somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আঁধারের অরুন্ধতি-১ (অনুফার চিঠি)

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ দুপুর ১:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৩ ই ফেব্রুয়ারী,১৯৮২
সন্ধ্যা ৭ টা বেজে ৩০ মিনিট
নতুন ডায়েরীটাতে লেখা শুরু করেছি । নীল মলাটের ডায়েরী । পুরনো টার পৃষ্ঠা শেষ হয়ে গেছে । নতুনটায় লেখা শুরু করার আগে পুরনো টা পড়ে দেখছিলাম । প্রায় তিন বছরের দিনলিপি বাঁধা তাতে । ডায়েরী লেখার কতই না মজা । সবাই সব ভুলে যায় । আর আমি ডায়েরীকে সব মনে রাখতে বাধ্য করি ।


১৮ ই ফেব্রুয়ারী,১৯৮২
বিকেল ৫টা বেজে ৪৫ মিনিট
আজ বড়দা খুব বকেছেন । মিলিদের বাড়িতে মেহমান দেখতে গিয়েছিলাম বলে । ওর ভাইয়ার বন্ধুরা শহর থেকে বেড়াতে এসেছে । অনেকদিনের জন্য এসেছে । ওরা খুব নাকি জ্ঞানী মানুষ । আর মজার মজার সব কথা বলে । শুনতে গিয়েছিলাম শুধু । রাগের কি আছে অত ?


২ ই মার্চ,১৯৮২
রাত পৌনে ৯টা
অতুল দার সাথে আমার খুব ভাব হয়েছে । এতো মজা করে কথা বলেন উনি । দেখতে এতো সুন্দর কেন অতুলদা ? গাড় মেরুন ফ্রেমের মোটা কাঁচের চশমাটা এতো সুন্দর চোখগুলোকে আড়াল করতে পারেনি একটুও । উনি যখন চোখ বড় বড় করে কথা বলেন,আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকি । এতো মায়া লাগে ।

৮ ই মার্চ,১৯৮২
সকাল ৮টা
কিছুক্ষণ আগে ডাকাতিয়া বিল থেকে ঘুরে এলাম । আমি,মিলি,স্বপনদা,অতুলদা আর স্বপনদার বাকী বন্ধুরা গিয়েছিলাম । নদীতীরে সুর্যোদয় দেখবো বলে । আমি আর অতুলদা আস্তে আস্তে হাঁটতে গিয়ে সবার পিছে পড়ে গেলাম । অতুলদা হাত নেড়ে গল্প করছিলেন । এক পর্যায়ে আমার কাছে জানতে চাইলেন, “অনুফা,তুমি রবীন্দ্র সংগীত পারো ?” খুব মন খারাপ হলো । আমি গান পারি না,তাতে কি ? শিখে নিতে কি খুব সময় লাগবে ?


১০ ই মার্চ,১৯৮২
সকাল ৮টা বেজে ৩০ মিনিট
খুব কান্না পাচ্ছে । অতুলদা কে নিয়ে এতো মিষ্টি একটা স্বপ্ন দেখলাম কেন ?


১২ ই মার্চ,১৯৮২
বিকেল ৪টা
মিলির কাছে শুনতে পেয়েছিলাম,অতুলদা ১৭ তারিখ চলে যাবেন । হঠাৎ মনে হলো পুরো পৃথীবি ফাঁকা হয়ে গেছে । পরদিন আস্তে করে ঘরের খিল খুলে বেরিয়ে এলাম । মিলিদের বাসায় যাব । গিয়ে দেখলাম,বিছানায় শুয়ে আছেন অতুলদা । খুব নাকি জ্বর । আমি পাশে বসতেই চমকে উঠলেন অতুলদা । আমায় বললেন, “মিলিরা তো নেই । বিবির হাটে মেলা বসেছে । সেখানে গিয়েছে । আমাকে ছাড়া যেতে চাচ্ছিলো না । আমিই জোর করে পাঠিয়ে দিয়েছি ।”

চাচাও ছিলেন না ঘরে । পুরো ঘরে আমি আর অতুলদা ছাড়া কেউ নেই । কোন দ্বিধা ছাড়াই আমি কপালে হাত রাখলাম । অতুলদা বললেন, “বাড়ি যাও,অনুফা ।”

আমি মাথার কাছে ঝুঁকে এসে বললাম, “আপনি কোথাও যেতে পারবেন না,অতুলদা । কোথাও না...”


