somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একখান আই্ফোন হারাইছি! আর পাইয়াছি কষ্ট!

১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ বিকাল ৫:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
ছুডো বেলা থেকে স্কুলে যাওনের উপরে আমার খুব খুব খুব অনিচ্ছা ছিলো। যদিও স্কুলে ভর্তি হওনটা ছিলো আমার ইচ্ছাতে।


নভেম্বরে যখন আম্মা বলিলেন যে আগামী বছর স্কুলে ভর্তি করাইয়া দিবেন, তখন আবেগে উদ্বেলিত হইয়া গেলাম। ভাবিলাম নতুন বই হাতে পাইবো। আম্মা শুধাইলেন, এতদিন যেগুলি পড়িতেছি (ক্লাস ওয়ানের বই) ওগুলিই পড়িতে হইবে।

আমি ছুডো বেলায় খুব মাত্রায় কানকুরে ছিলাম। যাহারা জানেন না কানকুরে কি, তাহাদের বলি, দু-একটা বাচ্চাকাচ্চাতো দেখিয়াছেনই, যাহারা কান্না শুরু করিলে থামিতে চায় না। ওগুলিকেই আমগোর এলাকায় কানকুরে বলে।

যাই হউক, নভেম্বরে কান্না শুরু করিলাম, ডিসেম্বরে আম্মা কানে ধরিয়া স্কুলে হেড মাষ্টারের কাছে লইয়া গেলেন। আমাকে বলিলেন, একবারে পরীক্ষা দেও, যদি পাশ করো, তাহলে ক্লাস টুতে উঠিবা, না হইলে ক্লাস ওয়ানেই আবার। বড় হইয়া জানিয়াছি আব্বা-আম্মা আর হেড মাষ্টার মিলিয়া আমার বিরুদ্ধে এক গোলযোগ পাকাইয়াছিলেন। তাহাদের ইচ্ছা ছিলো যে ভাবে হউক, আমাকে পরীক্ষায় ফেল করাইয়া আবার ক্লাস ওয়ানে রাখিতে হইবে।

যাই হউক, এত ভালো পরীক্ষা দিয়াছিলাম যে ক্লাস টিচার আমারে ক্লাস টুতে উঠাইয়া দিলেন। জানুয়ারীর চরম শীতের মধ্যে যখন সকাল ৭টায় সূর্য উঠিবার সাথে সাথে যখন স্কুলে পৌছাইতে হইতো, মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে স্কুলে যাওয়ার প্রতি চরম বিরক্তি চলিয়া আসিল। যাহা ভার্সিটি পর্যন্ত বলবৎ ছিলো।

প্রতিদিন ভাবিতাম, যদি স্কুল বন্ধ হইয়া যাইতো, কতই না ভালো হইতো। পরীক্ষার আগের রাত্রে মনে হইতো ভুমিকম্প কিংবা বন্যা হইয়া স্কুল শ্যাষ হইয়া গেলেই ভালো! আফসোস, আমাদের এরিয়াতে না হয় ভুমিকম্প, না হয় বন্যা। পাশের দেশের দাদারা যখন পানি ছাড়িয়া দেন, তখন আমরা শুধু পত্রিকা আর টিভির খবরেই দেখি যে অন্য এলাকা ভাসিয়া যাইতেছে। আর ঢাকার মানুষ যখন ভুমিকম্পের পরপর রাস্তায় খাড়াইয়া থাকেন, আমরা তখনও নাক ডাকিয়া ঘুমাই!

দিন যায়, মাস যায়, বছর যায় এমনকি যুগও যায়, সেই স্কুল আর বন্ধ হয় না। অবশেষে বন্ধ হইলো যখন করোনা শুরু হইলো। বিরক্তির এক শেষ! হইতেই যখন হইবে, আগে কেন হইলি না?

