somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সোনার কাঠি,রুপোর কাঠি

০৮ ই জানুয়ারি, ২০১২ সকাল ১০:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গ্রীল দেয়া অনেক বড় একটা জানালা । তাতে গাড় নীল রঙের পর্দা দেয়া । জানালার একপাশে,দইয়ের হাড়িতে লাগানো আছে মানিপ্ল্যান্ট । আজকাল লতাগুলোর যত্ন নেয়া হয় না বললেই চলে । শেষ কবে মানিপ্ল্যান্টে পানি পড়েছে,মনে করতে পারে না মেধা । আজকাল সব কাজে তার খুব আলসেমি ।



দিনের বেশিরভাগ সময় জানালার পাশে বসেই সময় কাটে তার । আকাশ তার বড় প্রিয় । হোক রাতের,হোক দিনের ।



বিছানাটাও তাই এমন ভাবে রাখা,যেন শুয়ে শুয়েই আকাশ দেখতে পায় মেধা । ছোটবেলায় এমন আকাশপ্রীতি ছিলো না যদিও । দুরন্ত মেয়েটি হঠাৎই একদম চুপচাপ হয়ে গিয়েছিলো । সবার থেকে দূরে সরে সরে থাকতে চাইতো । তাই আকাশের দিকে তাকিয়ে থেকে নিজের মনে কথা বলার চেয়ে ভালো পদ্ধতি সে আর খুঁজে পেলো না । এই চুপচাপ স্বভাবের কারনে বিশ্ববিদ্যালয়ে খুব একটা বন্ধু-বান্ধব নেই তার । ক্লাশে প্রথম দিন থেকেই মেধার বসার জায়গাটিও জানালার পাশে । সেটি তার খুব প্রিয়,তা নয় । কিন্তু,জানালার পাশেই রাস্তায় কত মানুষ হেটে যেতে দেখা যায় । কেউ শুধুই ছুটছে,কারো আবার সময় এগুতেই চায় না । মেধা দ্বিতীয় দলের ।



বাবা-মার খুব আদরের মেয়ে সে । কোন কিছুর অভাব সে কখনো অনুভব করেনি । তার চারপাশের মানুষগুলো তাকে পাগলের মত ভালোবেসেছে । কিন্তু,জীবন কোথায় যেন সুর হারিয়েছে । মেধা ভাবে,কেনো শুধুমাত্র একজন মানুষের ভালোবাসা আরকজন মানুষের জীবনে এতো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায় ?



মানবিক অনুভূতি গুলো কখনো কখনো বড় দূর্বোধ্য । তাই,জীবনের একুশটি বসন্তের মাঝে ঠিক কবে মেধার মনে একটু রঙ চড়েছিলো তা কেমন রহস্য থেকে যায় ।



শুধু জানত,কেউ একজন তার সমস্ত স্বত্তা জুড়ে বাস করে । প্রায় রাতে ঘুম ভেঙ্গে গিয়ে যখন পানির গ্লাস টা হাতে নেয়,তখন পানি আর গলা দিয়ে বেয়ে ওঠা কান্নার রোলের যুদ্ধে হার টা সবসময় মেধার ই হয় ।



যাকে নিয়ে তার পৃথিবী সে কখনো বোঝেনি মেধার ভালোবাসা । কতবার সে উদভ্রান্তের মত ছুটে গিয়েছে । কিন্তু,প্রতিবারই ফিরে এসেছে টুকরো হৃদয় নিয়ে । যদি রুপকথার কোন গল্পের মত জাদুর কাঠি ছুইয়ে জীবনের একমাত্র চাওয়া পূরণ করার সুযোগ পেত মেধা,তাহলে খুব একটা খারাপ বোধহয় হত না ।



শ্রাবণ নামের মানুষটাকে ঘিরে মেধার এই ভালো লাগাই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে ।



