somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শনিবার সকালেই মৃত খামেনি, গোপন রেখেছিলো ইরান

০১ লা মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ইরান অবশেষে স্বীকার করলো যে তাদের সুপ্রিম লিডার আর নেই। মৃত্যুসংবাদ প্রচার করতে গিয়ে এভাবেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন উপস্থাপক! মুসলিম বিশ্বের জন্য আরও একটি শোকের দিন। ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে ইরান। করবেই তো, ইরানের বর্তমান সরকারের জন্য এ ক্ষতি তো অপূরণীয়!

বলেছিলাম না সত্যিটা বেশিক্ষণ চেপে রাখা যায় না? শুধু শুধু সত্য প্রচার করতে গিয়ে একটা শ্রেণির গালি খেয়ে ভোরে ঘুমালাম! ইরান কিছুতেই স্বীকার করছিলো না যে তাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা নেই! কী মুসিবৎ! বিশ্বের সবচেয়ে বড় সংবাদমাধ্যমগুলো যখন নিশ্চিত করেছে মৃত্যুসংবাদ, তখনও বাঙ্গু মিডিয়া নিউজ করছে ইরানের দোহাই দিয়ে যে তিনি সুস্থ আছেন, যুদ্ধে নেতৃত্ব দিচ্ছেন!

এর কারণ হতে পারে ৩ টি-- ১. তাঁর ভক্তদের মনোবল ধরে রাখা, ২. এ সুযোগে আবেগকে কাজে লাগিয়ে কিছু বাড়তি 'আলহামদুলিল্লাহ' কমেন্ট পেয়ে বাড়তি কিছু ডলার কামিয়ে নেয়া, ৩. সত্য লুকানোর চেষ্টা।

তবে আজ পর্যন্ত এমন কি কখনও হয়েছে যে ইসরায়েল দাবি করেছে আর তা মিথ্যা হয়েছে? যখন ইসরায়েলি টিভিতে মৃত্যু নিশ্চিত করা হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত সে দেশের সরকারকে মৃত্যু নিশ্চিত করলো, তখনই বলেছিলাম তিনি আর নেই।

এখন যখন আসলেই মৃত্যু সংবাদ এলো, তখন এটাও নিশ্চিত যে খামেনি গতকাল ভোরে (ইরানি সময়) তাঁর প্রাসাদ লক্ষ্য করে ফেলা মিসাইলের আঘাতেই মারা গেছেন। শুধু খবরটা প্রচার করা হলো দেরীতে। তিনি ভাষণ দেবেন বলে সময়ক্ষেপণ করে সেই সময়ে ইরান পাশ্ববর্তী মুসলিম দেশগুলিতে এবং ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে এর জবাব দেওয়ার চেষ্টা করলো। তবে বাঙ্গু মিডিয়ায় যত বড় করে দেখানো হয়, তেমন কিছু না। গত রাতেই লিখেছিলাম, "আমার কাছে মনে হয় না খামেনি জীবিত আছেন"। কেন, তাও বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছিলাম। উক্ত বিক্ষিপ্ত মরণকামড়টাও সেই মৃত্যু পরবর্তী নারভাসনেসেরই বহি:প্রকাশ। দেব দুলাল গুহ।

যাহোক, এ মৃত্যু কিছু মানুষের জন্য যেমন বেদনার, তেমনি ইরানের জনতার একাংশ রাস্তায় নেমে নেচেগেয়ে আনন্দ করেছে গতকাল ইসরায়েলি-আমেরিকান হামলার শুরু থেকেই। পরের শ্রেণি যারা, তারা হয়তো আজ মুক্ত! উপর থেকে হয়তো মাশা আমিনি আজ মিটিমিটি হাসছে, শুধু হিজাবটা একটু সরে গিয়ে চুল দেখা যাওয়ায় যাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিলো সবে সাবালিকা হওয়ার বয়সেই! হয়তো তাঁরাও আজ খুশি, যারা আমিনির জন্য ন্যায়বিচার চেয়ে ও বিভিন্ন সময়ে খামেনি রেজিমের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে।

বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ইসলামি বিপ্লবের আকাঙ্খায় থাকা মুসলিম ভাইবোনের জন্য আজ খুব কষ্টের দিন। খামেনি ছিলেন তাদের সেই আশার সর্বোচ্চ বাতিঘর। হয়তো খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলেকে সুপ্রিম লিডার করে এই শাসনব্যবস্থা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা ইরান করতে পারে। কিন্তু আরেকজন খোমেনি বা খামেনি আর আসবে না। ইরানকে আর ঐ পথে হাঁটতেও দেবে না ঐ হামলাকারী ইহুদি-নাছাড়ার দল। কেননা তাদের মতে হিজবুল্লাহ, হামাসের মতো প্রক্সি দিয়ে ইরানের এই সুপ্রিম লিডার নাকি তাদের ঘুম হারাম করে রেখেছিলেন!

হ্যাঁ, সুপ্রিম লিডার পশ্চিমাদের মনে ভয় ধরিয়েছিলেন। এটা কজনায় পারে? তিনি ছিলেন জুলাই আন্দোলনে ইসলামী খেলাফতের কালো ঝান্ডাবাহী অজস্র বাঙালি-বিহারী তরুণ-তরূণীর আদর্শ। তিনি মৃত্যুর পরেও সেই জায়গাতেই থাকবেন। কেননা, বিপ্লবীর মৃত্যু নেই..
দেব দুলাল গুহ.... দেবু ফরিদী Devdulal Guha Nipun #IsraelIranConflict #Israel #iran #devdulalguho #usa
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শুধু টুথপেস্ট নয়—মোড়ক ছেঁড়ার মুহূর্তেই ছড়াচ্ছে মাইক্রোপ্লাস্টিক

লিখেছেন মুনতাসির, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩০

টুথপেস্ট নিয়ে আলোচনা সবে শুরু হয়েছে, কিন্তু বাস্তবতা আরও অনেক বড়। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি সিন্থেটিক পণ্যই এখন মাইক্রো বা ন্যানোপ্লাস্টিক তৈরি করতে পারে—এমনকি একটি চিপসের প্যাকেট ছেঁড়ার মুহূর্তেও,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কারো নামে মিথ্যা অপবাদ কাম্য নয় তবে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩৯


ঘটনাটি মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের এবং তার সঙ্গে থাকা এক সাংবাদিক বন্ধুকে ঘিরে। পরিবাগ ওভারব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ট্রান্সজেন্ডার বা হিজড়া জনগোষ্ঠীর কয়েকজনের সঙ্গে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কী-বোর্ড কাহিনী: ডেল কেবি২১৬

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:০০


আমি ১৯৯৬ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কী-বোর্ড ব্যবহার করছি। দেশে থাকতে কী-বোর্ড তেমন প্রয়োজন পড়েনি। মাঝে মধ্যে কেনা হতো। একবার বাংলা লিখার জন্য "বিজয়" সফটওয়্যারের প্রলোভনে, বিজয় এর... ...বাকিটুকু পড়ুন

নদী হত্যায় সম্ভবত আপনিও জড়িত

লিখেছেন অপলক , ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:০৪

আপনি আমি প্রত্যাক্ষ পরোক্ষ ভাবে নদীকে হত্যা করি। হয় রাতারাতি বা তিলে তিলে। কিন্তু কিভাবে, সেটাই দেখাবো।



সবার আগে জানা দরকার কোন জলাশয় বা জলাধারকে নদী বলব?

দুনিয়ার বিভিন্ন... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘সবচেয়ে কঠিন’

লিখেছেন আবু সিদ, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:১৫


আমি সাদ। আমার বয়স ১৭ বছর। আমি ক্লাস টেনের ছাত্র। আমার ক্লাসের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর বয়স ১৫ বা তার আশপাশে। আমারও ১৫ বছর বয়সে ক্লাস টেনে থাকার কথা ছিল। কিন্তু আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×