somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধারাবাহিক উপন্যাস: নির্জনতার সমুদ্রে অবগাহন-৮

১৭ ই এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১০:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(৮)
সম্ভ্রান্ত হিন্দু পরিবারের সন্তান ঐশী। মা-বাবা ও ছোট এক ভাই নিয়ে ওদের সংসার। বাবা বিদ্যুৎ বিভাগের প্রোকৌশলী। খালার তিনতলা বাড়ির একটি ফ্লাটে ভাড়া থাকে ওরা। গাঁয়ের বাড়ি রাজশাহীর পুঠিয়াতে। ঐশী এবার এসএসসি পরীক্ষা দেবে। পড়াশুনার ফাঁকে খালাকে সঙ্গ দিতো মাঝে মাঝে। এখন প্রায় প্রতিদিনই আসে এ বাড়িতে। উদ্দেশ্য ভিন্ন। খালাকে লুকিয়ে শ্রাবণের নৈকট্য লাভের প্রচেষ্টা ওর অভিনব। খালার ফাইফরমায়েশ মতো এটা-ওটা এঘর-ওঘর করা থেকে শ্রাবণের প্রয়োজনীয় এটা-ওটাও এগিয়ে দেয় ঐশী। ফাঁকফোকরে কথা হয় সামান্য।

শ্রাবণ জড়ই থেকে যায়। পাছে খালা কিছু টের পেয়ে যান! সহজেই সুযোগ হাতছাড়া করতে নারাজ শ্রাবণ। কথায় বলে, গাই বাছুর পিরীত থাকলে আঁধার রাতেও দুধ দেয়। এমন পরিস্থিতির অপেক্ষায় থাকে ও।

নাজমা খালা ঐশীর চালচলনে কিছুটা বিব্রত বোধ করলেও, মুখে কোনরূপ প্রকাশ ঘটে না তাঁর। মেয়েমানুষ মেয়েমানুষের মন বোঝে। তাঁর বিশ্বাস, শ্রাবণ পাড়াগাঁয়ের ছেলে—ঐশীর সঙ্গে ভাব হতে ওর সময় লাগবে। ততদিনে শ্রাবণ নিজের অবস্থান সম্পর্কে সচেতনও হয়ে যাবে।

আর ঐশী ছেলেমানুষ। এ বয়সে ওরকম একটু-আধটু সবাই করে। নাজমা বেগম নিজেকে দিয়েই বিষয়টি ভাবে। বড় হলে জ্ঞানবুদ্ধি পাকলে এমনিতেই সব ঠিক হয়ে যাবে। একদিন ঐশী কী এক কথায় খালার সামনেই টিপ্পনী কেটে বসলো! খালা বিষয়টিকে হালকা করার জন্য বললেন- ও গাঁয়ের ছেলে। এভাবে বললে ও লজ্জা পায় না? দেখিস না, তোকে দেখে ও ক্যামন জড়সড় হয়ে থাকে? একজন লোককে বাজাতে হলে তার সঙ্গে সহজভাবে মিশতে হয়, বুঝতে হয়।

-তা তো বুঝলাম। কিন্তু এ ছেলেটি ক্যামন মিনমিনে দেখেছেন? একটু চালু নাহলে ভার্সিটিতে পড়বে কী করে?

-দ্যাখ মা, চালু হয়ে কেউ শহর বা ভার্সিটিতে আসে না। এসেই বরং চালু হয়ে যায়। দেখবি ও ঠিক ঠিক চালু হয়ে যাবে।

-শুনেছি উনি ভালো ছাত্রো। ভেবেছিলাম পরীক্ষার পড়াশুনার ফাঁকে ওনাকে দিয়ে একটু দেখিয়ে নেবো, কিন্তু উনি তো আমার সঙ্গে কথাই বলেন না!

-ক্যানো? তোর তো মাস্টার আছে দু-তিনটে!

-থাকলে কী হবে? সবদিন তো আর আসে না!

