্তু জন্মালে মৃত্যু অবধারিত; এমনকি জন্মের প্রক্রিয়ার মধ্যেও মৃত্যু হতে পারে যে কারও।

জন্মের আগে মানুষ মরেছে; জন্মের সময় মানুষ মরেছে; জন্মের পর পর মানুষ মরেছে; জন্মের এক মাস পর, দুই মাস পর, ৫/১০/১১ মাস পর, এক বছর, পাঁচ, দশ, ২০, ৩০, ৪০, ৫০....... এভাবে বিভিন্ন বয়সে মানুষ মরেছে। আপনি যে হন, যা হন, যা করেন না কেন, জন্ম যেহেতু হয়েছে মৃত্যু আপনাকে স্পর্শ করবেই করবে। মৃত্যুর কোন বয়স নেই।

মজার বিষয় হচ্ছে আমরা এই শেষ কথাটা বুঝি না; আমরা ধরেই নেই যে একজনের বয়স অনেক হতে হবে, তারপর তাকে মরতে হবে। তা না হলে তার মৃত্যুকে 'অকাল প্রয়াণ' বলে চালায় দিতে হবে। কেন? এর মানে কি দাঁড়ায় যে নির্দিষ্ট একটা বয়সের পর মরলে তাকে 'অকাল প্রয়াণ' তো বলাই হবে না; বরং আমরা ঠেলে তাকে মৃত্যুর মুখে দিয়ে আসবো?

কবর স্থান, প্রচন্ড নিস্তব্ধ এক জায়গা; কিন্তু প্রতিনিয়ত সেই কবর স্থানই পৃথীবির সব চাইতে বড় আওয়াজে আপনাকে জানান দিচ্ছে যে আপনাকে একদিন সেখানে যেতেই হবে। শুনতে পান কি?
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ১:১৪
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

» গাঁও গেরামের ছবি (মোবাইলগ্রাফী-৩৬)

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:৩২



ঘাসের উপর প্রজাপতির ছবি তুলতে গিয়ে, পিপড়েদের কবলে পড়েছিলাম। ঠিকমত ক্লিক দিতে পারছিলাম না তাই ঠাঁয় বসে ছিলাম হঠাৎ কুট কুট কামড় টের পেয়ে তাকিয়ে দেখি পা আমার লালে লাল... ...বাকিটুকু পড়ুন

রফিক ভাই

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:৪২



আমার বাসার সামনেই ফেনী ফার্মেসী।
ফার্মেসীর মালিক রফিক ভাই। রফিক ভাই আমার বন্ধুর মতোন। তবে তার বয়স আমার চেয়ে বেশী। আমি প্রায়ই ফেনী ফার্মেসীতে আড্ডা দেই। রফিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃষ্নচ্ছায়ায় স্বপ্নের অমনিবাস (অবরোহ)

লিখেছেন বিদ্রোহী ভৃগু, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৫২

আলোকিত আঁধার এক
ঘোর কৃষ্নচ্ছায়ায় গ্রাস করে স্বপ্নের অমনিবাস
আত্মমর্যদা বাক স্বাধীনতা
চিরন্তন মুক্তির স্বপ্ন মূখ থুবড়ে, চারিদিকে শকুনির উল্লাস!

ভেজানো পাটা’শের মতো খুলে খুলে আসে মূল্যবোধ
নীতি নৈতিকতা, পরম্পরা- হারিয়ে যায়
হাওয়াই মিঠাই স্বাদে! দুর্বৃত্তায়নের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদী অয়েল-প্রসেসিং প্ল্যান্টে কারা আক্রমণ চালায়েছে?

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:০৩



গত শনিবার (সেপ্টেম্বর, ১৪) সৌদী আরবের আবকিক অয়েল-প্রসেসিং প্ল্যান্টে ড্রোন-গাইডেড মিসাইল আক্রমণ চালিয়ে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় অয়েল-প্রসেসিং প্ল্যান্টটিকে পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়েছে; এতে সৌদীর দৈনিক তেল উদপাদন ক্ষমতা অর্ধেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

চাদ–লিবিয়া যুদ্ধ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ২:০৭



ছবি: যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে টয়োটা যুদ্ধের সময়ে একটি টয়োটা পিকআপ থেকে চাদীয় সৈন্যরা

চাদ–লিবিয়া যুদ্ধ ছিল ১৯৭৮ থেকে ১৯৮৭ সালের মধ্যে লিবীয় ও চাদীয় বাহিনীর মধ্যে সংঘটিত কয়েক দফা বিক্ষিপ্ত যুদ্ধ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×