somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দেশ নিয়ে ভাবতে সমুদ্রে যেতে চাই। প্লিজ হেল্প!

০৮ ই আগস্ট, ২০২৫ রাত ১২:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমি অনেকদিন ধরেই ভাবছি। ভাবছি আর কেবল ভাবছি। ভেবেই যাচ্ছি। কিন্তু অনেক ভেবেও কোনো কূলকিনারা পাচ্ছি না যে এই যে এতটা ভাবছি, এই ভাবনাটা কেন ফলপ্রসু হচ্ছে না?

অবশেষে আজ পাটোয়ারীর শোকজের জবাবে আমার জ্ঞানচক্ষু খুলে গেলো। ভাবনাটা সব জায়গায় বসে ভাবলে তো হবে না! ভাবতে হবে সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় বসে। পাটোয়ারীর মতে সেই জায়গাটা সাগরপাড়।

কাজেই, আমিও ঐখানে গিয়ে ভাবতে চাই। সাগর ও পাহাড় একইসাথে দেখা হয় না অনেকদিন। ঐখানে গিয়ে আমিও দেশ নিয়ে ভাবতে চাই। কিন্তু সমস্যাটা হচ্ছে, ওদের মতো আমার অতো টাকা নাই। বেতনের অর্থে চলি, কিন্তু বেতন-ভাতাটাও ওদের সহযোদ্ধারা চাপপ্রয়োগ করে বন্ধ করে রেখেছে ১০ মাস। হোটেল টিউলিপ দূরের কথা, একটা থ্রি স্টার মানের হোটেলও আমার আয়ত্তের বাইরে এখন। হাসনাত-সার্জিসদের আয়ের উৎস জানতে চাই না। তারা জাতীয় বীর, তারা টিউলিপে থাকবে না তো কি আমার মতো ভাঙা ঘরের এক কোণায় পড়ে থাকবে? চিকিৎসার অভাবে আমরা মা-ছেলে যেভাবে অর্থাভাবে খেয়ে-না খেয়ে দিন কাটাচ্ছি, ওদের যেন এমন পরিণতি না হয়। মন খারাপ করে তিলে তিলে ওরা কেন আমার মতো নিজেদের শেষ করে দেবে? শেরাটন, টিউলিপসহ দেশের সবচেয়ে বড় হোটেলগুলোতেই ওদের মানায়।

লালমনিরহাটে আমি যখন প্রাণ বাজি রেখে বহিরাগত ও ছাত্রদের বুঝাতে চাইলাম যে এত রাতে কলেজে ভাংচুর চালানো ঠিক না, হোস্টেলের ছাত্রীরা আতংকিত, তোমরা ঘরে ফিরে যাও, অফিসিয়াল টাইমে এসো.. তখন ওরা আমার কথা শুনলো না। দুদিন পর এসে আমাকেই মব করে অপমান করলো। এরপর আমাকে আমারই ক্লাসরুম, আমারই কর্মস্থল থেকে ব্রাত্য করে রাখলো। এরপর করলো বেতন-ভাতা বন্ধ। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ পাঠালো। আমি চাকরির পরীক্ষাটাও দিতে পারলাম না। ওরা ছিলো সার্জিসের ভাই-ব্রাদার, আমি ওদের কাউকেই চিনতাম না। আমি শুধু আমার উপর অর্পিত সরকারি দায়িত্ব পালন করছিলাম।

সেই সময় আমি যেমনটা অনুভব করেছিলাম, আজ মনে হচ্ছে হাসনাত-সার্জিস-পাটোয়ারিরা ঠিক তেমনটাই অনুভব করছে। তারা মনে হয় ব্রাত্য-অপাংক্তেয়-অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করছে নিজেদেরকে। করছে বলেই যে জুলাই ঘোষণার দাবিতে এত আন্দোলন করলো, সেটা ঘোষণার দিনের এত বিশাল আয়োজনে সংসদ ভবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান উপদেষ্টার সামনে উপস্থিত থাকতে পারার মতো সম্মানজনক অনুষ্ঠানে না গিয়ে ওরা সাগরে চলে গেলো!

