
ইরান অবশেষে স্বীকার করলো যে তাদের সুপ্রিম লিডার আর নেই। মৃত্যুসংবাদ প্রচার করতে গিয়ে এভাবেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন উপস্থাপক! মুসলিম বিশ্বের জন্য আরও একটি শোকের দিন। ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে ইরান। করবেই তো, ইরানের বর্তমান সরকারের জন্য এ ক্ষতি তো অপূরণীয়!
বলেছিলাম না সত্যিটা বেশিক্ষণ চেপে রাখা যায় না? শুধু শুধু সত্য প্রচার করতে গিয়ে একটা শ্রেণির গালি খেয়ে ভোরে ঘুমালাম! ইরান কিছুতেই স্বীকার করছিলো না যে তাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা নেই! কী মুসিবৎ! বিশ্বের সবচেয়ে বড় সংবাদমাধ্যমগুলো যখন নিশ্চিত করেছে মৃত্যুসংবাদ, তখনও বাঙ্গু মিডিয়া নিউজ করছে ইরানের দোহাই দিয়ে যে তিনি সুস্থ আছেন, যুদ্ধে নেতৃত্ব দিচ্ছেন!
এর কারণ হতে পারে ৩ টি-- ১. তাঁর ভক্তদের মনোবল ধরে রাখা, ২. এ সুযোগে আবেগকে কাজে লাগিয়ে কিছু বাড়তি 'আলহামদুলিল্লাহ' কমেন্ট পেয়ে বাড়তি কিছু ডলার কামিয়ে নেয়া, ৩. সত্য লুকানোর চেষ্টা।
তবে আজ পর্যন্ত এমন কি কখনও হয়েছে যে ইসরায়েল দাবি করেছে আর তা মিথ্যা হয়েছে? যখন ইসরায়েলি টিভিতে মৃত্যু নিশ্চিত করা হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত সে দেশের সরকারকে মৃত্যু নিশ্চিত করলো, তখনই বলেছিলাম তিনি আর নেই।
এখন যখন আসলেই মৃত্যু সংবাদ এলো, তখন এটাও নিশ্চিত যে খামেনি গতকাল ভোরে (ইরানি সময়) তাঁর প্রাসাদ লক্ষ্য করে ফেলা মিসাইলের আঘাতেই মারা গেছেন। শুধু খবরটা প্রচার করা হলো দেরীতে। তিনি ভাষণ দেবেন বলে সময়ক্ষেপণ করে সেই সময়ে ইরান পাশ্ববর্তী মুসলিম দেশগুলিতে এবং ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে এর জবাব দেওয়ার চেষ্টা করলো। তবে বাঙ্গু মিডিয়ায় যত বড় করে দেখানো হয়, তেমন কিছু না। গত রাতেই লিখেছিলাম, "আমার কাছে মনে হয় না খামেনি জীবিত আছেন"। কেন, তাও বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছিলাম। উক্ত বিক্ষিপ্ত মরণকামড়টাও সেই মৃত্যু পরবর্তী নারভাসনেসেরই বহি:প্রকাশ। দেব দুলাল গুহ।
যাহোক, এ মৃত্যু কিছু মানুষের জন্য যেমন বেদনার, তেমনি ইরানের জনতার একাংশ রাস্তায় নেমে নেচেগেয়ে আনন্দ করেছে গতকাল ইসরায়েলি-আমেরিকান হামলার শুরু থেকেই। পরের শ্রেণি যারা, তারা হয়তো আজ মুক্ত! উপর থেকে হয়তো মাশা আমিনি আজ মিটিমিটি হাসছে, শুধু হিজাবটা একটু সরে গিয়ে চুল দেখা যাওয়ায় যাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিলো সবে সাবালিকা হওয়ার বয়সেই! হয়তো তাঁরাও আজ খুশি, যারা আমিনির জন্য ন্যায়বিচার চেয়ে ও বিভিন্ন সময়ে খামেনি রেজিমের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ইসলামি বিপ্লবের আকাঙ্খায় থাকা মুসলিম ভাইবোনের জন্য আজ খুব কষ্টের দিন। খামেনি ছিলেন তাদের সেই আশার সর্বোচ্চ বাতিঘর। হয়তো খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলেকে সুপ্রিম লিডার করে এই শাসনব্যবস্থা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা ইরান করতে পারে। কিন্তু আরেকজন খোমেনি বা খামেনি আর আসবে না। ইরানকে আর ঐ পথে হাঁটতেও দেবে না ঐ হামলাকারী ইহুদি-নাছাড়ার দল। কেননা তাদের মতে হিজবুল্লাহ, হামাসের মতো প্রক্সি দিয়ে ইরানের এই সুপ্রিম লিডার নাকি তাদের ঘুম হারাম করে রেখেছিলেন!
হ্যাঁ, সুপ্রিম লিডার পশ্চিমাদের মনে ভয় ধরিয়েছিলেন। এটা কজনায় পারে? তিনি ছিলেন জুলাই আন্দোলনে ইসলামী খেলাফতের কালো ঝান্ডাবাহী অজস্র বাঙালি-বিহারী তরুণ-তরূণীর আদর্শ। তিনি মৃত্যুর পরেও সেই জায়গাতেই থাকবেন। কেননা, বিপ্লবীর মৃত্যু নেই..
দেব দুলাল গুহ.... দেবু ফরিদী Devdulal Guha Nipun #IsraelIranConflict #Israel #iran #devdulalguho #usa
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






