somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছেলেমানুষী ভালবাসা

২৫ শে অক্টোবর, ২০১১ রাত ৮:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যুক্তি-তর্ক তুমি অনেক ভালো বোঝ । প্রকৌশলী মানুষ তো,তাই তোমার কাছে কৌশলের অভাব নেই । তোমার শার্টের পকেটে যুক্তি থাকে,প্যান্টের পকেটে যুক্তি থাকে । ফাঁকতালে আমি ই কোথাও নাই । তবে,যন্ত্র নিয়ে কাজ করতে করতে,আমার বাসার একটা টিউবলাইট কিংবা নষ্ট ফ্যানের সাথে তোমার কোন তফাৎ পাইনা আজকাল । তারপরেও এই তোমাকেই কোন এক কুক্ষণে(আপাতদৃষ্টিতে তাই ই মনে হচ্ছে) সম্প্রদান কারকের নিয়ম মেনে হৃদয়টা একেবারেই দান করে দিয়েছিলাম ।



যন্ত্রের বিপরীতে,এই আমার নিজের কিছুটা বর্ণনা তো দেয়াই উচিৎ । তোমার ভাষ্যমতে,আমি হলাম আধুনিক মীনাকুমারী । কথায় কথায় অ্যাকুয়াস হিউমারের নোনা রস বিসর্জন করে বালিশ ভিজানো আমার প্রতিদিনকার প্রধান কাজ । তাই বুঝি আমাকে কাঁদাতে তোমার খুব আনন্দ ?



আমার বসবাস স্বপ্নের দুনিয়ায় । সে স্বপ্নে রাজকুমার আছে,রাজকুমারী আছে । প্রথমদিকে রাজকুমারের চেহারাও দেখতে পেতাম । কিছুদিন হল,সবই ধোঁয়াটে লাগে । তোমার ছবিটাই বেশি অস্পষ্ট ।



ভালোবাসার প্রতিটা জিনিসকেই খুব ভালোবাসতাম । ভালোবাসতাম ভালোবাসার গল্প,কবিতা । গল্পের নায়িকার সুখে হাসতাম,আর দুঃখে কেঁদে বুক ভাসাতাম । এতো আবেগপ্রবণ মানুষ হয়ে তোমার মত জড়পদার্থের সাথে কিভাবে জ়ড়ালাম বল তো ?



কোন একদিন কোন এক উপন্যাস পড়ে কাঁদছিলাম আর হেঁচকি তুলছিলাম । অনেক জটিল রোগে আক্রান্ত উপন্যাসের নায়িকাটি । মৃত্যুর আগে সে তার ভালোবাসার মানুষটিকে সারাক্ষণ পাশে পেয়েছে । মারা যাওয়ার অল্প কিছুদিন আগেই নায়ক তাকে বিয়ে করে নায়িকার শেষ ইচ্ছা পূর্ণ করেছিলো । ভাবছিলাম,এতো ভালোবাসা পেলে অল্প আয়ুতেও আমার কোন আপত্তি নেই ।



সেদিন রাতে তুমি ফোন দিলে ।



অনেক আবেগ নিয়ে তোমার কাছে জানতে চাইলাম,"আচ্ছা,ধরে নাও,আমার অনেক বড় বিপদ হল । দুইদিনের মাথায় আমাকে বিয়ে করতে হবে তোমার । কি করবে তখন তুমি ?"



তুমি বললে,"কি ধরনের বিপদ ? তোমার বিয়ের জন্য প্রপোজাল আসার কথা বলছ তো ?"



আমি বললাম,"নাহ্‌,সে ধরনের কিছু না । মানুষের কত রকমের বিপদ আপদ হয় না ?"



ঃতোমার এই মূহুর্তে বিয়ের জন্য বাসা থেকে চাপাচাপি হওয়া ছাড়া আমি তো আর কোন বিপদ দেখি না । তবে যদি,এরকম কিছু হয় তাহলে এমন গিট্টু লাগাবো,যে পাত্র তোমাকে বিয়ে করা তো দূরেই থাক,নাম শুনলেই ফিট্‌ হয়ে যাবে । হা হা হা...



দিলে তো আমার আবেগের শ্রাদ্ধ করে ? ঠাট্টা টা কোন জায়গায় করা উচিৎ তাও তো দেখি বোঝ না । তবুও,তোমায় যখন বলেছিলাম,"ঠাট্টা করো না । বলোনা,করবে বিয়ে ?"



