somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রশ্ন করাই স্মার্টনেস নয়, সমাধান বের করাটাই স্মার্টনেস!

২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ রাত ২:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রচন্ড শরীর খারাপ ছিলো। কোন অবস্থাতেই অফিসে যাওয়ার ইচ্ছা ছিলো না। ম্যানেজারকে জানিয়ে দিলাম যে আজকে আমি সিক লিভ নিতে বাধ্য হচ্ছি।



প্রতি বছর আমাদের কোন প্রমানাদি না দেখিয়েই ৭দিন সিক লিভ নেওয়া যায়। গত তিন বছরে আমার সিক লিভের পরিমান কখনোই ৩ এর বেশী যায়নি পুরা বছরে। সেহেতু ম্যানেজার কোন কথা না বলেই মেনে নিলেন; শুধু মনে করিয়ে দিলেন যে ১০:৩০ এ মিটিং এ জয়েন করতে।

আমাদের নতুন একটা সিষ্টেমের গ্লোবাল রোলআউট হচ্ছে আগামী মাসে। সেটা কিভাবে কাজ করবে, কি কি পলিসি তৈরী করা হয়েছে সেগুলির বিষয়েই আজকের মিটিং।

মিটিং এ দেখা গেলো যে নতুন পলিসিতে বেশ কিছু ঘাপলা আছে। যেগুলি আমাদের কাজকে সহজ তো করবেই না; বরং কাজ করাকেই অসম্ভব করে দিবে!

কয়েকজন দেখি মিটিং এর মধ্যে এমন সব আজব প্রশ্ন করা শুরু করলো যে উত্তরদাতা বিপাকে পড়ে গেলো। এমনকি একজন সরাসরি প্রশ্ন করে বসলো যে তারা বর্তমান প্রচলিত পলিসি পড়ে দেখেছেন কি না!

----------------------------------

প্রশ্ন, এমন একটা বিষয়, যেটা আপনার একটা মন্দ আইডিয়াকে ভালো, ভালো আইডিয়াকে আরও ভালো কিংবা চরম ভালো আইডিয়াকে মাটিতে মিশিয়ে দিতে পারে।

একটা বই পড়েছিলাম। নাম start with why। বইটি পড়বার মত একটি বই। এটা আপনাকে মহাজ্ঞানী বানিয়ে দিবে না। কিন্তু আপনাকে কিছুটা হলেও ভাবতে শিখাবে। এই বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ একটা কথাই হচ্ছে, যে কোন কাজ করবার আগে শুরু করুন কেন করবেন সেটা দিয়ে।

বিভিন্ন গ্রুপ মিটিংএ আমারা সাধারণ একজন দুইজন মানুষ এমন পাই, যারা প্রশ্ন করেন এমন প্রশ্ন, যে উত্তরদাতা আটকে যান। আবার কেউ কেউ প্রশ্ন করেন এমন প্রশ্ন যে উত্তরদাতার মনে হতেই পারে যে তাকে উঠিয়ে আছাড় দেই!

পয়েন্ট আকারে কিছু কথা দিচ্ছি, এগুলি একটু গভীরে চিন্তা করুন। এগুলি ফলো করুন, আগামী মিটিং এ আশা করা যায় কেউ আপনাকে তুলে আছাড়া দিতে চাইবে না!

১. প্রথমে চিন্তা করুন যে আপনি আসলে কি জানতে চান, জানাটা জরুরী কি না। শুধু প্রশ্ন করার জন্য একটা প্রশ্ন করার কোন মানে নাই।
২. কি জানতে চান সেটা বোঝার পর বুঝুন যে আপনার জানতে চাওয়ার উদ্দেশ্য কি। কাউকে আটকে দেওয়া? নাকি বিষয়টা সম্পর্কে আরও ক্লিয়ার হওয়া। যদি কাউকে আটকে দেওয়া আপনার উদ্দেশ্য হয়, তাহলে থামুন; প্রশ্ন করার কোন দরকার নাই।
৩. যদি সম্ভব হয়, এমন ভাবে প্রশ্ন করুন, যাতে উত্তর দাতা হ্যাঁ বা না দ্বারা উত্তর দিতে পারে। প্রয়োজনে আপনার প্রশ্নের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করুন। তবে অতিরিক্ত সময় নিবেন না।
৪. কাকে প্রশ্ন করবেন এটা জরুরী। যদি আপনি নিশ্চিত না থাকেন যে মিটিং এ আপনার প্রশ্নের উত্তরটি কে দিবে, তাহলে সেটা প্রথমেই ব্যাখ্যা করে নিন। আমি এই মুহুর্তে মাইকে আছি বলেই আমাকেই প্রশ্নটি ছুড়ে দিবেন এর কোন মানে নেই। আমি বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে পারি।
৫. কখন প্রশ্ন করবেন সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। মিটিং এর প্রথমেই সাধারণত ঘোষণা করা হয় যে শেষে প্রশ্নোত্তর পর্ব থাকবে কি থাকবে না। অনেক সময় প্রেজেন্টেশনের মধ্যেই প্রেজেন্টার জিজ্ঞাসা করেন যে এ বিষয়ে কারও প্রশ্ন আছে কি নাই। যদি এমন ভাবে জিজ্ঞাসা করে, তাহলে তখনই প্রশ্ন করুন। নচেৎ শেষের জন্য অপেক্ষা করুন।
৬. আপনার উত্তর দেওয়ার জন্য সুযোগ দিন। অনেক মানুষ নিজেকে এতটাই স্মার্ট মনে করেন যে উত্তরদাতা উত্তর শেষ করার আগেই সম্পূরক প্রশ্ন ছুড়ে দেন কিংবা নানান অঙ্গভঙ্গি করতে থাকেন। ফলে যিনি উত্তর দিচ্ছেন, তিনি খেই হারিয়ে ফেলেন। এমনটা করা কখনোই উচিৎ নয়। আগে শুনুন তিনি কি বলছেন, তারপর প্রয়োজনে সম্পূরক প্রশ্ন করুন।
৭. যদি আপনি উত্তর না পেয়ে থাকেন, তাহলে প্রথমে দেখুন যে বাকি জনতা ঐ প্রশ্নের উত্তর পেতে চায় কি না। যদি সবাই বা বেশীরভাগ লোক চায়, তাহলেই সেটা নিয়ে আরও আলোচনা করুন। না হয় উত্তর দাতাকে জানিয়ে দিন যে আপনি পরে তার সাথে এটা নিয়ে আলোচনা করতে চান। এবং কারণ হিসাবে আপনার আরও জানার আগ্রহ ব্যক্ত করুন। এমন ভাবে বলবেন না যেন মনে হয় মিটিং শেষে তার মাথা ফাটাবেন!
৮. ধন্যবাদ দিতে ভুলবেন না। আপনি প্রশ্নের উত্তর পান বা না পান, উত্তরদাতাকে সুন্দর করে ধন্যবাদ দিতে ভুলবেন না।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ রাত ২:৫৫
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

গরীবের বউ সবার ভাবি

লিখেছেন অপলক , ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০২



৩৬ জুলাই আন্দোলনের পর অনেক আশায় ছিলাম। আশার গুড়ে বালি। তত্বাবধায়ক সরকারের সময় বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক গভর্ণর ড. আহসান এইচ মনসুর বুদ্ধিদীপ্ত প্ররিশ্রম করে ২০২৬ জানুয়ারীতে রিজার্ভে রেখে গেছেন ৩৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×