somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্মৃতির আয়নায়

২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১১:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :





কিছুদিন আগে নস্টালজিতে আক্রান্ত হই আমার বাসার বুয়ার জীবনের একটি গল্প শুনে। স্মৃতিকাতর হয়ে সেই বিটিভি যুগে ফিরে গিয়েছিলাম।

এই বুয়া অনেকদিন ধরেই আমার বাসায় কাজ করছিল। আমি এতদিন জানতাম বুয়ার পাঁচ ছেলেমেয়ে। কিন্তু সেদিন নতুন কথা জানলাম, বুয়ার আসলে ছয় ছেলেমেয়ে। বুয়া তার ছোট মেয়েকে পালক দিয়ে দিয়েছে। কারন জানতে চাইলে বুয়া জানালো ছোট মেয়ের জন্মের সময় সে খুব বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে। এমন কি চলাফেরার সামর্থ্যও ছিল না। এত গুলো ছেলেমেয়ের খরচ, নিজের চিকিৎসার খরচ, তার উপর এই ছোট বাচ্চা সব মিলিয়ে খুবই খারাপ অবস্থা ছিল। তখন এক নিঃসন্তান দম্পতি মেয়েটিকে দত্তক নিতে আগ্রহ প্রকাশ করলে বুয়া মেয়েটিকে দিয়ে দেয়।

ঐ মেয়েটি এখন ক্লাস ফোর এ পড়ে। বুয়ার সামনে দিয়েই আসে যায়। বুয়া মেয়েটিকে দেখতে ঐ বাসায়ও যায় মাঝেমাঝে। কিন্তু মেয়েটিকে বলতে পারে না যে মেয়েটির জন্মদাত্রি মা আসলে সে। মেয়েটির সুন্দর ভবিষ্যতের কথা ভেবেই চুপ করে থাকে।

মাকে না চিনুক। তবু মানুষ হোক মেয়েটি। সে তো কেবল জন্মই দিয়েছে আর তো কিছু নয়। এমনটিই ভাবে বুয়া। কষ্ট হয় খুব। মেয়ের কথা বলতে বলতে চোখে জল চলে আসে তার। আমারো মনটা ভারী হয়ে ওঠে। মনে পড়ে যায় অনেকদিন আগে দেখা বিটিভির একটি খন্ড নাটকের কথা। তখন সপ্তাহে একদিন একটি ধারাবাহিক নাটক প্রচার হত আর একদিন এক পর্বের সাপ্তাহিক নাটক প্রচার হত। মাঝে মাঝে এক পর্বের জায়গায় দুই পর্বের খন্ড নাটক দেখানো হত। অধির আগ্রহে আমরা দিন গুনতাম। যেদিন রাতে নাটক দেখাতো সেদিনটা যেন কিছুতেই কাটতে চাইতো না।

বুয়ার জীবনের গল্প শুনে যে নাটকটির কথা মনে পড়েছিল সেই নাটকটির নাম ছিল কুসুম। বড়লোক বাবার (আবুল হায়াত) একমাত্র আদরের মেয়ে কুসুম (সুবর্ণা মুস্তফা)। হঠাৎই একদিন ঐ বাড়িতে আসে কুসুমের বাবার পরিচিত এক বাউল (শংকর শাওজাল)। বাউলের গান কুসুমের খুব ভাল লাগে। বাউলকেও তার খুব ভাল লেগে যায়। বাউল কুসুমকে তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যেতে চায়। কুসুমও বাউলের গ্রাম দেখতে চায়। কুসুমের বাবা অনিচ্ছায় মেয়েকে যেতে দেন। কুসুম বাউলের গ্রামে যায়।

বাউলের বউ (ডলি জহুর) ছিল মানসিক ভারসাম্যহীন। বাউলের দুই মেয়ে তাকে দেখে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়ে। সবার ভালোবাসার জোয়ারে ভেসে যায় কুসুম। ও ভেবে পায় না ওর জন্য এদের এত ভালবাসার পেছনে কারন কী। তারপর ও জানতে পারলো ওরই মত ওদের এক বোন ছিল যে ছোটবেলায় হারিয়ে গেছে। ঐ বোনটির জন্যই আজ ওদের মা পাগল। কুসুমের খুব মায়া হয় সবার জন্য। আলাদা এক টান অনুভব করে ওদের জন্য। এক সময় কুসুম জানতে পারে বাউলের সেই হারিয়ে যাওয়া মেয়ে আর কেউ নয়, ও নিজেই। দারিদ্রের জ্বালায় বাউল বিক্রি করে দিয়েছিলো ওকে।