তুমি বললে, "দেখো,আবেগের কথা বলে লাভ নেই । জীবনটা উপন্যাস না । এখন বিয়ে করলে তোমাকে তুলব কই ? আমার বাপ তো সোজাই বলবে,"নিজেই আমার ঘাড়ে চেপে খাচ্ছ । এখন আবার আরেকজন কে ধরে নিয়ে এসেছ । ব্যাপারটা কি ?"



চাকরি-বাকরি না করলে,বিয়ের পর যাব কই ? খাব কি ?



মিথ্যে করেই নাহয় বলতে,বিয়ে করবে । সত্যি সত্যি কি আর ২-৩ দিনের ভিতরই বিয়ে করে ফেলতাম ? আমার অভিমানটুকুও কি এতোটাই দুর্বোধ্য ?



আমি রাগ করে তোমায় বললাম,"প্রশ্নটা এম্নিতেই করেছিলাম । ভয় পেয়ো না,২-৩ দিন কেনো,২-৩ বছরেও আমাকে বিয়ে করতে হবে না তোমার । "



তুমি বললে,"বাঁচালে আমাকে । আমিতো আরও ভাবলাম,তুমি সিরিয়াসলিই বলছ বুঝি । "



আড়ালে ছিলাম বলে আমার আহত চোখ তুমি দেখতে পাওনি ।



তোমার মতে,প্রতিদিন কত ছোট ছোট কারণে(বেশির ভাগ সময় অকারণে) অভিমান করতাম । কত ছোট খাটো কারণে কান্নাকাটি করতাম । আচ্ছা,তোমার কি মনে পড়ে শেষ কবে তুমি আমার হাত ধরে "ভালবাসি" শব্দ টা উচ্চারণ করেছিলে ? আমার মনে পড়ে না ।



আমার বান্ধবীদের বয়ফ্রেন্ডরা চব্বিশ ঘন্টার নিউজ চ্যানেলের মত ওদের খোঁজ নিতো । ভার্সিটি তে ঢুকতে একবার,বের হওয়ার সময় একবার,আর প্রত্যেক ক্লাশের ফাঁকে ফাঁকে গুটুর গুটুর তো চলছেই । আর আমার ব্যাপার ছিলো উলটা । প্রথম ২-৩ বছর তো কেউ বিশ্বাসই করে না আমার কারো সাথে কিছু থাকতেও পারে ।



তোমাকে যখনই ওদের কথা বলতাম । তুমি বলতে,"ফালতু বকবক করার মত এতো সময় আছে নাকি আমার ?"



কনফিউজড হয়ে যেতাম আমি । সব couple এর আচরণ ছিলো একরকম,আর আমাদের অন্যরকম ।



দুজনের ভার্সিটি একই এলাকায় ছিলো,তারপরেও সহজে দেখা হতো না আমাদের । ফোনের কথা তো বাদই দিলাম । তবুও যা দেখা হত,ঘন্টার পর ঘন্টা আমি একাই বকবক করে যেতাম । আর,তুমি তোমাদের ক্লাশে কি ইন্টারেস্টিং ব্যাপার নিয়ে আলোচনা হয়েছে সেটা আমাকে জোর করে শুনাতে চাইতে । তখন মনে হত,যন্ত্র-পাতির কথা শুনতে শুনতে আমি নিজেও রোবটিক হয়ে যাচ্ছি ।



শেষ দিকে প্রায় প্রতিদিনই তোমার উপর রাগ করে ফোন রেখে দিতাম,দেখা করতে চাইতাম না । কেমন অসহ্য লাগত তোমার উদ্ভট আচরণ ।



কতদিন তোমাকে বলেছি,"চল আজকে তোমাদের বাসায় যাব । তুমি বলবে,আমি তোমার ক্লাশমেট ।"



তুমি সাথে সাথে মানা করে দিলে ।



বললে, এইসব ফালতু ঢং এ আমি নাই । আমাকে বাংলা সিনেমার নায়ক পাইসো,যে মা কে দেখায় বলবো,"দেখ মা তোমাদের বউমাকে নিয়ে এসেছি । "



