somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজ কোন রুপকথা নেই...

২৯ শে জানুয়ারি, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১।

আজ মন প্রচন্ড ভালো । এর পিছনে দুটো কারণ হতে পারে । প্রথমত, আজ আমার জন্মদিন(এইটা নিয়ে আমি ১০০% নিশ্চিত… :P) । দ্বিতীয়ত, অভ্র নিশ্চয়ই আমার জন্য কোন একটা সারপ্রাইজ প্ল্যান করে রেখেছে(প্রতিবারই রাখে; তাই এই ব্যাপারে আমি ২০০% নিশ্চিত… :D) ।



অনেক কাজ আজকে । তবুও অন্যদিনের মতো আলসেমি করে ঘুম থেকে উঠে অনেক সময় নিয়ে গোসল সারলাম । তারপর গালভরা হাসি নিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বললাম, “শুভ জন্মদিন রুপকথা” । রুপকথা নামটা অভ্রের দেয়া; আমার নাম শুধুই কথা । প্রথম যখন পরিচয় হয় আমাদের, অভ্র আমাকে বলেছিলো, “কথা আবার কেমন নাম ? শুনলেই চোখের সামনে কেমন বাচাল টাইপ মেয়ের ছবি ভেসে উঠে ?”



দিন গড়ায় । এরপর বন্ধুত্বের কোন এক বিকেল বেলায়,অভ্র বলে, “তোর নাম রুপকথা হলে বেশ হয় । তুই যা আজগুবি, এইরকম মনে হয় বাস্তবে কোন মেয়ে হয় না ।”



“রুপকথা” নামটা আমার ভীষণ পছন্দের,তাই ফেবু নামও “রুপকথা” দিয়ে রেখেছি । ইচ্ছা আছে,নামটা বিয়ের পর পরই এফিডেভিড করে পারমানেন্ট করে ফেলার ।





এখন সবাই হয়তো ভাবছেন, অভ্র-কথার রিলেশনে সামথিং ফিশি গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে । যা ভাবছেন,আসলে তাই । তবে,সামান্য ক্যাঁচাল আছে । কয়েক বছর আগেই আবিষ্কার করেছি,আমি অভ্র নামের ছেলেটার প্রেমে প্রবল ভাবে পড়ে বসে আছি । কিন্তু,খুব ভালো বন্ধু হওয়ায় সামান্য ঝামেলায় আছি । বলি বলি করেও গোপন কথাগুলো বলা হচ্ছেনা । তাছাড়া মেয়েদের নাকি আগে প্রপোজ করতে নাই । দাম থাকে না ।



আমি দিব্যি বুঝতে পারি গাধাটাও আমাকে পছন্দ করে । কিন্তু,ওই যে ছেলেরা যদি সব বুঝেই ফেলে তাহলে “গাধা” নামকরণের কি সার্থকতা ?



নিজের জন্মদিনে অভ্রের জন্য সামান্য চমক রেখেছি আমি । গাধাটা আমাকে সারপ্রাইজ দিতে এসে নিজেই সারপ্রাইজ্‌ড হয়ে যাবে । আজ অনেকদিনের ভেবে রাখা কথাগুলো অভ্রকে বলবো । ওকে বলবো, “তুই বুঝিস না,তুই আমাকে ভালোবাসিস ?তোর বুঝাবুঝির কাজ নাই । আমি ভালোবাসি এটাই ইম্পর্টেন্ট । এখন নিজ থেকে আমার হাত ধরবি ? নাকি এটাও আমারই করতে হবে ?”



ওর চেহারা যা হবে…ভেবেই মজা পাচ্ছি…



সবকিছু চিন্তা করে রেখেছি, প্ল্যান ফেল হওয়ার প্রশ্নই আসে না । প্ল্যানের প্রথম পর্ব মোটামুটি ভালো ভাবেই সম্পন্ন হয়েছে । অভ্র যাতে রাতে ফোন করতে না পারে তাই ফোন সুইচ্‌ড অফ করে রেখেছিলাম । সকালে অভ্রের ম্যাসেজ দেখে বুঝলাম,প্ল্যানের দ্বিতীয় পর্বও সাকসেসফুল । মোবাইল স্ক্রীনে কমা-ফুলস্টপ ছাড়া এক লাইনের ম্যাসেজ ভেসে উঠেছে “১১টায় মেডিকেলের সামনে” । আমার মুখে হাসি ফুটে উঠে ।



রেগে গেছে অভ্র ।






২।

প্রথমে ভাবছিলাম ভুল দেখছি । পৌনে একঘন্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকে হ্যালুসিনেশন হচ্ছে নিশ্চয়ই । শাড়ি পরা একটা মেয়ে হাসিমুখে আমার দিকে হেঁটে আসছে । আমি আশেপাশে বার দুয়েক তাকিয়ে মেয়েটার দিকে আবার তাকাতেই বুঝলাম,মেয়েটা আসলে কথা ।



হালকা নীল রঙের শাড়িতে অপূর্ব লাগছে মেয়েটাকে । অনেক চেষ্টা করছি রাগটা ধরে রাখতে । পারা যাচ্ছে না । আমি অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে ফেললাম ।



“কিরে,বেশিক্ষণ দাঁড় করিয়ে রেখেছি নাকি?”



