somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মিথ্যা বলে ধর্ম প্রচার হয় কি?

২৩ শে নভেম্বর, ২০২২ সন্ধ্যা ৭:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

টাইটেলের করা প্রশ্নের উত্তর যদি খুঁজতে আসেন, তাহলে সহজ উত্তর জেনে নিন, না, মিথ্যা বলে ধর্ম প্রচার হয় না, সম্ভব না।



বিভিন্ন সময়ে দেখবেন ধর্ম নিয়ে কোন একটা খবর বের হবার সাথে সাথে তার চাইতে বেশী প্রচার-প্রসার পায় মিথ্যা কিছু নিউজ। মিথ্যা নিউজ গুলি এত বেশীই প্রচার পায়, যে সত্যটাকে তখন খুঁজে পাওয়াই কষ্টের হয়ে দাড়ায়। দেখা যায় যারা নিজেদের ধার্মিক মনে করে, তারাই এইসব মিথ্যা প্রচার করে। কিন্তু কেন?

এর উত্তর খোঁজা কঠিন। তবে তার থেকে সহজ হচ্ছে এটা বোঝা যে কারা "প্রথম" এই মিথ্যা ছড়ায়। কারণ সব ঘটনার পিছনে এই "প্রথম" মিথ্যা সংবাদ ছড়ানোতে কারও না কারও লাভ থাকে।

আলোচনা আরও গভীরে যাবার আগে একটা বিষয় ক্লিয়ার করে নেই। যারা মিথ্যা কথা না যাচাই করেই ছড়িয়ে বেড়ায়, তাদের বিষয়ে আমার কি ধারণা। আমার ধারাণা তারা মিথ্যাবাদী। কারণঃ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন লোকের মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শুনে (সত্যতা যাচাই না করে) তা-ই বলে বেড়ায়। (সহীহ : মুসলিম ৫, ইবনু আবী শায়বাহ্ ২৫৬১৭)

আমি অন্য কোন ধর্মে মিথ্যার বিষয়ে জানি না, তবে ইসলামে মিথ্যার বিষয়ে বেশ কড়াকড়ি আছে।

হিযাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘‘অকল্যাণ হোক সে ব্যক্তির যে মানুষকে হাসানোর জন্যই মিথ্যা কথা বলে। অকল্যাণ হোক সে ব্যক্তির; অকল্যাণ হোক সে ব্যক্তির’’। (তিরমিযী ২৩১৫)

হাসানোর মত সাধারণ কাজে যে ধর্মে মিথ্যার নিষেধাজ্ঞা আছে, সেখানে সিরিয়াস কিছু নিয়ে মিথ্যাচার চরম বড় অপরাধ।

তাহলে মিথ্যার প্রচার করে কারা?
মিথ্যা তথ্য গুলির প্রচার সাধারণত নিজেদের ধার্মিক মনে করে এমন লোকেই করে থাকে। কারণ এদের ৯৯%ই আবেগী হয়। এরা মনে করে ধর্মের নামে যা আসে তা প্রচার করতে পারাটাই বড় একটা ভালো কিছু। আবেগ তাড়িত এই মানুষ গুলি তাই যা সামনে পায়, তাই প্রচার করে। এরা আলুর ভিতরে সৃষ্টিকর্তার নাম পাক, আর চাঁদের ভিতরে কারও ছবি দেখার খবর পাক, বিচার বিবেচনা না করেই প্রচার করে।

এদেরকে সাধারণত সিরিয়াস ভাবে নেওয়ার কিছু নাই, তবে হ্যাঁ অনেক সময়ই সিরিয়াস কিছু হয়ে যায়। ধর্মীয় দাঙ্গা ছড়াতে এদের ভূমিকা বিশাল।

তাহলে সব দোষ কি এই আবেগীদের?
এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়াটা সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনার উপরে। আপনি কে, কিভাবে চিন্তা করেন, কি বোঝেন, কি মানেন এগুলির উপর সম্পূর্ণ নির্ভর করে।

আপনি নিজে যদি সত্যিই ধার্মিক হন, কিন্তু এই ধরণের মিথ্যা প্রচারের থেকে নিজেকে দূরে রাখেন, বা এই ধরণের মিথ্যা প্রচারকে অপছন্দ করবেন, আপনি দেখতে পাবেন যে উপরে বলা আবেগীদের আপনি সম্পূর্ণ দোষ দিতে পারবেন না। কারণ আপনি খুব ভালো করেই জানেন যে এরা মিথ্যাটা প্রচার করছে ঠিকই, কিন্তু এরা আদতে মিথ্যাটার শুরু করে নি!