১৪ই মার্চ,১৯৮২
সকাল ১১টা
আজ অতুলদার অনেক পছন্দের তেহারী রান্না করেছি । সকালে মিলিদের বাড়িতে গিয়েছিলাম দিয়ে আসতে । মিলি আমাকে দেখলেই মুচকি মুচকি হাসতে থাকে । ও কি জানে,আমি অতুলদাকে বড্ড ভালোবাসি ? কি জানি ? অতুলদা সবে গোসল সেরে এসেছিলেন বোধহয় । আমাকে দেখে চোখ নামিয়ে নিলেন । এতো লজ্জা কেন ছেলেটার ?


১৭ই মার্চ,১৯৮২
সন্ধ্যা ৭টা
আজ কিছু না জানিয়েই অতুলদা রা চলে গিয়েছেন । আমি দুপুরে গিয়ে দেখলাম বাড়িটা খাঁ খাঁ করছে । মিলিকে জিজ্ঞেস করতেই বললো, “তোকে না বললাম,অতুলদা রা আজ চলে যাবেন ? ভোরেই তো বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেছেন ।”

আর কিছু শুনতে পাচ্ছি না । মাথাটা ভোঁতা লাগছে । ঘোরের মাঝেই জানতে চাইলাম, “অতুলদা আমাকে কিছু বলে জাননি ?”

মিলির উত্তর পাবার আগেই মাটিতে বসে পড়লাম । মিলি বাড়িতে নিয়ে আসতে চাইছিলো । আমি একলাই বাড়িতে ফিরেছি কাঁদতে কাঁদতে । ভাবী একটু পরপর রুমে উঁকি দিচ্ছেন,কিন্তু ভয়ে কিছু জিজ্ঞেস করতে পারছেন না ।


১৩ ইএপ্রিল,১৯৮২
সন্ধ্যা ৭টা
আজকাল কিছু লিখতে ভালো লাগে না । ইচ্ছে তোমায় দিলেম ছুটি...


২০শে মে,১৯৮২
রাত ৯টা
আমার মধ্যে কিছু একটা পরিবর্তন উপলব্ধি করতে পারছি । আজ বেশ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম । ভাবী কেমন অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন ।


২৩ শে মে,১৯৮২
রাত ৮টা বেজে ৩০ মিনিট
আজ থেকে আবার লিখব । তোকে চিঠি লিখব । অতুলদা চলে যাওয়ার পর কতদিন অপেক্ষা করেছি একটা চিঠির জন্য । ভেবেছিলাম,অতুলদারও অনেক কথা বলা হয় নি বুঝি । আজকাল কারো জন্য অপেক্ষা করি না । এখন শুধু তোর কথা ভাবি । আচ্ছা অতুলদা থাকলে তোর কি নাম দিত,বলতো ? কাব্যিক মানুষ; অনেক ভারী নাম কপালে জুট্‌তো তোর ।


২৯ শে মে,১৯৮২
রাত ৯টা
আজ কয়েকদিন থেকেই “নীলন্তি” নামটা মাথায় ঘুরছে । তোর নাম দিলাম “নীলন্তি” ।


২রা জুন,১৯৮২
রাত ১০টা বেজে ৩০ মিনিট
নীলন্তি মা রে,আমি কি করব,বল ? বড়দা সেদিন গায়ে হাত তুলেছেন । বাবা-মা মারা যাওয়ার পর এই প্রথম গায়ে হাত তুলেছেন দাদা । তারপর সে কি কান্না তার । আমি কি এতোই খারাপ ? সবাই কেন আমাকে ভুল বোঝে ? আমার স্বপ্নে কখনো তো আমরা দুজন ছিলাম না শুধু । অতুলদা ও আমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলো । আমি কি এতো খারাপ ?


৪ঠা জুন,১৯৮২
সন্ধ্যা ৭টা
বড়দা আমার সাথে কথা বলেন না । ভাবী এসে আমার ঘরে খাবার দিয়ে যায় । ঘরে থেকেও আমি নেই । ভালোই হয়েছে । আজকাল আলোতে চোখ জ্বালা করে । আমার আঁধারই ভালো । মা রে,তোকে বুকে নেয়ার জন্য প্রাণটা আকুলি-বিকুলি করে । তোর গায়ের ঘ্রাণ আমি এখনই পাই । অনেক ভালোবাসি তোকে । আজ বহুদিন পরে মায়ের কথা ভেবে কাঁদলাম ।


১৮ ই জুন,১৯৮২
দুপুর ২টা
প্রায়ই অসুস্থ থাকি । তোকে বহুদিন পর লিখতে বসলাম । আজকাল শুধু মনে হয়,বেশিদিন বাঁচবো না । কদিন আগে গা কাঁপিয়ে জ্বর এলো । আধো ঘুম-আধো জাগরণে দেখলাম দাদা পাশে বসে কাঁদছেন । আমার দাদাটা এতো ভালো কেন ?


