সেদিন বন্ধুরা অনেকটা জোর করেই পোকার খেলা শেখাল। আমি সাধারণত এসব খেলা থেকে দূরে থাকি। খেলতে খেলতে একটা সময় নেশার মতো হয়ে যায়। জয়ের নেশায় পেয়ে বসে। এই জয়ের আশায় থেকে একের পর এক হার হজম করতে আমার ভালো লাগে না। আসলে নেশাজাতীয় কোন কিছুই আমার ভালো লাগে না। আমি ব্যক্তিগতভাবে সব ধরণের নেশা থেকে দূরে আছি এবং থাকতে চাই।
পোকার খেলাটি বেশ মজার। এতদিন বন্ধুদেরকে খেলতে দেখতাম, কিন্তু বোঝার চেষ্টা করা হয়নি কোনদিনই। গত পরশু বন্ধুদের রুমে যেতেই ওরা শেখাল কী করে খেলতে হয় এই খেলা। শুরুতে তাসগুলোর কোনটা কোনটা পেলে কী কী হয় এবং কিভাবে অনুমান করতে হয় এগুলো বুঝতে সমস্যা হতো। তারপরেও সবাইকে অবাক করে দিয়ে প্রথম দানেই জিতে গেলাম, হয়ে গেলাম বড়লোক! এরপর যা খেলেছি, তাতে প্রথমবারের তুলনায় খারাপ বলা চলে না। শেষে যদিও দুবারের দুবারই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে, কিন্তু এটা ঠিক যে বাঘা খেলোয়াড়দের সাথে লড়াইয়ে টিকে ছিলাম পুরোটাই। তারপর রাতে রুমে ফিরে মোবাইলে পোকার নামিয়ে সারারাত খেললাম। রাত জেগে খেললাম, তাতে জয়ের পরিমানই বেশি ছিল। এই যে ঘুম বাদ দিয়ে রাত জেগে একটা কিছু নিয়ে মেতে থাকা, এটাকেই নেশা বলেছি। নেশা বলতে খারাপ কিছু বোঝাইনি।
পরেরদিন বন্ধুরা আবার ফোন করে ডাকলো। প্রথমবার একরকম না করে দিলেও পরেরবার ডাকার পর মনে হল, আজ একটু জিতে আসলে কেমন হয়? ব্যাস, গেলাম এবং সবাইকে অবাক করে দিয়ে জয় করে এলাম। এক জামানতেই শেষ পর্যন্ত খেলে এলাম। উল্টো লাভের মুখ দেখলাম। ২০০০ চিপস নিয়ে শুরু করে একটা সময় হাতে ৭হাজারের ওপর চিপস ছিল। তিন-চার ঘন্টা খেলার পর সেটি ৩৫০০ তে গিয়ে ঠেকেছে। আমি নাকি আসলেই Quick learner!
পোকার খেলতে গিয়ে শিখলাম অনেক কিছু। প্রচুর মাথা খাটাতে হয় এই খেলায়। অনুমানে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আশায় থাকতে হয়। মুহূর্তে একটি কার্ড খেলার মোর ঘুরিয়ে দিতে পারে। সাথে সাথে ঘুরিয়ে দিতে পারে ভাগ্যের চাকাও! বন্ড সিরিজের Casino Royale ছবিটি সর্বপ্রথম এই খেলাটির প্রতি আমাকে আকৃষ্ট করে। এরপর এতদিন পর যখন খেলতে শুরু করলাম, তখন ভালোই লাগলো। শিখলাম কখন রিস্ক নিতে হবে আর কখন সুযোগের অপেক্ষায় থাকতে হবে। খেলোয়াড়দের মনস্তত্বটারো ধারণা পাওয়া গেলো। দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া এবং হার-জিত যেকোন কিছুর জন্য প্রস্তুত থেকে খেলে যাওয়া- শেখার আছে অনেক কিছু। জীবনযুদ্ধে এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


