somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মন চায় মগের মুল্লুক প্রতিষ্ঠা করতে!

০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২১ ভোর ৬:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
সময়টা ২০০৮ থেকে ২০০৯ এর দিকের। বিশ্ব বিদ্যালয়ে ক্লাস করি, ঘুরি ফিরি, টুকটাক ইনকাম করি; আর মগ জমাই!



ভার্সিটিতে আমার একটা ওপেন সিক্রেট বিজনেস ছিলো। এসাইনমেন্ট লেখা, ফরম্যাট করা এবং প্রিন্ট করার বিজনেস। বিনিময়ে খরচের টাকা + মগ!

মেসে যারা একদিন হলেও থেকেছেন, তারা জানেন যে মেসে নিজের পারসোনাল জিনিষ সামলায় রাখা কষ্টের; সেখানে আমার ছিলো প্রায় ৩০০ মগ! নানান ডিজাইনের, নানার ধরনের, নানান বর্ণের মগ। এগুলির কোনটাই আমি ব্যবহার করতাম না। একই ডিজাইন ও কালারের দুইটা মগ রাখতাম না। একই ডিজাইন কিন্তু ভিন্ন কালার হলে সেট বানাতাম।

কোন পার্টিকুলার উদ্দেশ্য নিয়ে শুরু করি নাই; ছোট বেলায় আব্বা একটা মিলিটারী মগ ছিলো, হলদেটে কালারের। ইয়া বড়। ওটায় যেটুকু পানি ধরতো, তা আমার একার পক্ষে পান করা সম্ভব ছিলো না। মগের তলায় একটা গোল কালো দাগ ছিলো। এই টাইপের মগ গুলায় কেন যেন এমন একটা কালো দাগ থাকে।

সেখান থেকে মগের প্রতি আগ্রহ। বিশ্ব বিদ্যালয়ে ভর্তির পর পাতা মেয়ের (আমার দেওয়া নাম) সাথে পরিচয় হওয়ার পর এবং খুব ঘনিষ্ঠতা হবার পর তাকে দেবার জন্য একটা মগ কিনেছিলাম। সারা রাত অনেক জল্পনা কল্পনার পর সঠিক প্লানিং করে সকালে ঘুম থেকে উঠে মনে হলো, বাহ বেশ সুন্দরতো মগটা; রেখে দেই। সেই শুরু।

প্রতি সেমিষ্টারেই প্রায় ৩০-৩৫টা করে নতুন মগ আসতো। এর থেকে ডুপ্লি বাছাই করে মেস মেটদের দিয়ে দিতাম। কারও কারও গার্লফ্রেন্ডের হাতে থাকতো আমার দেওয়া মগ! আমার মগ, অন্যের গার্লফ্রেন্ডের হাতের উষ্মতায়; আহ, ভাবতেই মনটা ভালো হয়ে যায়! এভাবে আরও প্রায় ২০০ মগ বিভিন্ন জনকে দিয়ে দিয়েছ।

একটা সময় পরে এসে আমার অন্য সকল শখের মত এটাও উবে গেলো। গিফট করা শুরু করলাম। জীবনে দ্বিতীয়বারের মত নামের সামনে 'মগা' শব্দটা লেগে গেলো। কারও কোন অনুষ্ঠান হলে আমি ২/৪/৫টা মগ প্যাকেট করে নিয়ে হাজির হতাম। কেউ কেউ মজা করে বলতো, লেট মি গেস তুই আমাকে কি দিচ্ছিস; মগ; রাইট?

বন্ধু-বান্ধবের কটাক্ষ, আত্মীয় স্বজনের বাঁকা চোখ, গার্লফ্রেন্ডের কান্না......... কোন কিছুই আমাকে দমাতে পারে নি; মাত্র ৪/৫ মাসের মধ্যে সব মগ গিফট করা হয়ে গেলো। শেষে এমন অবস্থা, আমার নিজের চাফি খাওয়ার জন্য কোন মগ নাই।

দীর্ঘ ৮/১০ বছর পার হয়ে যাবার পর, ২০১৭তে আবার মগের প্রেমে পড়লাম, সৌদী আরবে এসে। প্লেইন ডিজাইন, কালারটা ধূসর। দাম, বাংলাদেশী টাকায় ১০০ টাকার একটু বেশী। নিয়ে নিলাম।

ঐ ধরনের দোকানে প্রায়সই যাওয়া লাগে; দাড়িয়ে মগ দেখি। মগের মুল্লুক প্রতিষ্ঠা করতে মন চায়। কিন্তু বাস্তবতা আর সায় দেয় না। তাই আমি বর্তমানে আমার ১২টা মগ নিয়েই সুখে আছি!
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২১ ভোর ৬:২৪
১৮টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Dual Currency Card Needed for Meta Monetization. Urgent National Interest.

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:৪৬

ছবি

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে আছি প্রায় চল্লিশ মিনিট। এক জায়গায় এতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে সাধারণত দুই ধরনের সন্দেহ হয়- এক, লোকটা কিছু করতে এসেছে। দুই, লোকটার করার কিছু নেই। আমি কোনোটাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

’দেশ বিক্রির অভিযোগ, কাঠগড়ায় ইউনূস–জামাত–বিএনপি–এনসিপি”

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:১৩

’দেশ বিক্রির অভিযোগ, কাঠগড়ায় ইউনূস–জামাত–বিএনপি–এনসিপি”
==========================================
চুক্তি মানেই তো স্বার্থের ভারসাম্য। কিন্তু সেই ভারসাম্য যখন দেশের স্বার্থকে উপেক্ষা করে, তখন সেটি আর চুক্তি থাকে না প্রশ্নবিদ্ধ সমঝোতায় পরিণত হয়। ইউনূসের শেষ সময়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুপ্তদের সকল অপকর্মের তদন্ত হোক....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:৪৮


সময় যত যাচ্ছে, ততই বেরিয়ে আসছে অস্বস্তিকর সত্য!
সময় গড়িয়ে যাচ্ছে- আর অতীতের অনেক ঘটনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ, সাক্ষ্য ও তথ্য সামনে আসছে-
যেখানে দেখা যাচ্ছে, আওয়ামী... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষকের মর্যাদা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:২৩


কবিতাটার কথা কি মনে আছে? বাদশাহ আলমগীর একদা প্রভাতে গিয়ে দেখলেন, শাহজাদা এক পাত্র হাতে নিয়ে শিক্ষকের চরণে পানি ঢালছে, আর শিক্ষক নিজ হাতে নিজের পায়ের ধূলি মুছে সাফ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প শেখ হাসিনার অবদান।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:০৯

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প শেখ হাসিনার অবদান।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে গত এক দশকে ব্যাপক উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×