শ্রাবণ,মেধাদের এলাকায় খুব পরিচিত নাম । ভালো একটা ছেলের যা যা গুণ থাকা উচিৎ সবই তার আছে । এসব ছেলেপুলের নাম দিয়ে মা-বাবা নিজেদের ছেলে মেয়েদের জীবন অতিষ্ট করে তোলেন । মেধার জন্য ব্যাপারটা আরো ভয়াবহ ছিলো । শ্রাবণ মেধাদের পাশের বাসায় থাকত । ছোটবেলা থেকে এই ছেলের জন্য মনে তীব্র রাগ পুষে রেখেছিলো মেধা । ক্লাস ফাইভে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি,এইটেও তা । একরাশ বিরক্তি নিয়ে মেধা ভাবত, কি দরকার এতো ভালো ছাত্র হওয়ার ?

মেধা শ্রাবণের বছর দুয়েকের ছোট । মাঝে মাঝেই যখন নামাজ পড়ে আসার সময় মেধার মুখোমুখি পড়ে যেতো,কপাল কুঁচকে মেধাকে বলত, "সরো ... " ভাবটা এমন ছিলো,যেন মেধা তার পুরোটা রাস্তা জুড়ে দাঁড়িয়ে ।



এস এস সি তে পুরো চিটাগাং বোর্ডে সে ছেলে প্রথম হয় । কোন মানে আছে !!



এতোকিছুর মধ্যে একটা শান্তির ব্যাপার ছিলো,শ্রাবণ ঢাকায় চলে যায় রেজাল্ট দেয়ার পরপরই । মেধা তখন স্কুলে বুক ফুলিয়ে বলতো,"দেখেছিস,আমার অভিশাপের ফল !! "



এরপর অনেকদিন শ্রাবণের কোন খবর পাওয়া যায় নি । মাঝে মাঝে তার আব্বু-আম্মু ছেলেকে দেখতে ঢাকায় চলে যেতেন । শ্রাবণও আসত হয়তো । তবে,মেধার মুখোমুখি পড়েনি কোনদিনই ।



ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর কিছু দিন পর পরই শ্রাবণ বাসায় চলে আসত । মেধার সাথে দেখা হতো প্রায়ই । কিন্তু,কথা হতো না । দেখা হলেই শ্রাবণ পরিচিত একটা ভাব নিয়ে হাসত,এই যা । তবে, মেধার প্রচন্ড হাসি পেতো,আগে কত অদ্ভুত চিন্তাই না সে করতো ।



ভালোই চলছিলো সবকিছু । মেধা এইচ এস সি পরীক্ষায় বেশ ভালো ভাবেই উত্তীর্ণ হল । ফ্যাকড়া বাধলো,যখন ভর্তি পরীক্ষার ব্যাপারটা মাথার উপর চেপে বসলো । মরার উপর খাড়ার ঘা হিসেবে,মেধার মার অনুরোধে এই শ্রাবণই তার টিউটর নিযুক্ত হল ।



প্রথম দিন,শ্রাবণ মেধা কে বলল, "আমি তোমাকে কি পড়াবো আমি নিজেই বুঝতে পারছি না । "

মেধার তখন মনে মনে ভাবনা,"তুই কিছু বুঝবিও না,গাধা !! "

তোমাকে আমার প্রিয় একটা কবিতার কিছু চরণ শোনাই,শোন-



"The woods are lovely, dark and deep.

But I have promises to keep,

And miles to go before I sleep,

And miles to go before I sleep. ..."



মেধা লাইনগুলো হা করে গিললো । কিছুই বোঝেনি সে ।



শ্রাবণ বলতেই থাকল,"আমার কেনো যেন সবসময়ই মনে হতো,আমি বেশিদিন বাঁচবো না । এই চিন্তা কেনো হতো জানি না । তবে,প্রথম যেদিন মৌমিতা ম্যাম লাইনগুলো ক্লাসে বলছিলেন,আমার মনে হয়েছিলো ফ্রস্ট সাহেব হয়তো,আমার জন্যই এই লাইনগুলো লিখে গেছেন । এই লাইনগুলো শুনলেই মনে হতে থাকে,আমার তো এখনো অনেকটা পথ চলা বাকি । কেনো মরতে যাব এতো তাড়াতাড়ি ? miles to go before i sleep"