ওরা কি তাহলে আশাহত হয়েছে? ঘোষণায় ওদের দাবিদাওয়ার সন্নিবেশ না ঘটিয়ে আদতে ওদের গায়ে কি কেউ ডিম ছুঁড়ে মেরেছে? 'কুলাঙ্গার' বলে কি ওদেরই নিযুক্ত কেউ ওদেরকে সংসদ ভবনে আয়োজিত বর্ষপূর্তির আনন্দোৎসব থেকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছে? সেজন্যই কি মনের দু:খে ওরা হতাশা কাটাতে সাগরে গিয়েছে?

আপাতত ওদের ফেসবুক পোস্ট ও লাইভে তাই মনে হচ্ছে।
কাজটা মোটেও ঠিক হয়নি। জুলাইযোদ্ধা ও জাতীয় বীরদের সাথে এমন আচরণ কাম্য নয়। মাত্র বছর যেতেই জাতীয় বীরদের সাথে এমন আচরণ?

আশা করি ওরা সাগরপাড়েও সেনা ও নৌবাহিনীর প্রটোকল পাবে। কেননা ওদেরকে নিরাপত্তা বলয়ে ঘিরে বিলাসবহুল হোটেলে রাখা, সাগরপাড়ে ফুটবল খেলতে দেওয়া এবং দেশ ও দশ নিয়ে ভাবতে দেওয়াটা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের মধ্যেই পড়ে। নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা শুনেছি ঐ এলাকায় এখনও অ্যাক্টিভ।

শেখ হাসিনার পরিবারকে যারা নিরাপত্তা দিতেন, তাঁদেরকে বসিয়ে না রেখে আমাদের এইসকল জাতীয় বীরদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত করা উচিত। একই ক্যাম্পাসের অপরিচিত বড়ভাই হিসেবে আমি সর্বদা ওদের মঙ্গল কামনা করি।
দেব দুলাল গুহ -- দেবু ফরিদী
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই আগস্ট, ২০২৫ রাত ১২:৩২
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্ব পাঠ

লিখেছেন আবু সিদ, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

I. পড়ার সাধারণ অর্থ
সাধারণভাবে, পড়া বা Reading হলো লিখিত বর্ণ বা চিহ্ন দেখে তার অর্থ উদ্ধার করার উপায়। পড়া কেবল শব্দ উচ্চারণ নয়, বরং লেখার বিষয়বস্তুর সাথে নিজের চিন্তার যোগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

এঁনারা কিসের আশায় দালালি করে যাচ্ছেন?

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:০৫



১. ১৫ আগস্ট টাইপ কিছু বা ৭ নভেম্বর টাইপ কিছু না ঘটলে আওয়ামী লীগ সহসা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। জুলাই-এর মত কিছুও বার বার হয় না। তাই ধরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বমিনং করোনং ইচ্ছং

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:১১


গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান
ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী
১৫০।(১) এই সংবিধানের অন্য কোন বিধান সত্ত্বেও ১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর তারিখে এই সংবিধান প্রবর্তনকালে সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে বর্ণিত বিধানাবলী ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী... ...বাকিটুকু পড়ুন

মতভেদ নিরসন ছাড়া মুসলিম আল্লাহর সাহায্য পাবে না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:০৩



সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৫। তোমরা তাদের মত হবে না যারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে ও নিজেদের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি করেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘স্বপ্নের শঙ্খচিল’ কে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা….

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:৪৬



আজ সকালে ল্যাপটপ খুলেই উপরের চিত্রটা দেখলাম। দেখে মনটা প্রথমে একটু খারাপই হয়ে গেল! প্রায় একুশ বছর ধরে লক্ষাধিক ব্লগারের নানারকমের বৈচিত্রপূর্ণ লেখায় ও ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় সমৃদ্ধ আমাদের সবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×