আমি মানুষের খুটিনাটি বিষয় খুব একটা খেয়াল করতে পারি না। ভাগ্য ভালো বলতে হব যে আমার বউ তার চেহারার খুটিনাটি বিষয় আমাকে জিজ্ঞাসা করে না!

আমার শশুরের মুখে দাড়ি আছে কি নাই; এই বিষয়টি মাথায় আসবার পর ভিডিও কলে তার সাথে কথা বলে তারপর নিশ্চিত হয়েছি। এর আগে আমি খেয়াল করি নাই তেমন একটা!
আমি এখন পর্যন্ত মাত্র তিনটি মানুষের চোখ প্রথম দেখাতেই খেয়াল করতে পেরেছি। না বেশী, না কম! অবশ্য কেউ কারও চোখ সম্পর্কে কিছু বললে তারপর দেখা, অথবা অন্ধ লোক দেখা, অথবা চোখে ছানি পড়া লোক দেখা এই তিনের মধ্যে না।
সবার প্রথম চোখ খেয়াল করেছিলাম বড় ভাইয়ের এক বন্ধুর। উনি প্রথম যেদিন আমাদের বাড়ি আসেন, তখন ভাইয়া বাড়িতে ছিলো না। মোবাইলের যুগ নয়, তাই উনিও ফোন করে আসতে পারেন নি। আমি আর আমার বড় ভাই নিজেদের বাড়ির কাছেই দেড় রুমের একটা বাসা ভাড়া করে থাকতাম। উনি এসে দরজায় নক করলেন, আমি দরজা খুলেই বুঝতে পারলাম যে এই লোকের চোখ অন্যদের থেকে ভিন্ন; কিন্তু কেন ভিন্ন সেটা ঠিক ধরতে পারলাম না।
কয়েকদিন যাওয়ার পর বুঝেছি যে উনার চোখের মনি ছোট। স্বাভাবিক ভাবে মানুষের চোখের ভিতরের কালো অংশটি যেমন উপরের পাপড়ি ও নিচের অংশে মিশে থাকে, উনার তেমন না। চোখ একটু বড়, আর ভিতরের কালো অংশ বেশ ছোট; উপর নিচে কোথাও ছুয়ে নেই।
দ্বিতীয়বার খেয়াল করি প্রিসিলার চোখ! ওর ডাকনামটা এই মুহুর্তে মনে পড়তেছে না! ফেসবুকে খোঁজার চেষ্টা করলাম; মেয়েটা ইতালী যাবার পর লাপাত্তা হয়ে গেছে। যাই হোক, ওর চোখের কালো অংশটা আমার কাছে প্রথম দেখাতেই সবুজ আর কেমন ডট-ডট মনে হলো। মানুষের চোখ এমন হয় জানা ছিলো না। পরে জেনেছি কন্টাক্ট লেন্স পরা ছিলো।
আমার এর আগ পর্যন্ত কন্টাক্ট লেন্সের জ্ঞান এতটুকুই ছিলো যে মানুষ চশমা না পরে এই লেন্স পরে!
তৃতীয়বার খেয়াল করি লিমিটলেস মুভির নায়কের চোখ! সে কি নীল। নেট ঘেটে জানলাম তার চোখ এমনেই নীল। তবে এতটা নীল? এটা খুব সম্ভবত ভিডিও এডিটিং এর জন্য হয়েছে। কিন্তু আমার মনে ধরে যায় এই চোখ! এরপর নীল চোখ নিয়ে কিছু লেখা পড়া করতে গিয়ে জেনেছি যে দুনিয়ায় নাকি ৮-১০% লোকের চোখ নীল হয়।

আমি এখনও সামনা সামনি কোন একটা নীল চোখ দেখার অপেক্ষায় আছি!
বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কারণে মানুষের চোখ খেয়াল করা লেগেছে। বিশেষ করে আমার একটা পার্টটাইম জবের মূল কারবারের মধ্যে একটা ছিলো মানুষের পাসপোর্টের সাথে চেহারা মেলানো। এই কাজে প্রচুর পরিমানে চোখ দেখা লেগেছে।
ছবি, কিংবা বাস্তব, কোন ক্ষেত্রেই আমার এমন হয়নি যে চোখ দেখে বমি এসেছে। এমনটা মনে হওয়াও অবন্তর! কিন্তু কিছুক্ষণ আগে কিছুটা বমিই করে দিয়েছি!
অনলাইনে পত্রিকা পড়ছিলাম, একটা মেয়ের ছবি ছিলো আর্টিকেলের মধ্যে। চোখের মধ্যটা দেখে মনে হলো পুজ জমে আছে! মূলত এই মডেল কন্টাক্ট লেন্স দিয়ে চোখের কালার বদলেছেন; আর ফটোগ্রাফার/এডিটর এই ছবিতে অন্যরকম মাত্রা আনতে গিয়ে কালার চেঞ্জ করে পুরাই পুজ বানায় ফেলছে!
এক্টুসখানিকের জন্য আমার ম্যাকবুক বাইচা গেছে বমির থেকে! কিন্তু এত রাত্রে ঘর পরিস্কার করা ঝামেলার হয়ে দাড়িয়েছে। ঘুমানোর দরকার ছিলো; সকালে একটা কাজ আছে। খুব ভোরে উঠে সেখানে যেতে হবে। সাধারণত শুক্রবারে ফজরের পরে আমি একটু ঘুমাই। আজকে সেটা সম্ভব হতো না। ফজরের আগেও এই চোখটার জন্য ঘুম সম্ভব হবে বলে মনে হচ্ছে না।
আগামীকাল এ অবস্থাতেই প্রায় ৬০০ কিলো মিটার ড্রাইভ করা লাগবে!
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে নভেম্বর, ২০২১ ভোর ৪:২৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




