১/ গতকাল বিকেলে বাংলামোটর মোরে দেখি পুলিশ আর পুলিশ। ব্যাপার কি? কোন ঝামেলা হল নাকি আবার? প্রধানমন্ত্রী গেলেও তো রাস্তায় এত পুলিশ এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে না। তো? তখনই মাইকে শোনা গেল একজন বলছেন, "রাস্তা পারাপারে ফুট-ওভারব্রিজ ব্যাবহার করুন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হবেন না"। মনে পড়লো, সকালে পত্রিকায় পড়েছিলাম এমন তৎপরতার কথা। যাক, ভালো উদ্যোগ। এভাবে প্রতিদিন চললে রাস্তায় জীবনঝুঁকি অনেক কমে যাবে। তবে বিপদে পড়েছেন তারা, যারা এমন অভিযানের কথা জানতেন না। এক মহিলা আপনমনে প্রতিদিনের মতো ফাঁকা সড়ক পেয়ে হেঁটে পার হয়ে গেলেন। উপরে ওঠার অভ্যাস নেই, বোঝা গেল। এপারে আসতেই দুজন নারী পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে জরিমানা করলো। মহিলার চেহারাটা ছিল এমন যে তাতে স্পষ্ট পড়া যায়- "প্রতিদিনই তো যাই, এতদিন কেউ কিছু বলেনি, হঠাৎ আজ কি হল?" অনেকেই না জেনে এমন অবস্থায় পড়েছেন আজ। এরা হয়তো পত্রিকা পড়েন না, কিংবা টিভিতে খবর দেখেন না।
এরপর রাতে ফেরার পথে দেখা গেল পুলিশের সেই অভিযান আর তৎপরতা নেই। যে যার মতো আগের অভ্যাসেই রাস্তা পার হচ্ছে। আসলে আমরা ধরেই নিয়েছি "এদেশে নিয়ম করাই হয় ভাঙ্গার জন্য"। দূর্ণীতি আর অনিয়ম সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এমনভাবে ঢুকে গেছে, যে চাইলেই এর থেকে নিজেদেরকে বের করে আনতে পারিনা আমরা। দীর্ঘদিনের অভ্যাস বলে কথা!
হঠাৎ দু-তিনদিন ধরপাকড় করার কি দরকার? করলে সারা বছর করেন, নাহলে করার দরকার নাই, হীরক রাজার দেশের মতো যেমন খুশী চলতে দেন।
২/ প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া মানে শিশুকাল থেকেই আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম চোর হয়ে গড়ে উঠছে! ভাবতে পারেন? এতটুকু বাচ্চা তো নিশ্চয়ই নিজে নিজে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন পাবার কথা না, অবশ্যই অভিভাবক তাদের হাতে এটা তুলে দিচ্ছেন। কীভাবে দিচ্ছেন?
আমার তো বিবেচনায় আসে না। কীভাবে পারেন? আপনি কীভাবে চাইতে পারেন, আপনার ছেলে/মেয়ে চোর হোক, সারাজীবন চুরি করুক? শিক্ষাজীবনের শুরুতেই যদি চোরামির পথ শিখিয়ে দেন, তো বাকি জীবন চুরি ছাড়া আর কিছু ভাবতে পারবে ওরা? বুঝলাম না ব্যাপারটা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