-পড়তে গিয়ে মাঝেমধ্যে ঠেকে যাই। তখন তখনই না বুঝলে পরে আর হয়ে ওঠে না। আর হলেও অনেক পিছনে পড়ে যাই।

-তা বেশ তো, টুকটাক নাহয় দেখাবি ওকে। তাই বলে ছেলেটিকে ঠাট্টা-মশোকরার পাত্র বানালে তো হবে না। শিক্ষকের সমকক্ষ জ্ঞান করতে হবে।

-ঠিক আছে কাকীমা। আমার ভুল হয়ে গেছে।

-হ্যাঁ মা, ভুল অল্পেই শুধরে নেয়া ভালো। বস, আমি শ্রাবণকে বলে দিচ্ছি।

নাজমা বেগম শ্রাবণকে তলব করলেন- শ্রাবণ, এদিকে একটু আয় তো বাবা!

শ্রাবণ অল্প সময়ের ব্যবধানে নাজমা বেগমের সামনে এসে দাঁড়ায়- কিছু বলবেন খালা?

-হ্যাঁ, ও আমার মেয়ের মতো। এবার এসএসসির ছাত্রী। যখন যেটা বুঝতে চায়, ওকে একটু বুঝিয়ে দিস। এতে তোরও চর্চা হবে, আর ওরও উপকার হবে। তাছাড়া এখানে গৃহশিক্ষকের যা ক্রাইসিস—একটু ভালো করতে পারলে দেখবি মাসে হাতখরচা করে বাড়িতেও টাকা-পয়সা পাঠাতে পারবি মাকে।

-ঠিক আছে খালা।

শ্রাবণ নিজের ঘরে চলে যায় । একঢিলে দুই পাখি মারার মতো- না চাইতেই বৃষ্টি হলো যেন! এতে ওর ঐশীর সঙ্গে বন্ধুত্বটাও হলো, পাশাপাশি দু-একটা টিউশনির অনুমতি খালা উপযাজক হয়েই দিলেন। আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠে শ্রাবণ। বালিশে মুখ গুঁজে, স্বপ্নবিলাসের অনেকগুলো ভিডিও ওর মগজে চালু হয়ে যায় যেন!
(চলবে)

উপন্যাসঃ নির্জনতার সমুদ্রে অবগাহন,
লেখকঃ কবি বাবু ফরিদী।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই এপ্রিল, ২০১৬ দুপুর ২:৪১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এক সেকেন্ডের নেই ভরসা

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৩


সংসারের শত দায়িত্ব কাঁধে। ধাপে ধাপে সব পালন করতে হবে। মোটরসাইকেল নিয়ে ভালো মনে রাস্তায় নামলেন রাইড শেয়ার করবেন বলে। হঠাৎ একটা প্রাইভেট কারের সাথে ধাক্কা লাগল। আপনি রাস্তায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসমাপ্ত নীহারিকা - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭



বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাকে দেখলে মানুষের প্রথম যে কথাটা মনে হতো, তা হলো—ছেলেটার নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা আছে।
কালো জিনস। কালো টি-শার্ট। টি-শার্টে কখনো Behemoth, কখনো Slayer, কখনো Cannibal Corpse। কানে হেডফোন। চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:১৮


বাংলাদেশের সমাজে একটি নীরব বিপ্লব ঘটে গিয়েছে। দুই বছর আগে ব্লগে অ্যাকাউন্ট খোলার পর থেকে এই পরিবর্তন নিয়ে কম করে হলেও বিশটির বেশি পোস্ট লিখেছি। এই বিপ্লবের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:৫৬

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত



সময় চলেছে তার আপন খেয়ালে,
নদীর স্রোতেরা হারায় কালের বুকে;
আমি শুধু এক অনন্তকাল ধরে,
ডুবে আছি প্রিয়, তোমার চাওয়া পাওয়ার ওই সুখে।

বাহিরের সব নিয়ম চলুক তার মতো,
মহাবিশ্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলার পথে ক্ষণিক দেখা – (১১)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০২

পূর্বের পোস্টঃ ক্ষণিকের দেখা, মায়াময় এ ভুবনে -১০


অবশেষে আমার কিছু কথা শুনে ওরা হাসিতে ফেটে পড়লো। সবার মুখে ছিল উজ্জ্বল হাসি।

আজ দুপুরে একটি এলাকার মাসজিদ সংলগ্ন পুকুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×