এবার আসি যারা আসলেই ধার্মিক না, নামকাওয়াস্তা ধর্ম মানে এবং অন্য দল যারা ধর্ম বিদ্বেষী, তাদের চোখে এই "আবেগী"রা কেমন। তাদের চোখে সব দোষ এই আবেগীদেরই। কে মিথ্যা শুরু করেছে সেটা তারা জানতে চায় না "ইচ্ছা করে"। কারণ সেটা জানতে চাইলে তাদের ঐ আবেগীদের উপর দোষ চাপানোটা কঠিন হয়ে যায়।

কেন ৯৯.৯৯% আবেগীরা মিথ্যা তৈরী করে না, কিন্তু প্রচার করে?
আবগী হলেও এরা কিন্তু জানে যে মিথ্যাটা ভালো কাজ না, গর্হিত কাজ। তাই এরা এ পথে পা বাড়ায় না। কিন্তু তারা যেহেতু আবেগী, একটা কথা তাদের সামনে পড়লে তারা আর যাচাই-বাছাই না করেই সেটা প্রচার করতে থাকে। বিপত্তিটা তখনই বাধে।

তাহলে মিথ্যাটা বানায় কারা?
মিথ্যাটা বানায় মূলত আগে বলা ০.০১% আবেগী, এবং ধর্ম বিদ্বেষীরা।

কালে ভাদ্রে কিছু আবেগী (এদের খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন) ভাবে যে এইটা বললে হয়ত ধর্মের সৌন্দর্য্য (?!) প্রকাশ পাবে; এবং এটা ভেবেই কিছু প্রচার করে।

আর আছে ধর্ম বিদ্বেষীরা। আমি বলছি না যারা ধর্ম-কর্ম করে না তারা, আমি বলছি ধর্ম বিদ্বেষীরা। ধর্ম বিদ্বেষীরা সব সময় কোন না কোন ধর্মের ও সেটার ফলোয়ারদের ক্ষতির চেষ্টায় লিপ্ত থাকে। এবং এই উদ্দেশ্যেই মূলত এরা মিথ্যা গুলির তৈরী করতে সচেষ্ট থাকে।

এর সাথের আছে বিভিন্ন রকম ফায়দা নেওয়া লোকজন। সেটা রাজনৈতিক হতে পারে, ব্যক্তিস্বার্থে হতে পারে, আরও বিভিন্ন কারণে হতে পারে। আমাদের দেশে বিভিন্ন সময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকের উপর আক্রমনে এই ধরণের লোককে মিথ্যা তৈরীতে দেখা যায়। আবার ভারতে সেটা হয় মুসলিমদের উপর আক্রমণের ক্ষেত্রে।

তৃতীয় পক্ষ
একদল বানায়, আর একদল প্রচার করে। তাহলে তৃতীয় পক্ষ কারা? এরা মজা নেয়! এদের মূল কাজ হচ্ছে মাজ নেওয়া!

ধরেন ফিলিস্তিনে ইসরাইল হামলা চালালো, এদের ব্লগ বা ফেসবুক ঘুরেন, এরা কিচ্ছু বলবে না। এদের ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম ভরে থাকবে অন্য সব কিছু নিয়ে। কিন্তু এরা এমন কঠিন সময়ে বারেবারে এদিক ওদিক তাকাবে যে কখন একটা ভুয়া খবর প্রচার হবে। যেই না একটা ভুয়া খবর প্রচার পাবে, এরা তখনই ঐ ভুয়া খবরের বিরুদ্ধে কথা বলা শুরু করবে। এমন একটা ভাব নিবে যে সে যেন ফিলিস্তিনে যাচ্ছিলো নিপিড়িত মানুষদের সাহায্য করতে, কিন্তু এই ভুয়া খবর দেখে সে আসলে কনফিউজড যে আসলেই ওখানে কিছু হচ্ছে কি না।

বিশ্বাস করেন, এরা খুব বেশী মাত্রায় বিষাক্ত। না, যারা মিথ্যাটা তৈরী করেছে তাদের মত বিষাক্ত নয়, তবে যারা প্রচার করে বেড়াচ্ছে, তাদের থেকে হাজার গুনে বিষাক্ত। এরা নানান ধরণের এক্টিভিটির মাধ্যমে ঐ মিথ্যা যারা তৈরী করেছে, তাদের সহোযোগীতা করে।