ধীরে ধীরে কিছু একটা পরিবর্তন বোধহয় ঘটছিলো । যখনই শ্রাবণ পড়াতে আসত,মেধার মনে হতে লাগলো,এই মহাবিশ্বে একটা পড়ার টেবিল এবং তারা দুজন ছাড়া বুঝি আর কেউ নেই । প্রতিদিন অদ্ভুত একরকম কষ্ট অনুভূত হতো মনে । শ্রাবণ চলে যাওয়ার পর মেধা আবিষ্কার করত,তার কিছুই পড়া হয়নি ।



কি হচ্ছে,বুঝতে অবশ্য বেশি সময় লাগেনি তার । এই ছেলেটার জন্য মনে অদ্ভুত ভালো লাগার জন্ম হয়েছিলো । সেটা না বলতে পারার কষ্টটা তাকে তাড়িয়ে বেড়াতে লাগলো সবসময় ।



প্রতিদিনই কাগজে "প্রিয় শ্রাবণ" লিখে আর কিছু লিখতে পারেনা মেধা । ঘরময় দুমড়ানো কাগজের স্তুপ । তার আড়ালে লুকিয়ে থাকা,মেধার ভালোবাসা ।



অবশেষে,চিঠি একটা লিখেছিলো মেধা । শ্রাবণের জন্মদিনের উপহার হিসেবে কবিতার একটা বই সে অনেক কষ্টে খুঁজে বের করেছিলো । উপহারের উদ্দেশ্যটা ছিলো গৌণ । মেধা চেয়েছিলো,বইয়ের প্রথম পাতায়,তার অনেকদিনের জমানো এলোমেলো কথাগুলো লিখে ফেলা চিঠিটা রেখে দিবে ।



এরপর শুধুই বিশেষ দিনটার অপেক্ষা ।



সেদিন সাদা রঙের একটা শার্ট পরে এসেছিলো শ্রাবণ । আচ্ছা,ছেলেটাকে কেউ বলেনি তাকে কত ভালোমানুষের মত দেখায় । "শুভ জন্মদিন" বলে,উপহারটা দিতেই কি যে ছেলেমানুষের মতো খুশি হয়ে উঠল ! কিন্তু,ভয়টা পেয়ে বসলো তার পরপরই । মনে হতে লাগল,থাকত সবকিছু রহস্য । এখন যদি শ্রাবণ রাগ করে বসে ??যদি আর কখনো কথা না বলে??



এরপর শুধুই অপেক্ষা । পড়ার টেবিলে,সাদা কাগজে অনর্থক আঁকিবুকি । পড়ার সময় পেরোয় । শ্রাবণ আসে না । অদ্ভুত একরকম কষ্ট হতে থাকে মেধার । কেঁদে কেঁদে জ্বর উঠিয়ে ফেললো সে ।



প্রতিদিন ভোরে ছাদে ওঠা মেধার একটা নেশার মত ছিলো । জ্বরের কারণে পরদিন তার আর যাওয়া হলো না ।



ভোরে ছাদে গেলে হয়তো শ্রাবণের সত্যিটা তার মুখেই জেনে ফিরত মেধা । সেদিন শ্রাবণ ছাদে মেধার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলো । জানতো সে,এই অসম্ভব ভালো এবং পাগলী মেয়েটা প্রতিদিন ছাদে এসে ভোর হওয়া দেখে । মেয়েটার ভুল ভাঙ্গানোর জন্য এর চেয়ে চমৎকার সময় আর হতেই পারে না । কিন্তু,আসেনি সে । শ্রাবণ ঠিক বুঝে উঠতে পারে না,মেয়েটার প্রতি তার অদ্ভুত এই মায়া জন্মানোর কারণ । সে শুধু এতটুকুই জানে,তার ভালবাসা ছাড়া আর সবই মিথ্যা । মেধাও তা ই ।