-আমি কি তাই বলেছি নাকি??আমার সব ফ্রেন্ডরা ওদের হবু দেবর,ননদের সাথে কত মজা করে কথা বলে । ওদের জন্মদিনে গিফ্‌ট দেয় । আর,আমি তো আজ পর্যন্ত নিধিকে দেখলামও না ।



ঃবিয়ের পর ডেইলি দেখবা । তখন দেখতে দেখতে পঁচেও যাবা । এখন আগ বাড়ায়ে এতো পীরিতের দরকার নাই ।



একসময় ভাবতে শুরু করলাম আমি আসলে তোমার শোপিস গার্লফ্রেন্ড । এই যুগে সবারই গার্লফ্রেন্ড আছে,কিন্তু তোমার নাই,সেটা বিরাট লজ্জার ব্যাপার হতো । একারণেই ফোন করে,আর মাঝে মাঝে আমার সাথে দেখা করে তোমার গার্লফ্রেন্ড আছে,সেই ব্যাপারটা নিশ্চিত রাখতে ।



কি ভেবে যেনো সিদ্ধান্ত নিলাম,তোমার একটা ছোট-খাট পরীক্ষা নেয়া যাক । দেখি,তোমার দৌড় কদ্দুর । ঠিক করে ফেললাম,তোমাকে একদিন বলব,"তোমার সাথে থেকে কষ্ট পাওয়ার চেয়ে,দূরে সরে যাওয়াই ভালো ।" দেখি তুমি কি কর ?



যেদিন তোমাকে আমার সিদ্ধান্ত জানালাম,মাথা নিচু করে চুপচাপ আমার সব অভিযোগ তুমি মেনে নিলে । কিছুই বললেনা । কথার ফাঁকে শুধু একবার অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়েছিলে ।



চলে আসার সময় একবার পিছে ফিরে তাকালাম । তুমি সেভাবেই বসে ছিলে ।



রাগে,অভিমানে কান্না চলে এলো । একবারও কি আমায় আটকাতে পারলেনা ? কেনো আপত্তি করলে না ? কেনো একবারও বললে না,"যেও না..."



আজ একমাসে একবারের জন্যও আমার কথা মনে পড়েনি তোমার ? আর তোমার মত রোবটের কথা ভেবে প্রতিদিন গ্যালন গ্যালন অশ্রু বিসর্জন দিচ্ছি । কেনো এতো ভাবি তোমার কথা ? তোমার থেকে দূরে সরে আসার সিদ্ধান্ত তো আমারই ।



ভালোই আছি আমি । আগে বাবা-মার চোখ ফাঁকি দিয়ে তোমার সাথে কথা বলতে হত । অনেকদিন হল মিথ্যেও বলি না ।



তারপরেও দিনগুলি মিস করি অনেক । প্রতিটা দিন তোমার ফোনের জন্য অপেক্ষা করেছি । একবার যদি বলতে "ফিরে এসো", সব ছেড়ে ছুড়ে তোমার কাছে চলে আসতাম ।



এখন চাইলেও ফিরে আসার কোন উপায় নেই । আজ আমাকে ছেলেপক্ষ দেখতে আসবে । মেয়ে তাদের পছন্দ হলে,খুব সম্ভবত আজই আমার এঙ্গেজমেন্ট ।



তোমার কথা ভেবে সবসময় বিয়েতে আপত্তি জানিয়ে এসেছি । আর কত বল ?



ঃ নীলু...



মার গলার আওয়াজে পেছন ফিরে তাকালাম ।



- জ্বী আম্মু



ঃ ওরা তো একটু পরেই চলে আসবে । শাড়িটা পরে ফেল্‌,মা ।



- হুম্‌,পরছি ।



ঃ হালকা করে একটু সেজে নিস । তোকে কত করে বললাম পার্লারে গিয়ে সেজে আয় । আমার কোন কথাই তো শুনিস না । তোর বান্ধবীগুলাও অকর্মার ঢেঁকি । সেই কতক্ষণ আগে সূচি কে ফোন দিয়েছি । ওই মেয়ের তো এখনো কোন খবর নেই ।



- হুম ।



ঃ হুম কি ? তুই আমার কথা শুনতে পাচ্ছিস ? এই নীলু ...



