
ভার্সিটিতে আমার একটা ওপেন সিক্রেট বিজনেস ছিলো। এসাইনমেন্ট লেখা, ফরম্যাট করা এবং প্রিন্ট করার বিজনেস। বিনিময়ে খরচের টাকা + মগ!
মেসে যারা একদিন হলেও থেকেছেন, তারা জানেন যে মেসে নিজের পারসোনাল জিনিষ সামলায় রাখা কষ্টের; সেখানে আমার ছিলো প্রায় ৩০০ মগ! নানান ডিজাইনের, নানার ধরনের, নানান বর্ণের মগ। এগুলির কোনটাই আমি ব্যবহার করতাম না। একই ডিজাইন ও কালারের দুইটা মগ রাখতাম না। একই ডিজাইন কিন্তু ভিন্ন কালার হলে সেট বানাতাম।
কোন পার্টিকুলার উদ্দেশ্য নিয়ে শুরু করি নাই; ছোট বেলায় আব্বা একটা মিলিটারী মগ ছিলো, হলদেটে কালারের। ইয়া বড়। ওটায় যেটুকু পানি ধরতো, তা আমার একার পক্ষে পান করা সম্ভব ছিলো না। মগের তলায় একটা গোল কালো দাগ ছিলো। এই টাইপের মগ গুলায় কেন যেন এমন একটা কালো দাগ থাকে।
সেখান থেকে মগের প্রতি আগ্রহ। বিশ্ব বিদ্যালয়ে ভর্তির পর পাতা মেয়ের (আমার দেওয়া নাম) সাথে পরিচয় হওয়ার পর এবং খুব ঘনিষ্ঠতা হবার পর তাকে দেবার জন্য একটা মগ কিনেছিলাম। সারা রাত অনেক জল্পনা কল্পনার পর সঠিক প্লানিং করে সকালে ঘুম থেকে উঠে মনে হলো, বাহ বেশ সুন্দরতো মগটা; রেখে দেই। সেই শুরু।
প্রতি সেমিষ্টারেই প্রায় ৩০-৩৫টা করে নতুন মগ আসতো। এর থেকে ডুপ্লি বাছাই করে মেস মেটদের দিয়ে দিতাম। কারও কারও গার্লফ্রেন্ডের হাতে থাকতো আমার দেওয়া মগ! আমার মগ, অন্যের গার্লফ্রেন্ডের হাতের উষ্মতায়; আহ, ভাবতেই মনটা ভালো হয়ে যায়! এভাবে আরও প্রায় ২০০ মগ বিভিন্ন জনকে দিয়ে দিয়েছ।
একটা সময় পরে এসে আমার অন্য সকল শখের মত এটাও উবে গেলো। গিফট করা শুরু করলাম। জীবনে দ্বিতীয়বারের মত নামের সামনে 'মগা' শব্দটা লেগে গেলো। কারও কোন অনুষ্ঠান হলে আমি ২/৪/৫টা মগ প্যাকেট করে নিয়ে হাজির হতাম। কেউ কেউ মজা করে বলতো, লেট মি গেস তুই আমাকে কি দিচ্ছিস; মগ; রাইট?
বন্ধু-বান্ধবের কটাক্ষ, আত্মীয় স্বজনের বাঁকা চোখ, গার্লফ্রেন্ডের কান্না......... কোন কিছুই আমাকে দমাতে পারে নি; মাত্র ৪/৫ মাসের মধ্যে সব মগ গিফট করা হয়ে গেলো। শেষে এমন অবস্থা, আমার নিজের চাফি খাওয়ার জন্য কোন মগ নাই।
দীর্ঘ ৮/১০ বছর পার হয়ে যাবার পর, ২০১৭তে আবার মগের প্রেমে পড়লাম, সৌদী আরবে এসে। প্লেইন ডিজাইন, কালারটা ধূসর। দাম, বাংলাদেশী টাকায় ১০০ টাকার একটু বেশী। নিয়ে নিলাম।
ঐ ধরনের দোকানে প্রায়সই যাওয়া লাগে; দাড়িয়ে মগ দেখি। মগের মুল্লুক প্রতিষ্ঠা করতে মন চায়। কিন্তু বাস্তবতা আর সায় দেয় না। তাই আমি বর্তমানে আমার ১২টা মগ নিয়েই সুখে আছি!
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২১ ভোর ৬:২৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