সুস্থ হতেই মেধা জানলো,শ্রাবণ ঢাকায় চলে গেছে । তার মা তাকে জানালো,কি একটা বই সে মেধার জন্য দিয়ে গিয়েছে । জ্বরের কারণে তার মা তাকে আগে জানায় নি কিছু ।



মেধা পাগলের মত বইয়ের পাতা উল্টাচ্ছে । কিছু কি বলে যায় নি শ্রাবণ ? একটা ছোট্ট চিঠি পেলো সে । সেখানে মুক্তোর মত অক্ষরে লেখা,



"তোমাকে প্রায়ই মৌমিতা ম্যাম এর কথা বলতাম,মনে আছে তোমার ? তুমি অনেক সাহসী । আমি যদি তোমার মত হতে পারতাম ... "



অনেক কেঁদেছিলো মেধা । পৃথিবীটা কে শুন্য মনে হতে লাগলো তার । প্রচন্ড রকম হতাশায় ভুগেছে দীর্ঘদিন । সেবার তাই আর কোথাও ভর্তি হওয়া হলো না ।



শ্রাবণের বাবাও সেবার রিটায়ার্ড করেছেন । তিনি স্বপরিবারে ঢাকায় চলে গেলেন । এরপর বহুদিন তাদের সাথে আর কোন রকম যোগাযোগ হয়নি ।





অনেকদিন পরের কথা-



মেধা এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস বিভাগে অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী । শান্ত মেধার অস্থির চোখজোড়া প্রায়ই কাউকে খুঁজে ফিরত । নাহ্,সে কখনো নিজ থেকে কাউকে খোঁজার চেষ্টা করেনি । শুধু জানত, তার জীবনের সত্যি টা তার সামনে কোনদিন এসে দাঁড়ালে সে প্রশ্ন করবে । জানতে চাইবে,"তার দোষটা কোথায় ছিলো? "



রুদ্রের কথা-



বেশ কয়েকদিন থেকে ক্লাশের একটা মেয়েকে খুব গভীর ভাবে খেয়াল করছি । মেয়েটার চেহারায় কেমন একটা মায়া । কারো সাথে খুব একটা কথা বলে না । প্রায়ই জানালার কাছে এসে বসে । টিচার আসে-যায় কোন দিকেই খেয়াল নেই মেয়েটার ।



মেয়েটাকে প্রথম যেদিন খেয়াল করি,সেদিন কি নিয়ে যেন খুব তাড়াহুড়ায় ছিলাম । ক্লাস থেকে বের হওয়ার সময় হঠাৎ মেয়েটা মুখের সামনে পড়ল । চমকে উঠে সে হাত থেকে তার ডায়েরীটা ফেলে দিলো । ডায়েরীটা উঠিয়ে দিতেই,মেয়েটা সেটা নিয়ে পাশ কাটিয়ে চলে গেলো । মুখে ধন্যবাদের বালাইও ছিলো না ।



খুব অবাক হয়েছিলাম । কিন্তু,তারপর যা হলো,তা আরো অদ্ভুত । ক্লাসে এসেই সে মেয়েটার আশে পাশে জায়গা খুঁজে বের করতাম আমি । খুব কাছ থেকে খেয়াল করতাম তাকে । কেনো এমন করছিলাম,তা আমি নিজেই জানি না । মেয়েটা কারো সাথে কথা বলে না,ব্যাপারটা খুব অদ্ভুত মনে হচ্ছিলো আমার ।



একদিন আমি নিজেই মেয়েটার পাশে গিয়ে বসলাম । বললাম,"আপনার নামটা জানতে পারি ?"