২৯ শে জুন,১৯৮২
বেলা ১২ টা
সকালে বেশ জ্বর জ্বর লাগছিলো । এখন ভালো লাগছে । গতরাতে স্বপ্নে দেখলাম,তুই বেণী দুলিয়ে ছড়া বলছিস । তোর চোখজোড়া এতো পরিচিত লাগছিলো !


১১ই জুলাই,১৯৮২
দুপুর ২টা
ভাবী আজকাল সারাক্ষণ আমার ঘরে থাকেন । রাতেও আমার সাথে শুয়ে থাকেন । যদি কিছু দরকার হয় তাই । আমি জানি বড়দা ই ভাবীকে আমার সাথে এসে থাকতে বলেছেন । ভাবী জোঁকের মতন পিছে লেগে থাকেন । কদিন হল কিছু খেতে পারি না । প্রচন্ড খারাপ লাগে । মিলি এসেছিলো আজ । ভাবী দেখা করতে দেন নি আমার সাথে । অতুলদা কি কোন চিঠি দিয়েছেন আমাকে ?


২৩ শে আগস্ট,১৯৮২
সন্ধ্যাবেলা । সময় দেখা হয়নি । ঘরে ঘড়ি নেই ।
তুই কি অনেক চঞ্চল হবি ? আমার মতো ?


২রা সেপ্টেম্বর,১৯৮২
রাত ৮টা(আজকাল ঘর থেকে বেরোই না । ভাবী বলে গেছেন ।)
মার কথা আজ মনে পড়ছে অনেক । অনেক বেশি । আজকাল কিছু লিখতে পারি না । প্রচন্ড ক্লান্তি...


১৩ই নভেম্বর,১৯৮২
বেলা ২টা
তোকে আমি লিখে যাব । তাতে কি ,তুই নেই ? সবাই আমাকে ছেড়ে চলে যায় । তুই আগেও চোখের আড়াল ছিলি । এখনো তাই । তফাৎ শুধু এটুকুই আগে তোর বুকের ধুকপুকানি অনুভব করতাম । এখন আর করি না । কান পাতলেই গভীর শূন্যতা...


৩০ শে নভেম্বর,১৯৮২
সন্ধ্যা ৬টা
আজ বড়দা আমাকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিলেন । তিনি আমার বিয়ে দিতে চান । আমি মানা করিনি । বড়দার চোখের পানিকে উপেক্ষা করতে পারিনি বল্‌তে পারিস । তুই কি জানিস্‌ , আজকাল আমার প্রায়ই মনে হয়,তুই আমার আশেপাশেই কোথাও আছিস । কতবার তোর কান্নার আওয়াজে ভর দুপুরে দিশেহারা হয়ে তোকে খুঁজেছি ।


১৮ই ডিসেম্বর,১৯৮২
বিকেল ৫টা
আজ আজহার মুন্সী এসেছিলেন বাড়িতে । বাবা-মা মারা যাওয়ার পর প্রায়ই বাড়িতে আসেন তিনি । আমাদের খোঁজ-খবর নিয়ে যান । উঠোনের শুকনো কাপড় আনতে গিয়ে চাচার সামনে পড়েছি । চুল-দাঁড়িতে পাক ধরা বয়স্ক মানুষ । বয়সের ছাপ তেমন কাবু করতে পারেনি তাকে । চাচার হাসিতে শিশুসুলভ একটা সারল্য দেখেছি সবসময় । এরা বোধহয় সেই মানুষগুলোর মধ্যে,যাদের বয়স একটা সময়ে গিয়ে আটকে যায় ।


পহেলা জানুয়ারী,১৯৮৩
সকাল ১০ টা
দুপুরে আজহার চাচা তার ভাতিজা কে নিয়ে আমাকে দেখতে আসবেন । ভাবী আর ভাইয়া তা ই বলে গেছেন । প্রথমে অবাক হয়েছিলাম খুব । আমাকে বিয়ে করতে রাজী হয়েছে,সেই মানুষটাকে একবার দেখতে বড় ইচ্ছা হয় ।


পহেলা জানুয়ারী,১৯৮৩
রাত ৯ টা
মানুষটাকে দেখলাম । নামের মতই সাধারণ দেখতে । সাদা রঙের শার্ট ঘামে ভিজে জব্‌জব্‌ করছিলো । ভাবীর সাথে ঘরে ঢুকুতেই কেমন একটা ভয় ধরে গেলো মনে । অতুলদাকে অন্ধের মত বিশ্বাস করেছিলাম । অথচ আজ পরীক্ষা দিচ্ছি আমি । ছেলে পক্ষ আমাকে নাম্বার দেবে ? কত পেতে পারি ? দশে ছয় ? বিশ্বাসের পরীক্ষা আজীবন আমাদেরই কেবল দিতে হয় । কেন ?