নাটকটির শেষে বাবা আবুল হায়াত মেয়েকে নিতে গ্রামে আসেন। বাবাকে দেখে, ছুটে এসে বাবাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েছিল কুসুম।

আমার খুব প্রিয় একটি নাটক ছিল এটি। প্রায়ই বিটিভিতে পুনঃপ্রচার করা হত এই নাটক। যতবারই দেখতাম ততবারই চোখে জল চলে আসতো। এই নাটকটির একটি গান ছিল "আমার মনে বড় দুশকো... ও বড় দুশকো আমার মনেরে"।

কিন্তু এই রকম ঘটনা যে বাস্তবেও ঘটতে পারে তা আমার ধারণায় ছিল না। ভাবতাম এসব কেবল গল্প উপন্যাসেই ঘটে। কিন্তু না। বাস্তবেও এমন অদ্ভুত সব ঘটনা আমাদেরই আশেপাশে ঘটে যায়। কি অদ্ভুত অদ্ভুত কষ্ট বুকের মধ্যে চেপে রেখে বেঁচে থাকে একেকটা মানুষ। সেই অদ্ভুত ঘটনার কিছুটা আমরা জানি আর অনেকটাই থেকে যায় অজানা, অদেখা।

সর্বশেষ এডিট : ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১১:০৭
৩৮টি মন্তব্য ৩৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কাজে যোগদান ভুল হচ্ছে, ইউরোপ আমেরিকায় শীপমেন্ট বন্ধ থাকার কথা

লিখেছেন চাঁদগাজী, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ২:১৭



গত ৪০ বছরে, গার্মেন্টস'এর মালিকরা ও অন্যান্য মধ্যভোগীরা যেই পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছে, তাতে তাদের কর্মচারীদের বিনা কাজে ২/১ বছর মিনিমাম বেতন দেয়ার ক্ষমতা তারা রাখে। গার্মেন্টস'এর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহ কেলা?

লিখেছেন মোহাম্মাদ আব্দুলহাক, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:০৮




মানুষ মারার সব আছে, আহত অথবা অসুস্থ মানুষকে সম্পূর্ণ সুস্থ করার কিচ্ছু নেই। কেন জানেন? আঁতেলরা বলেন, মানুষ মানুষকে মারতে পারে, মানুষ মানুষকে বাঁচাতে পারে ন। জন্ম মৃত্যু মুসলমানদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

— করোনার সাথে পথে চলতে চলতে———

লিখেছেন ওমেরা, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:২২



সারা পৃথিবী লক-ডাউন হয়ে আছে কভিড- ১৯ করোনা আতংকে। মানুষের প্রতিটা মূহুর্ত কাটছে ভয় আর উৎকন্ঠায়। এই মূহুর্তে সম্ভবত পৃথিবীর একমাত্র ব্যাতিক্রম দেশ,সেই দেশের বাসিন্দা আমি, নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

থটস

লিখেছেন জেন রসি, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ১১:৪৬





১৮৪৬ সালে মার্কস এবং এঙ্গেলস মিলে “The German Ideology” নামে একটা বইয়ের পান্ডুলিপি লিখেছিলেন। কিন্তু বইটা প্রকাশিত হয় ১৯৩২ সালে। এই বইতে তারা শুধু ভাববাদকেই না ফয়েরবাখের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা কমপক্ষে গার্মেন্টস'এর ছুটিটা নিজ হাতে কন্ট্রোল করতে পারতো

লিখেছেন চাঁদগাজী, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ১১:৫২



শেখ সাহেব জানতেন যে, উনার মেয়ে বুদ্ধিমতি নন, সেজন্য মেয়েকে রাজনীতিতে আসতে দেননি; কিন্তু রাইফেল জিয়া শেখ হাসিনার জন্য পথ রচনা করে গেছে। কমবুদ্ধিমানরা অনেক সময় খুবই নিবেদিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×