-হুম ।



ঃ তাড়াতাড়ি কর । ওরা চলে আসবে যেকোন সময় ।



খাটের উপর আম্মু সবুজ রঙের জামদানি শাড়ি রেখে গেছে । সবুজ রঙটা তূর্যের অনেক পছন্দের । কোনদিন যেন সবুজ রঙের ড্রেস পরে তোমার সাথে দেখা করতে গেছি । আমার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে তুমি বললে,"তোমার সব ড্রেস সবুজ রঙের হওয়া উচিৎ । "



আমি বললাম,"কেনো ? আমি কি মোগলি ? যে,সবসময় সবুজ কাপড় পরব ? তবে,কোনদিন যদি পাকাপাকি ভাবে জঙ্গলে থাকার প্ল্যান করি তাহলে ভেবে দেখব ।"



একটু বিরক্তই হয়েছিলাম । প্রশংসাটাও ঠিকমত করতে জানোনা । দুনিয়ার আজাইরা কাজ তো ভালোই জানো ।



চোখে কাজলটা ঠিকমত দিতে পারছিনা । একটু পর পর চোখ ভর্তি হয়ে যাচ্ছে পানিতে । তবুও মার কথা মত অনেক সময় নিয়ে সেজে ফেললাম । হাত ভর্তি সবুজ রঙের চুড়ি পরলাম । সাজগোজে আমার সারাজীবন অ্যালার্জি ছিলো...সামান্য লিপস্টিক দিলেও রক্তচোষার মত মনে হতো নিজেকে...সেই লিপস্টিকও আজ বেশ খানিকটা দিয়ে ফেললাম ।



তুমি সাজগোজ একদম পছন্দ করতে না । আচ্ছা,তুমি যদি আজ আমাকে এই অদ্ভুত সাজে দেখতে,তাহলে কি বলতে??



ওরা এসে গেছে বোধহয় । মা-বাবা ছোটাছুটি করছেন অতিথি আপ্যায়নের জন্য । একটু পর আমাকে ওদের সামনে নিয়ে যাওয়া হবে । আমি সেলফোন হাতে নিয়ে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছি ।



এখন মনে হচ্ছে অনেক বড় ভুল করে ফেলেছি । আজকের দিনেও তোমাকে ভুলতে পারছিনা । কেনো তোমাকে ছেড়ে এলাম ? আমার একজনের ভালোবাসাই তো আমাদের দুজনের জন্য যথেষ্ট ছিলো ।



মা আমকে নিতে এসেছেন ।



দীর্ঘশ্বাস ফেলে মার সাথে রুম থেকে বেরিয়ে এলাম । বেরোনোর আগে ফোনটা খাটের উপর ছুড়ে ফেললাম ।



৪-৫ জন এসেছেন । মা আমার সাথে আসতে আসতে বলেছিলেন ছেলের মা,বাবা,বোন,ছোট খালা বা ফুফু টাইপ কেউ একজন এবং ছেলে নিজেও এসেছেন । সবাইকে গিয়ে যাতে সালাম দেই তারপর কেউ কিছু জানতে চাইলে,হাসিমুখে যেন সবার কথার উত্তর দেই । তবে আমার কোন আচরনেই যাতে আমাকে বেহায়া মনে না হয়,সেদিকে বিশেষ ভাবে লক্ষ্য রাকতে বললেন ।



সবাই বসে আছেন ড্রয়িংরুমে । মা যখন আমাকে নিয়ে ঢুকলেন সালামের কথা মাথা থেকে একদমই বেরিয়ে গেলো । মা অনবরত গায়ে চিমটি কাটছিলেন অবশ্য । কিন্তু,সংকেতটা ওই মূহুর্তে ধরতে পারিনি । গিয়ে সবার সামনে বসে পড়লাম ।



আগেরদিন রাতে মা সব শিখিয়ে-পড়িয়ে নিয়েছিলেন । কথা ছিলো,নাস্তা-পানি যাই আনা হোক না কেনো আমি নিজ হাতে তুলে দিব ।



সব ভুলে গেলাম । মাথা নিচু করে রুমে ঢুকেছিলাম,বসেও ছিলাম সেভাবেই । কান টা ঝাঁ ঝাঁ করছে । আশেপাশের কারো কথাই মাথায় ঢুকছে না । বারবার মনে হচ্ছে,"আমি ঠিক করছি তো ?"