৮ই জানুয়ারী ,১৯৮৩
সন্ধ্যা ৭ টা
কাল আমার বিয়ে । কোন উৎসব হবে না,কিছুই না । কাজী ডাকিয়ে “কবুল” বলা বিয়ে । ভাবী কিছু আগে বিয়ের শাড়ি,জরি ওড়না,সামান্য গয়না আর আলতা রেখে গেছেন ।


১০ ই জানুয়ারী ,১৯৮৩
সকাল ১১টা
অদ্ভুত ব্যাপার,জানিস ? মানুষটা রুমে ঢুকেই পাশ ফিরে শুয়ে পড়েছেন । আমি কত কথা বলবো বলে গুছিয়ে রেখেছিলাম । অনেক কিছু জানারও তো ছিলো ।


১৩ই জানুয়ারী ,১৯৮৩
বেলা ১২টা
আমার সাথে কোন কথা বলেনি এখনো মানুষটা ! অথচ সারাক্ষণ আমার আশেপাশেই থাকেন । কখনো কলম নেয়ার বাহানায় ঘরে আসেন,কখনো আফিফার সাথে কথা বলার বাহানায় । একবার বলেছিলাম, “আপনি কি আমাকে কিছু বলতে চান ?” লোকটা চমকে উঠে বললো, “কই, না তো...”

এরপর দ্রুত ঘর থেকে বেরুতে গিয়ে আরেকটু হলে তাল হারিয়ে পড়েই যাচ্ছিলেন ।


১৭ ই জানুয়ারী ,১৯৮৩
বিকেল ৪টা
প্রায়ই হাসান চোখের সামনে বই ধরে থাকতেন । ও তোকে তো বলাই হয় নি , মানুষটার নাম হাসান । সারাদিন কেবল পড়া আর পড়া । এতো কি লেখা থাকে ওতে ? আমি আর আফিফা খাটের উপর লুডু খেলতাম । আমি বেশ বুঝতে পারতাম,আমার জন্য পড়ায় মনোযোগ দিতে পারছেন না সে । বেচারা একটু পরপর আড়চোখে তাকাতো কেবল । কিছু বলতো না লজ্জায় ।


২০ শে জানুয়ারী ,১৯৮৩
রাত ৮টা
লোকটা আমাকে কিছুই জিজ্ঞেস করে না । কেন ?


২৭ শে জানুয়ারী ,১৯৮৩
সকাল ১১টা
শুনলাম সে ঢাকায় চলে যাবে । সামনে নাকি কি পরীক্ষা আছে । পরীক্ষার তো আরো একমাস বাকী । এতো তাড়াতাড়ি না গেলে কি হয় ? কি করব আমি এতো বড় বাড়িতে একা একা ? মানুষটার জন্য অদ্ভুত একটা টান অনুভব হয় । বিয়ের পর একবুক দুশ্চিন্তা নিয়ে এবাড়িতে এসেছিলাম । কিন্তু,অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম,বাড়িটাকে একটুও পর মনে হচ্ছে না । চাচা আমাকে মেয়ের মতো ভালোবাসতেন । ও তোকে বলা হয়নি,চাচার সাথে আমার একটা মিল আছে । চাচাও তার ভালোবাসার মানুষটিকে পাননি । যুদ্ধের সময় মিলিটারীরা ধরে নিয়ে গিয়েছিলো নাকি । এরপর আর বিয়েই করেননি তিনি ।


১৩ ই ফেব্রুয়ারী, ১৯৮৩
দুপুর ৩টা
আজ সকালে ঢাকায় চলে গেছে মানুষটা । খারাপ লাগছে খুব । বেশি লাগছে অবাক । মানুষের অনুভুতিগুলো এতো তাড়াতাড়ি বদলায় ?


