পেনসিলভেনিয়ার ঈদ বনাম ঢাকার ঈদ(একটি আত্নোপলব্ধিমুলক পোষ্ট)
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
আজ আপনাদের সাথে আমি আমার ব্যাক্তিগত কিছু স্মৃতিচারনমুলক বিষয় শেয়ার করব।আমার জন্ম ঢাকায় মিরপুরে,বড় হয়েছি মিরপুর-৭ এ প্রায় ১৫ বছর সেখানে থাকি।তারপর নিজেদের সুউচ্চ দালানে চলে আসি মিরপুর-১২, ডি ব্লকে।মিরপুর-৭ এ থাকাকালীন সময়ে মিরপুর বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়তাম। তারপর ঢাকা কলেজে। দুটোই ছেলেদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকায় তখন কোন মেয়ের সাথে প্রেম হয়নি। কোচিং সেন্টারে মেয়েরা থাকলেও শুধুই ক্লাসমেট,তেমন ঘনিষ্ঠ কারো সাথে সম্পর্ক হয়নি, কম্পিউটারে হাতেখরি হয় ক্লাস ফাইভ-সিক্সে থাকাকালিন,এরপর বাসায় পিসি না থাকলেও সাইবার ক্যাফেতে যেয়ে নেট সার্ফ করেছি প্রায়ই।বিশেষ করে কলেজে থাকাকালিন বন্ধুদের সাথে। এক সময় ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছা থাকলেও ইজ্নিনিয়ার হওয়ায় সে ঘাটতিটা কিছুটা হলেও পুরন হয়। কম্পিউটার ইজ্নিয়ারিয়ারিং শেষ করার পর ডিভি পেয়ে কিছুদিনের ভিতরে আমেরিকা চলে আসি। অফিসার পোষ্টে জব করি ভাল একটা কোম্পানিতে তারপর দেশে যাওয়ার কারনে জব চলে যায়, এখন যে কোম্পানিতে ষ্টোর ম্যানেজার হিসেবে জব করছি সেটিও ভাল,জব করে স্যাটিসফাইড।ছোটবেলায় ঈদ করতাম মামার বাসায়,ফুফুর বাসায় বেড়াতে যেতাম,দাদাবাড়ি বরিশাল গেলে আরও বেশি দুষ্টুমি হত বাবা-মার পায়ে সালাম করে সেলামি চেতাম,সেসব ঘটনা মনে পড়লে মনে হয় কেন যুবক হলাম শিশু-কিশোর থাকলে মজা হত আরও বেশি।পেনসিলভেনিয়ার ঈদ ঢাকা বা বাংলাদেশের তুলনায় নিরামিষ বা পানসে বলাটাই যুক্তিযুক্ত ,নামাজ সকালে পড়ে কিছু খেয়ে আবার জবে যেতে হয়, মসজিদে কয়েকজনের সাথে কোলাকুলি করি,কথা বলি দেশে,ঈদ মোবারক জানাই পরিচিত জনদের, কাজে ছুটি পাই খুব কম।আশেপাশে ঘোরার জন্য রবিবার একটু সময় পাই তাও মাঝে মাঝে শপিং করতে হয় বা ঘুমানোর ব্যাকআপ দিতে হয়।ঢাকায় থাকলে ঘোরাফেরা,খাওয়া দাওয়া এবং অন্যন্য দিক আরও এনজয়েবল হতো।সম্পুর্ন দিক চিন্তা করলে দেশে থাকলে যতটা আনন্দ হয় এখানে আমি একা থাকার কারনে ততটা আনন্দ ভোগ করতে পারিনা যতটুকু পাই ততটুকু নিয়েই সন্তুষ্ট থাকি।পাশের সহকর্মীদের সাথে মাঝে মধ্যে গল্প করি মন ভাল করার চেষ্টা করি।যুবক বয়স থেকে মধ্যবয়সের দিকে অগ্রসর হচ্ছি,বিয়েশাদী কবে করব আল্লাহই তা ভাল বলতে পারবে।আমেরিকায় এই নিয়ে তিনটি ঈদ কাটালাম, কিভাবে যে এখানে ঈদ চলে যায় তা টেরই পাইনা।দেশের বাইরে থেকেও দেশের খবর প্রতিনিয়তই পাই যদিও নেগেটিভ সংবাদ দেখতে দেখতে প্রায়শই ত্যাক্ত বিরক্ত হয়ে যাই। পেনসিলভেনিয়ায় তোলা কিছু ছবি আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম--






১২টি মন্তব্য ৭টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন
ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন
শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন
কবিতাঃ পাখির জগত

টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।
টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।
বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন
মোহভঙ্গ!

পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।