প্রশ্ন শুনে মেয়েটা খুব অবাক হয়েছে বলে মনে হল । পালটা প্রশ্নে সে বলল,"আমাকে বলছেন?? " যেনো বিশ্বাসই করতে পারছে না,তার সাথে কেউ কথা বলতে এসেছে ।

তারপর বলল,"মেধা ।"



এর পরেই জানালার দিকে তার মুখ ঘুরিয়ে ফেললো । ভদ্র ভাষায় বুঝিয়ে দেয়া,"আপনার সাথে কথা বলতে আমি ইচ্ছুক নই । "



বিরক্ত হয়েছিলাম । ভাবলাম,কি দেমাগী মেয়েরে বাবা । এমন বলেই তো কেউ কথা বলে না ।

কিন্তু,আমি কেনো যেনো কথা না বলে থাকতে পারলাম না । প্রতিদিনই মেধার পাশে গিয়ে বসতাম । তার সাথে হাজারো বিষয় নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করতাম । প্রথম দিকে সে আমার দিকে তাকাতেও চাইতোনা । আজকাল তাকায় ,তবে খুশি হচ্ছে নাকি বিরক্ত হচ্ছে বোঝা মুশকিল ।



বুঝতে পারছিলাম আমাকে সে কিছু বলতে চায় । সেই কিছু টা কি,আমার জানা নেই । এই বয়সের একটা মেয়ের চোখে এতো শূন্যতা কেনো,জানতে খুব ইচ্ছা হয় আমার । কিন্তু,জিজ্ঞেস করার সাহস হয়ে ওঠে না । বুঝতে থাকি,আমার আকাশটায় রংধনুর রাজত্ব শুরু হচ্ছে ধীরে ধীরে । আমি কথা বলে যেতে থাকি,এই আশায় কোনদিন হয়তো মেধা আমাকে সব খুলে বলবে । আর আমিও জানাবো আমার এতো কথার ভীড়ে লুকিয়ে থাকা ভালোবাসার কথাগুলি ।



একদিন হঠাৎ করে ভার্সিটিতে আসার সময়,মেধাকে দেখলাম কোন একটা ছেলের দিকে ছুটে যেতে । কি হয়েছে বুঝে উঠার আগেই দেখি,মেধা মাটিতে বসে পড়েছে । আমি ছুটে গেলাম । ছেলেটা কিছুক্ষণ বিব্রত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকার পর কি করবে বুঝতে না পেরে চলে গেলো ।



মেধাকে কিছু জিজ্ঞেস করিনি । ওকে জোর করে ঘুরাতে নিয়ে গেলাম । রিকশায় উঠেও বিপদে পড়ে গেলাম । কোথায় যাব বুঝতে পারছিলাম না । ও অনবরত কেঁদেই যাচ্ছিলো । এক সময় মেধা নিজেই বলল,সে হলে ফিরে যেতে চায় । আমি ওকে নামিয়ে দিয়ে চলে এলাম ।



মেধার কথা-



গতকাল তৌফিক ভাইয়ের সাথে দেখা হয়েছিলো । এখন মনে হচ্ছে,দেখা না হলেই ভালো ছিলো । শ্রাবনের বন্ধু তৌফিক । দুজনই একই সাথে পড়ালেখা করছিলেন । কলোনীতে থাকতে অবশ্য কখনো তার সাথে কথা বলা হয়ে ওঠেনি । কিন্তু,গতকাল তাকে দেখে কথা না বলে থাকতে পারিনি । যাব না,যাব না করেও,আমি ই ছুটে গিয়েছিলাম ।



শ্রাবনের কথা জানতে ছুটে গিয়েছিলাম । অনেক কিছু জানার ছিলো আমার শ্রাবণের কাছ থেকে । কিন্তু,তৌফিক ভাইয়ের কাছ থেক সব কিছুর এমন অসম্ভব জবাব তো আমি শুনতে চাইনি ।



তৌফিক ভাইয়ের থেকে জানলাম,চিটাগাং থেকে চলে আসার অল্প কিছুদিন পরেই শ্রাবণ সুইসাইড করে । কেনো সে এমন করলো,সেটা রহস্যই থেকে গেলো । শান্ত,চুপচাপ নির্ভেজাল একটা ছেলে । কারো সাথে কোন কালে কোন ঝামেলা ছিলো না । তার কথা থেকেও কখনো বোঝা যায় নি ভেতরে ভেতরে এই ভয়ঙ্কর চিন্তা সে পুষে রেখেছিলো ।



