এবারের ৩৫ তম বিসিএস পরীক্ষাটা বিসিএস এর ইতিহাসে অনন্য। প্রশ্নগুলো দেখলেই বুঝবেন। মুখস্থবিদ্যার দিন শেষ, কোচিং ব্যবসার সমাপ্তি বুঝি আসন্ন। লিখিতের জন্য বাজারে প্রতিটি প্রকাশনের আছে আলাদা আলাদা বই। এক সেটে ৬/৭ টি বই। প্রতিটার দাম লেখা ৯০০ টাকা, নিলখেতে সর্বনিম্ন রেখেছে ৪৪০ টাকা। সে হিসেবে প্রতি সেটের দাম কত? অথচ, এই বইগুলো থেকে এবার কি আদৌ তেমন কিছু "কমন" পড়েছে? গাইড ব্যবসাও বুঝি এবার বন্ধ হবে!
আসলে কিছুই হবে না বন্ধ। নতুন অদ্যমে নতুন আঙ্গিকে আবার "ফ্রি সেমিনার" এর আমন্ত্রণপত্র বিলি হবে। কনফিডেন্সের অভাব যাদের, কাঁড়িকাঁড়ি টাকা দিয়ে তারা আবারও কনফিডেন্সে ভর্তি হবে। তবে, এবার পিএসসি যে ঝাঁকিটা দিলো, তার দরকার ছিলো। প্রশ্ন মোটামুটি স্ট্যান্ডার্ড হচ্ছে। বিগত বছরের প্রশ্ন পড়ে আর মুখস্থ করে হলে গিয়ে কুপিয়ে পরীক্ষা দিয়ে আসার দিন শেষ। এবার বিএসসির প্রতিটা বিজ্ঞপ্তিতে লেখা ছিল, "পড়াশোনা ও জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করুন; চাকরির ক্ষেত্রে কোনরূপ তদবির প্রার্থীর অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে"। ব্যাপারটা সত্যই মানা গেলে এবং নিয়োগ মোটামুটি ফেয়ার হলে, মেধাবিদের মূল্যায়ন হবে। দেশের এই অবস্থায় প্রকৃত মেধাবিদেরকেই দরকার।
বাকি রইল দুই। তবে, বিজ্ঞানের সিলেবাস দেখে শুনলাম বিজ্ঞানের ছাত্ররাও কেউ কেউ "অজ্ঞান" হয়ে পড়েছেন! যেমনটি হয়েছেন গণিত পরীক্ষার দিন! আবার, অনেকেই থাকেন শাহবাগ/মতিঝিল, অথচ সিট পরেছে মিরপুর/শেরেবাংলানগর। দুই ঘন্টায়ও এই বৃষ্টিভেজা সকালে পানিময় রাস্তায় পৌঁছাতে পারেননি অনেকে। সুতরাং ঠিকমত পরীক্ষা দিতে পৌঁছতে পারাটাও যেন এক পরীক্ষা! আবার প্রশ্নপত্র পেয়ে একটা পরীক্ষা দিয়ে আর হলে ফেরেননি এমন পরীক্ষার্থীদের সংখ্যা এবার অনেক। সবকিছু ফেয়ার হলে, ৩৫তম বিসিএস এ যারা ক্যাডার হবেন, তাঁরা প্রকৃত অর্থেই দেশের সেরা মেধাবি হবেন, সবদিক দিয়ে। (৩৪ তমর রেজাল্ট দেখেই মনে হচ্ছে, এবারও নিয়োগ ফেয়ার হবে।)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