“পৌনে বারটা বাজে । আর আসছিস কেন? আমি নাহয় ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকলাম,সবাই তো আর আমি না ।”



বলতে বলতেই এই বিচ্ছু মেয়েটার দিকে তাকালাম । দেখে মনে হচ্ছে খুব অবাক হয়েছে আমার কথায় । চোখ বড় বড় করে জিজ্ঞেস করলো, “সবাই মানে ? আর কে অপেক্ষা করছে ?”



আমি বললাম, “সবাই । তোর জন্মদিন,আর বন্ধুরা আসবে না ? রাহীন,সামান্তা,তরু,আবির আরো ১০-১২ জনের গ্যাং তোর জন্য অপেক্ষা করে আছে । আজ তোর কপালে খারাবি আছে ।”



কথা আমতা আমতা করে একবার শুধু বললো, “সবাই এসেছে !”





আমি আর কথা না বাড়িয়ে উঁচু গলায় রিকশাওয়ালাকে ডাকলাম । অন্য সাধারন দিনগুলোর মতো চুপচাপ রিকশায় উঠে না পড়ে, ভাড়া নিয়ে অহেতুক ঝগড়া করতে শুরু করলাম । একটু পরে খেয়াল হলো,মেয়েটা কান্না থামানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছে । কাঁদুক একটু । বেশিরভাগ মেয়েকে কাঁদলে ডাইনীর মতো লাগে । এই মেয়ের কাহিনী অন্য । এ যাই করে,তাতেই অপূর্ব লাগে । আমি আড়চোখে তাকাই । বুকের বাঁ পাশটা কেমন যেন করছে,আমি অবাক হয়ে ভাবি “এর নামই কি ভালোবাসা?” ।





৩।

“আরণ্যক” নামের আলো-আঁধারি এক রেস্তোরায় বসে আছি । এক হাত দূরত্বের মানুষটার চেহারাও এখানে স্পষ্ট হচ্ছে না । এই টাইপ রেস্তোরায় সবার আসতে চাওয়ার কারণ কি,কে জানে ? একটু লজ্জা লজ্জাও লাগছে । এভাবে সেজেগুজে এসেছি,সবার কাছে কি পঁচানিটা জানি খেতে হয় । আর ছেলেটাও কেমন । এখানে বসিয়ে দিয়ে, “আসছি” বলে হাওয়া হয়ে গেছে ।



প্রচন্ড মাথা ধরেছে । কেমন অদ্ভুত একটা কষ্ট হচ্ছে । অনেকদিনের গুছিয়ে রাখা কথাগুলো সাহস করে আর বলা হবে না হয়তো । আচ্ছা,এমন কি হতে পারে অভ্র আমাকে ভালোই বাসে না ? অন্ধ পিপীলিকার মতো আগুনের চারপাশে আমি একলাই জ্বলে মরছি…



অভ্রের কথায় চিন্তায় ছেদ পড়লো ।



আমার দিকে বড় একটা ঠোংগা এগিয়ে দিয়ে বললো, “নে ধর্‌”



প্রথমে মনে হলো,রেস্তোরায় বসিয়ে রেখে বাদাম নিয়ে আসার মানে কি । ঠোংগাটা হাতে নিয়েই বুঝলাম,ভেতরে শিউলি আর বেলী ফুল মোড়ানো । কোন একদিন বলেছিলাম,এই দুই ফুল আমার খুব প্রিয় । এই নিরেট শহরে শিউলি ফুল সে কই পেয়েছে কে জানে ?



এরপর প্রায় শোনা যায় না এমন ভাবে অভ্র বলে উঠলো, “তুই কি জানিস,তুই ই আমার দেখা একমাত্র মেয়ে যাকে কাঁদলেও ইন্দ্রানীর মতো লাগে । তোর চোখে আমার জন্য যে অনুভূতিটা দেখি,তা যদি সত্যি হয়,তাহলে বিপদে পড়ে যাবি । তোর কান্না দেখার লোভে আমি তো ইচ্ছা করে তোর সাথে ঝগড়া করবো ।”



কি বলতে চেয়েছিলাম,অনেক চেষ্টা করেও আর মনে করতে পারলাম না । গাধার মতো নিঃশব্দে কেঁদেই যাচ্ছি । চোখ ভর্তি করে একটু পরপর পানি জমছে । জানি,আমার পাগলামি দেখে অভ্র হাসছে ।



প্রচন্ড ইচ্ছা করছে অভ্রের হাত ধরতে । আমি কি বলবো, “তোর হাত ধরতে ইচ্ছা করছে খুব…”



ভাবতে ভাবতেই দেখি অভ্র হাত বাড়িয়ে বলছে, “তোর জন্য ফুল আনতে গিয়ে বেখেয়ালে হাত ছিলে ফেলেছি । এই দেখ !”



ভেজ়া চোখেই আমি হেসে উঠি । আচ্ছা,অভ্র কি দেখতে পাচ্ছে ? দেখুক..ও চাইলেই কাঁদতে হবে নাকি??





[ এক জনের জন্য সুইট টাইপ অনুগল্প লেখার ইচ্ছা ছিলো...এই নেকু নেকু গল্পটা তোমার জন্য... :P ]





-ফারহানা নিম্মী
১৭টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×