--------------

আমাদের করণীয়ঃ
আমি ধর্মিক হই বা অধার্মিক হই, আমার মূল কাজ হওয়া উচিৎ এসব ক্যাচাল থেকে দূরে থাকা। এবং আমার জানা পরিচিত মানুষ গুলিকে এগুলি থেকে দূরে রাখা।

এই ধরণের বিশ্বকাপের শুরুর সাথে সাথেই কিছু লোক দেখলাম জাকির নায়েকর লেকচার শুনে ৪জন ধর্মান্তরিত হয়েছে এমন খবর প্রচার করতে। আমি যাকেই দেখেছি, তাকে অনুরোধ করেছি এই মিথ্যা নিউজ সরাবার জন্য। এবং বেশীরভাগ মানুষই সেটা সরিয়ে নিয়েছে।

কিন্তু আমারই কিছু আত্মীয় স্বজন আছে, এরা এটা করে নি, বরং ফেসবুকে জ্বালাময়ী পোষ্ট দিয়ে এ আবাগীদের গুষ্টি উদ্ধার করে ছেড়ে দিয়েছে। এমনই একজনের মামাত ভাই দেখলাম ঐ পোষ্ট দিয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসা করলাম যে তোর ভাইকে কি বলেছিস এটা মিথ্যা। ওর উত্তর বলে লাভ হয় না, তাই বলি নাই!

--------------

আপনি যত সময় পর্যন্ত দোষীকে দোষী বলতে নারাজ, তত সময় কিন্তু আপনি নিজেই একজন দোষী।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে নভেম্বর, ২০২২ সন্ধ্যা ৭:২৯
১৪টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন কিশোর মুক্তিযোদ্ধার চোখে স্বাধীনতা যুদ্ধে বুকাবুনিয়া.........

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০২ রা ডিসেম্বর, ২০২২ সকাল ১০:১৩

একজন কিশোর মুক্তিযোদ্ধার চোখে স্বাধীনতা যুদ্ধে বুকাবুনিয়া.........

অযত্নে অবহেলায় পড়ে আছে মহান মুক্তিযুদ্ধে নবম সেক্টরের অধীনস্থ বরগুনার বামনা উপজেলায় সাব-সেক্টর হেড কোয়ার্টার বুকাবুনিয়া এবং এখানকার মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ। এখানে নেই স্বাধীনতা পরবর্তী... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহ সাহেবের ডায়রি ।। ইয়াজিদি

লিখেছেন শাহ আজিজ, ০২ রা ডিসেম্বর, ২০২২ সকাল ১১:৫৮




ইয়াজিদিঃ ইয়াজিদিরা বিশ্বাস করে আদম (আ) সন্তানের সাথে বেহেশতি হুরের বিবাহের পরিণতিতে তাদের সৃষ্টি হয় আর অন্যান্য সকল ধর্মের মানুষদের সৃষ্টি হয়েছে আদম আর বিবি... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন বিশ্বকাপের রেফারি স্টিফানি ফ্রাপার্ট

লিখেছেন হাসান কালবৈশাখী, ০২ রা ডিসেম্বর, ২০২২ দুপুর ২:৩৪



কাতারে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি ম্যাচ পরিচালনা করলেন একজন নারী রেফারি।
এই ফরাসি নারী গ্রুপ-ই এর একটি কঠিন বাঁচা মরার খেলা কোস্টারিকা বনাম জার্মানির ম্যাচ সফলভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেরেস্তারা তখন কোথায় ছিল?

লিখেছেন মোহাম্মদ গোফরান, ০২ রা ডিসেম্বর, ২০২২ বিকাল ৩:৩৭


প্রথমে ছোট্ট আয়াতকে অমানবিক ভাবে অপহরণ করা হয়। তারপর তার ছোট্ট গলাটাকে চেপে ধরা হয়। বেঁচে থাকার তীব্র আর্তনাদ একটুকুও মায়ার জন্ম দেয়নি পাষান কুকুরের বাচ্চাটির হৃদয়ে। (আমি দু:খিত কুকুরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জানা অজানা - হজ্জ বা ওমরা করার সময় সন্তান সম্ভবা মায়েদের সন্তান প্রসব

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০২ রা ডিসেম্বর, ২০২২ বিকাল ৫:২৮

সন্তান সম্ভবা মায়েদের সন্তান প্রসবের নির্দিষ্ট মুহূর্ত বা সময় যেহেতু আগে থাকতে বলা মুশকিল তাই অনেক সময় জরুরীভাবে যেখানে যে অবস্থায় আছে সেখানেই সন্তান প্রসব হয়ে যায়। প্লেনের টয়লেটে, রাস্তায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×