তো, শ্যালককে বলিলাম, বাচাধন, যদি এমন হয় যে এইচএসসি পরীক্ষা না দেওন লাগে, আর অটো পাশ পাইয়া যাও, তাহা হইলে তুমারে আমি একখান আইফোন দিবো। শ্যালক বলিলো, দুলাভাই, টাকা জমান।

আমি টাকা জমাই নাই। ভাবিয়াছিলাম এইতো কাল বা পরশু হয়ত কলেজ খুলিয়াই যাইবে! কিন্তু কিসের কি? শ্যালক আমার অটো পাশ করিয়া কিছুদিন আগে ভার্সিটিতে ভর্তি হইয়াছে।

স্ত্রীকে বলিলাম, আমার বেতন হইতে কিছু টাকা কর্তন করিয়া তাহাকে আইফোন দিয়া দাও। তিনি বলিলেন, ওর জন্য অপ্পোই যথেষ্ট; বেশি হইলে শাওমি!

স্ত্রীর লাল চোখ এড়াইয়া শ্যালককে একখানি আইফোন দিলাম। গরিব দুলাভাই লেটেষ্ট মডেলেরটা দিতে পারে নাই, লেটেষ্টের আর্ধেকটা দিছে। শ্যালক তাতেই খুশি। আর দুলাভাই ছলছল চোখে তাকাইয়া রহিলো। ছলছল চোখ এই জন্য নয় যে কিছু টাকা খসিয়া গেলো, বরং এই জন্য যে "সেই তো স্কুল বন্ধ হলো, আর কটাদিন আগে বন্ধ হলে কি হতো"?

Photo by AltumCode on Unsplash
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ বিকাল ৫:২৭
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দুমুখোচিন্তা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:১৬

সব মৃত্যু গণনায় আসে না। রাজনৈতিক সহিংসতার একটি পুরনো নিয়ম আছে। মৃত্যু সমান মৃত্যু নয়। কোনো মৃত্যু পত্রিকার প্রথম পাতায় যায়, কোনো মৃত্যু জয়পুরহাটেই থেকে যায়। এই বাছাইটা দৈবাৎ হয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিটিজেন ভিজিল্যান্টি থেকে কালেমার মিছিল: সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কতগুলো অশনি সংকেত - প্রথম পর্ব

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৮


গত মাসে আমেরিকায় "সিটিজেন ভিজিল্যান্টি" নামে মুসলিম ও অভিবাসীবিদ্বেষী একটি সিনেমা মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রটি প্রথমদিকে দর্শকদের মধ্যে তেমন জনপ্রিয় হয়নি। পরে যখন ইলন মাস্ক এক্স প্ল্যাটফর্মে তার ২৪ কোটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

'গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড' আন্দোলন কেন ব্যর্থ হলো

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



মাও সে তুং-এর গৃহীত "গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড" (১৯৫৮-১৯৬০) আন্দোলনটি মূলত অবাস্তব লক্ষ্যমাত্রা, চরম অব্যবস্থাপনা এবং ভুল কৃষি নীতির কারণে মানব ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ অর্থনৈতিক ও মানবিক বিপর্যয়ে পরিণত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগ ফিরতে পারে, তবে…

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:২০




১। ২০১২ থেকে সংঘটিত আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১২ বছরের গু/ম, খু/ন, অ*পশাসন, গণতন্ত্র হ*ত্যা, নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বং*স, দুর্নী*তি, বাকস্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার হরণের মাত্রা এমন চরমই ছিল যে, শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাসাগরের ধারের সেই ছোট্ট দ্বীপ সামোয়া এবং বিশ্বকাপ ফুটবল

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩২

বিশ্বকাপের এই মৌসুমে ফুটবল নিয়ে একটা দারুণ হার্ট লিফটিং মুভি দেখে ফেললাম - "Next Goal Wins"
গল্পটা আমেরিকান সামোয়ার জাতীয় ফুটবল দলকে নিয়ে। ২০০১ সালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩১-০ গোলে হেরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×