কয়েকদিনের জন্য পালিয়ে যেতে ইচ্ছা করছে । মা কে ফোন করে তাই জানিয়ে দিলাম,কয়েকদিনের জন্য চিটাগাং থেকে বেড়িয়ে আসব । রুদ্র কে কি কিছু জানানো উচিৎ ? পরক্ষণেই এই চিন্তা বাতিল করলাম । কি দরকার ? আমি ভার্সিটিতে না গেলে ওর কোন সমস্যা তো হওয়ার কথা নয় ।



রুদ্রের কথা-



এই ঘটনার পর অনেকদিন পেরিয়েছে । মেধা এরপর বেশ কয়েকদিন ভার্সিটিতে আসেনি । ফোন করে জানলাম,ও চিটাগাং এ । আমি তখনই সব কিছু জেনে নিতে পারতাম । কিন্তু,জিজ্ঞেস করতে পারিনি,কি হয়েছিলো সেদিন ।



মেধা কে কাঁদতে দেখে বেশ বুঝতে পারছিলাম,কিছু একটা হয়েছে । এবং সেটা হয়তো আমার জন্য খুব সুখকরও হবে না । তবে বুঝেছিলাম,ওকে কাঁদতে দেখা আমার জন্য প্রায় অসম্ভব একটা ব্যাপার ।



অনেকদিন সময় নিলাম,ভাবার জন্য । যে চিন্তা মনে রয়ে সয়ে উঁকি দিচ্ছে,তা কতখানি সত্যি জানার জন্য ।



সেদিনের সেই ছেলে কে খুঁজে বের করলাম । তার কাছে সব শুনে আমি স্তম্ভিত হয়ে রইলাম অনেক্ষণ । বেশ অভিমানও হল । এতদিন থেকে ওর সাথে আছি,ও কখনো কিছু বলার প্রয়োজনই মনে করেনি ? না করুক । কিন্তু আমি জানি মেধাকে ছাড়া সব কিছু কেমন ফাঁকা ফাঁকা মনে হয় । ও যখন পাশে থাকে নিজের জীবনটাকে অনেক অর্থবহ লাগে ।



আমি ভেবে ফেললাম । ওকে সব বলব আমি । জানিনা,আমার কথা শুনে কি ভাববে ও । মেধার আমাকে ভালোবাসতেই হবে কথা তো নেই,ভাবুক যা ভাবার ।



অনেক আয়োজন করে তাই চিঠি লিখে ফেললাম ।



সুযোগ বুঝে,সেই চিঠিটা মেধার বইয়ের ভিতর ঢুকিয়ে দিলাম । অনেক হাস্যকর তবুও চিঠিতে লিখে দিয়েছিলাম,"যদি একটুও ভালোবাসো,তাহলে নীল শাড়ি পরে এসো । আমি বুঝে নিবো । "



পরিশিষ্ট-



রুদ্রের চিঠি হাতে নিয়ে মেধা জানালার পাশে বসে আছে । অনেকদিন পর লতানো মানিপ্ল্যান্টে পানি দিলো মেধা । এই মুহূর্তে চিঠি হাতে জানালার বাইরে তাকিয়ে আকাশ দেখার চেষ্টা করছে সে । চোখে,থেকে থেকে জমে উঠা পানি চোখের গভীরতা বাড়িয়েই চলেছে ।

অনেকদিন আগে এমন একটা কান্ড সেও করেছিলো । কিন্তু,তার অপেক্ষা পূর্ণতা পায়নি । আজ অন্য কেউ তার উত্তরের জন্য অপেক্ষা করে আছে অনেক আগ্রহ নিয়ে,ভালোবাসা নিয়ে...






- ফারহানা নিম্মী
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×