১৪ই ফেব্রুয়ারী ,১৯৮৩
সকাল ১০ টা বেজে ৩০ মিনিট
আজ একটা মজা করতে ইচ্ছা করছে । মানুষটাকে চিঠি পাঠাবো । সাদা কাগজে সাবান দিয়ে লিখব । কাগজ পানিতে ভেজালেই যাতে লেখা ফুটে উঠে । প্রথমে সাদা কাগজ পেলে কি অবাক ই না হবে মানুষটা...পরে পানিতে ভেজালেই দেখতে পাবে,তাতে লেখা “আপনি এতো ভালো কেন ?” ভেবেই আনন্দ হচ্ছে ।


২০ শে ফেব্রুয়ারী,১৯৮৩
বিকাল ৫টা বেজে ৪৫ মিনিট
আজ মানুষটা চিঠি পাঠিয়েছে । কি অদ্ভুত ব্যাপার ...পুরো সাদা একটা কাগজ খামে ভরে পাঠিয়ে দিয়েছে । কিছুই বোঝেনি মানুষটা । মানুষটা তো আচ্ছা বোকা !


২৪ শে ফেব্রুয়ারী,১৯৮৩
রাত ৮টা
চিঠির আদান প্রদান চলছেই । সে এখনো খালি কাগজ পাঠাচ্ছে । কি অদ্ভুত !


১লা মার্চ,১৯৮৩
৬টা বেজে ৩০ মিনিট
আজ বিধান বাবু এসেছেন বাড়িতে । কদিন থেকেই থেকে থেকে জ্বর উঠছে । আফিফা চাচাকে বলে দিয়েছে । বড়চাচা সে কি বকা ! রাগ উঠলে চাচা এক কথা বারবার বলতে থাকেন । লোকটা একদম ছেলেমানুষ !


২রা মার্চ ,১৯৮৩
সকালবেলা
বিধানবাবু আজ আবার এসেছিলেন । চাচাকে কি যেন বলতেই চাচার মুখ কালো হয়ে গেলো । আমার কাছেও এসে বলছিলেন, “তুই দুঃশ্চিন্তা করিস্‌ না একদমই । তোকে ভালো ডাক্তার দেখাবো আমি ।” আমি চাচার কথা শুনে হেসে ফেললাম...


৪ঠা মার্চ ,১৯৮৩
রাত ৮ টা
শরীরের খুব দ্রুত অবনতি ঘটছে । আজকাল পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াতেও পারি না । সারাক্ষণ বিছানায় শুয়ে থাকি । বড়দা আর ভাবী ও দেখতে এসেছিলেন । বিয়ের পর বড়দা আজই প্রথম আমার সাথে কথা বলেছেন । কি যে আনন্দ হচ্ছে !

সবাই আমাকে কত করে বললেন,হাসান কে জানাতে । আমি মানা করেছি । বেচারা হয়তো পরীক্ষা ছেড়েই চলে আসবে তাহলে । মা রে,আমার পৃথিবীটা খুব ছোট । এই ছোট পৃথিবীটার জন্য খুব মায়া হয় । মায়া হয় তোর জন্য,হাসানের জন্য,বড়চাচা,বড়দা,ভাবী,আফিফা সবার জন্য । আজ কয়েকদিন ধরে অতুলদার চেহারাটা মনে করার চেষ্টা করেও পারছি না । চেষ্টা করলেই হাসানের ছবিটাই আগে চোখে আসে । মানুষটার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে । এতো ভালোবাসার যোগ্য কি আমি আদৌ ছিলাম ?


১৫ ই মার্চ,১৯৮৩
সন্ধ্যা ৬টা
মা নীলু,আজকাল কিছুই লিখতে পারি না । আফিফা আমার জন্য ডায়েরীতে ছবি এঁকে দেয় । তুই থাকলেও কি তাই করতিস্‌ ?



এরপর আর কিছুই নেই । অরণী পাগলের মত পরের পৃষ্ঠাগুলো উল্টাতে থাকে । ওগুলোতে কাঁচা হাতের আঁকা ছবি ছাড়া আর কিছুই নেই । কোথাও কোথাও শুধু তারিখটা ই লেখা আছে । চশ্‌মার কাঁচে ধীরে ধীরে বাষ্প জমতে শুরু করেছে । আজ দুপুরেও সব ঠিক ছিলো । লোকটা আসার পরই পৃথিবী টা ওলট-পালট লাগছে । কেন এতো বছর পর তার সাথে দেখা হলো ? এক সময় তো অরণীও সব ভুলেও গিয়েছিলো । লোকটা এতোবছর পরে কেন মনে রেখেছে সবকিছু ?
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×