মাথা উঠিয়ে কি ছেলের দিকে তাকানো উচিৎ আমার ? কোন অপদার্থের ঘাড়ে চাপতে যাচ্ছি,কে জানে ? ১০-১৫ মিনিট ধরে বসে আছি,কিন্তু মনে হচ্ছে কত কাল পেরিয়ে গেছে । মাথা নিচু করে বসে থাকতে থাকতে ঘাড় ব্যাথা হয়ে গেছে রীতিমত ।



মজার ব্যাপার হল,আমাকে কেউ কিছু জিজ্ঞাসাই করছে না ।



হঠাৎ করে আমার সেলফোন বেজে উঠল । আমি চমকে উঠে আড়চোখে রুমের দিকে তাকালাম । তূর্য না তো ? যদি তূর্য হয় ? আমি ছটফট করে উঠলাম ।



ছেলের মা ব্যাপারটা খেয়াল করলেন । তিনি বললেন,"কোন সমস্যা,মা ? জরুরী ফোন হয়তো । চাইলে,গিয়ে দেখতে পারো । "



সাথে সাথে মা বলে উঠলেন,"না,না,তেমন জরুরি কিছু না । পরে কথা বললেও চলবে ।"



ছেলের খালা কিংবা ফুফু তখন বললেন,"ছেলে-মেয়ে একজন-আরেকজন কে কিছু জিজ্ঞেস করতে চাইলে করে নিতে পারো । "



মা বললেন,"অবশ্যই,অবশ্যই ।"



আমি মাথা আরো নিচু করে ফেললাম । মনে-প্রাণে চাইছি,আমার চেহারা যাতে কেউ দেখতে না পায় । অথবা,দেখতে পেলেও আমাকে যাতে ড্রাকুলা,কিংবা আলিফ লায়লার কোন রাক্ষুসী(সারারাগুল)র মত দেখায় । এই বিপদ থেকে উদ্ধার হলে,প্রথমেই তূর্য কে খুঁজে বের করব । গুষ্টি কিলাই আমার ইগোর । ও ভালো না বাসলে নাই,আমি একলাই বাসব ।



হঠাৎ ছেলের মায়ের কথা কানে এলো...



"আংটি পরিয়ে দেয়ার কাজটা সেরে ফেলি কি বলেন আপা ? আমাদের তো মেয়ে খুব পছন্দ । অবশ্য পছন্দ তো ছবি দেখেই হয়েছিলো । আনুষ্ঠানিকতার জন্যই জন্য আসা । তারপর,ছেলে-মেয়ের কিছু বলার থাকলে বলে নিল । নীলুও যদি কিছু জানতে চায়,তাও জেনে নিল । তূর্য,তুই কি বলিস ? নীলুর সাথে কথা বলতে চাস্‌??"



তূর্য কিছু বলার আগেই মা বললেন,"হ্যাঁ আপা অবশ্যই । আগে আংটি পরানো হয়ে যাক্‌,তারপর আমি রহিমার মাকে বলে দিব,ও ছাদে নিয়ে যাবে দুজনকে । তানাহলে সবার সামনে লজ্জা পাবে কথা বলতে । সূচি আসুক,তারপর ওকে বলব ওদের সাথে যেতে । "



নাম শুনেই আমি মুখ তুলে ভ্যাবলার মত তাকিয়েছিলাম । প্রথম কিছুক্ষণ মনে হয়েছিলো স্বপ্ন দেখছি । সামনে তূর্য বসে আছে । স্যুট পরে বাবুসাহেব সেজে আছে ।



আমি হা করে তাকিয়ে আছি । কি হচ্ছে,কিছুই বুঝতে পারছিনা । আংটি পরানো হল । কেমন ঘোরের মধ্যে আছি,মনে হচ্ছে ।



আংটি পরানো শেষে তূর্যের ছোট বোন নিধি বলে উঠল,"আন্টি,আমি যাই ভাবী আর ভাইয়ার সাথে । "



মা হেসে ফেলে বললেন,"যাবে তুমি ? ভালোই হল । সূচি মেয়েটা তো এখনো এলো না । আমি রহিমার মাকে বলে দিচ্ছি । ও তোমাদের কে দিয়েই চলে আসবে..."



