somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আওয়ামী লীগ কি তার কফিনের শেষ পেরেকটাও ঠুকে দিল??

০১ লা আগস্ট, ২০১৩ বিকাল ৪:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজকে আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে আওয়ামী লীগ দ্বিতীয় গুলিটি ছুড়ল। আগের গুলিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আর এই গুলিতে ঘায়েল হল জামাতের নিবন্ধন ( দল হিসেবে নিশিদ্ধ নয় )। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের বিষয়টি যেমন দেশকে এক গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে, একই ভাবে জামাতের নিবন্ধন বাতিল কি খুব শুভ হবে??

প্রাথমিক সংবাদে যা বুঝা গেল তার সারমর্ম হচ্ছে - পঞ্চদশ সংশোধনীর আগে সংবিধানে যখন 'আল্লাহর উপর পুর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস' উপস্থিত ছিল তখন জামাতের নিবন্ধন ঠিক ছিল। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এই বিষয়টি তুলে দিয়ে সেকুলারিজম ( ধর্মীয় প্রভাবমুক্ত রাস্ট্র ব্যাবস্থা ) সংবিধানে সংযোজনের ফলেই জামাতের নিবন্ধন সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক হয়েছে বিধায় তা বাতিল করা হল। মুল সমস্যাটা হয়েছে জামাতের গঠনতন্ত্রের 'সকল ক্ষমতার উৎস আল্লাহ' এই বিশ্বাসটি - যা নতুন সেকুলার সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক। অর্থাৎ এই নিবন্ধন বাতিল জামাতের '৭১ এর ভুমিকার জন্য নয় - বরং আওয়ামী লীগের করা সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর জন্য।

আগে থেকেই মানুষের কাছে আওয়ামী লীগের ইসলাম বিরোধী একটা পরিচিতি ছিল - শাপলা চত্তরের গনহত্যা যা প্রকটতর করেছে। এখন এই রায়ের মাধ্যমে বিষয়টা আরো পরিষ্কার হল। এখন দেখার বিষয় জনগন বিষয়টি কিভাবে নেয়। সাধারণ মানুষতো আইন আদালতের বিষয়গুলি অত বিস্তারিত দেখে না তারা দেখবে 'আল্লাহর উপর পুর্ণ বিশ্বাস' বা 'আল্লাহ সকল ক্ষমতার উৎস' এই বিশ্বাসের কারণে আওয়ামী লীগ জামাতের নিবন্ধন বাতিল করেছে - অথচ এই দুটিই যেকোন মুসলমানের অন্যতম মৌলিক বিশ্বাস। এখান থেকে যদি তারা নিশ্চিত হয় যে আওয়ামী লীগ ক্ষমতার উৎস হিসেবে আল্লাহর উপর মোটেই বিশ্বাস রাখে না তাহলে সেটা সাধারণ ধর্মপ্রান মানুষের কাছে কিছুতেই গ্রহনযোগ্য হবে না।

সুতরাং এটাই হতে পারে জনপ্রিয়তার নিম্নতম স্তরে থাকা আওয়ামী লীগের কফিনের শেষ পেরেক। আর যদি এরই ধারাবাহীকতায় '৭৩ এর মত একতরফা ভোট ডাকাতির নির্বাচন করার চেস্টা করে তাহলে সেটা হবে কফিনে বদ্ধ হয়ে সাগরে ঝাপ দেয়ারমত ধ্বংসাত্মক কাজ - যার পরিনতিতে এই দেশের মাটি থেকে আওয়ামী লীগের নাম নিশানা মুঝে যাওয়াও অসম্ভব নয়।

কি হবে তা সময়ই বলে দেবে, আমরা গ্যালারীতে আছি পরিস্থিতি কোন দিকে যায় দেখার জন্য।
৬টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মোল্লাতন্ত্র ধর্ষণ-হত্যা ও নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধের সমাধান নয়, বরং তা বৃদ্ধির একটি কারণ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২১ শে মে, ২০২৬ সকাল ৮:৪২


সাত বছর বয়সের ছোট্ট শিশু রামিসাকে ধর্ষণ করে গলা কেটে হত্যার ঘটনার সমাধান হিসেবে, মোল্লাতন্ত্রের মুখপাত্র আহমাদুল্লাহ হুজুর পুরাতন এক ফতোয়া নিয়ে হাজির হয়েছেন। এইসব নৃশঃসতার মাত্রা কমিয়ে আনার একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেজন্মা

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২১ শে মে, ২০২৬ সকাল ১১:৪১


হু বেজন্মা কথা শুনার পর
আমি বিরক্ত মনে করতাম
কিন্তু বেজন্মা কথাটা সত্যই
স্রোতের মতো প্রমান হচ্ছে-
খুন ধর্ষণ করার পশুত্বকে
বলে ওঠে বেজন্মা ক্যান্সার;
ক্যান্সারের শেষপরিণতি মৃত্যু
তেমনী বেজন্মার হোক মৃত্যু-
চাই না এই বেজন্মাদের বাসস্থান
আসুন রুখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভালো থাকো ছোট্ট মা এই অনিরাপদ শহরে

লিখেছেন সামিয়া, ২১ শে মে, ২০২৬ দুপুর ১:৫৫




মাঝে মাঝেই মনে হয়, পৃথিবীতে আমি যদি সত্যি কাউকে নিঃশর্ত ভালোবেসে থাকি, তবে সে আমার মেয়ে।
ওকে প্রথমবার কোলে নেয়ার দিনটার কথা আমাকে আবেগ প্রবণ করে তোলে ছোট্ট একটা উষ্ণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

খালাশ

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২১ শে মে, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬

ছবি : এ আই

জোর জবরদস্তি,
উঠিত লিঙ্গের দুই মিনিটের সুখ
তারপর ???
গরম, মাথা গরম।
কোপ, কল্লা মাথা আলাদা,
শেষ, নিথর নিশ্চুপ দেহ,
খণ্ডিত ছিন্নভিন্ন।

লাল রক্ত কালচে হওয়ার আগেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্র কেন রামিসাদের রক্ষা করতে ব্যর্থ?

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ২১ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৩:১০


সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামো, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে যে গভীর ও দমবন্ধ করা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা কোনো কাল্পনিক ভীতি বা বিচ্ছিন্ন অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×