ধর্ম অবমাননা করে দেয়া ফেসবুক পোস্টের অভিযোগের ভিত্তিতে এতোগুলো নিরীহ মানুষকে মারধোর করা হলো, ঘরবাড়ি ভাংচুর হলো লুট হলো, কতগুলো পরিবার নিজের পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি ছেড়ে অন্য দেশে পাড়ি জমালো। যার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ সে একজন নিতান্তই অল্পশিক্ষিত খেটে খাওয়া মানুষ, সে আবার ফেসবুকের কি বোঝে? সেও জেলের ঘানি টানলো।
পরে জানা গেলো, আসলে সে নয় পোস্টটা দিয়েছিল অন্য কেউ। একজনের নামে অন্যজন আইডি খুলে পোস্ট দিয়েছে, তাকে ফাঁসিয়ে বিপদে ফেলে সম্পত্তি হাতিয়ে নিতে! সাম্প্রদায়িক হামলার উস্কানিদাতা অমানুষটা নিজের ধর্মকে নিজেই অবমাননা করে দোষ চাপিয়েছে অন্য ধর্মের নিরীহ মানুষটার ঘাড়ে, যার ফল ভোগ করেছে ঐ এলাকার একই ধর্মের বাকিরাও। ঐ পরিবারটি তো বটেই, অন্য অনেক পরিবারই ভীত হয়ে নিজ দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে!
হায়রে আমার দেশের মানুষ, একবার অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দেখারও প্রয়োজন মনে করেনি! একবার ভেবে দেখেনি, কার বুকের এতো বড় পাটা, যে ১০০ জনের ভেতর ৯০ জনের সবচেয়ে সংবেদনশীল জায়গায় হাত দেয়ার অপসাহস রাখে?!
এই হুজুগে বাঙালি অন্ধবিশ্বাসী রক্ত গরম অবিবেচক অন্যের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত অপশিক্ষিত প্রজন্মগুলো লয়ে, আপনি কী করে সোনার বাংলা গড়িবেন মশাই?
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা ডিসেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৩:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