মাথায় ঘোমটা টেনে ছাদে দাঁড়িয়ে আছি । নিধি কথা বলেই যাচ্ছে । আমি চুপচাপ শুনছি ।



"জানো ভাবী,তোমার কথা ভাইয়ার পেট থেকে বের করতে কত কাঠ-খড় পোড়াতে হয়েছে আমার ? একমাস আগে কি জানি কি হল । ভাইয়া ঠিকমত খায় না,ঘুমায় না । কোন কারণে ভাইয়াকে ডাকলে,চমকে উঠে উদ্ভ্রান্তের মত এদিক-ওদিক তাকাতে থাকে । ৪-৫ দিনের মধ্যেই না ঘুমিয়ে চোখের নিচে কালি ফেলে দিলো । মা তো টেনশনেই বাঁচে না ।



এদিকে ভাইয়ার দেশের বাইরে যাওয়ারও দিন ঘনিয়ে এসেছে । কিন্তু,এ নিয়েও ভাইয়ার মধ্যে কোন বিকার নেই ।



হঠাৎ করেই একদিন কথা নেই,বার্তা নেই বাবার সামনে গিয়ে বলে,"বাবা,আমি বিয়ে করব..."



বাবা তো আকাশ থেকে সজোরে ভূপতিত হলেন । যে ছেলে ছোটবেলায় একটা ফুটবল কিংবা ক্রিকেট ব্যাট এর জন্যও আবদার করেনি,সে ছেলে বাবার সামনে দাঁড়িয়ে বউ চায় । তুমি তো জানোনা,বাবা যে কি রাগী । বাবা কষে এক চড় লাগালো ভাইয়াকে ।



পরে অবশ্য,আমি ভাইয়ার থেকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে রহস্য উদ্ধার করলাম । মাকে সব খুলে বললাম । ভাইয়ার ডায়েরীতে অবশ্য আগেই দেখেছিলাম । সুযোগ বুঝে হাত সাফ করে মাকে দেখালাম...



আমি আর মা মিলে বাবাকে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে রাজী করে ফেললাম । তো সব ক্রেডিট কিন্তু আমার,বুঝলে ?



ভাবী,তুমি বিয়েতে রাজী হয়ে যেও । তোমার সাথে থাকলে হয়তো ভাইয়া গাধামি করে । কিন্তু,তুমি না থাকলে যা করে,সেটা বেশি অসহ্য ।



আমি সিঁড়ি তে দাড়াচ্ছি । তোমাদের কথা বলার থাকলে তাড়াতাড়ি সেরে ফেলো । বিয়ের পর সারাজীবন সময় পাবে । "



নিধি যেতেই,আমি তূর্যের দিকে ঘুরে দাঁড়ালাম । তূর্য ভ্রু নাচিয়ে হাসতে হাসতে বলল,"তোমার না আমার বউ হওয়ার খুব শখ ? দেখলে,কিভাবে তোমার শখ পূরণ করে দিলাম ? "



-হাসবে না ,গাধা কোথাকার !! খুব যে দাঁত কেলাচ্ছো এখন ? ছাদ থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেই ?



তূর্য দুঃখী দুঃখী মুখ করে বলল,



ঃফেলে দিবে??দাও ।



ধাক্কা অবশ্য মারিনি । কাজল,চোখের পানি তে মাখামাখি আমি,তূর্যর স্যুটের বারোটা বাজাতে এগিয়ে গিয়ে তার বুকে মাথা রাখলাম শুধু...



ও তখনো ঠাঁয় দাঁড়িয়ে...



আমি বললাম,"জড়িয়ে ধর,গাধা কোথাকার !! নিধি ঠিকই বলে তুমি গাধাও না,রামছাগল !! "





(কলমে মরচে ধরে গেছে...অনেকদিন কিছু লিখি না...তাই এই গল্পটা পোষ্ট করে দিলাম...আসলে,খুব কাছের একজন মানুষের সাথে ঝগড়া করে গল্পটা লিখতে বসেছিলাম...ভেবেছিলাম,মেয়েকে বিয়ে দিয়ে হনলুলু তে পাঠিয়ে দিব...আর ছেলেটাকে একটা বড়সড় ছ্যাঁকা দিব...শেষপর্যন্ত কেনো জানি আর পেরে উঠলাম না...তাই শেষটা নিজের ইচ্ছামত ছেলেমানুষী বানিয়েছি...হোক ছেলেমানুষী,তবুও ভালবাসার মানুষটি সাথে আছে,এই তৃপ্তি থেকে কেনো বঞ্চিত হব??)







-ফারহানা নিম্মী
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×