
তুমি যে ভয় পাচ্ছো, এটার প্রমাণ তুমি আগের আইডি চেঞ্জ করে নতুন আইডি খুলেছো। গতকাল হাদির হত্যায় অভিযুক্তরা ভারতের ধরা পড়ার খবর প্রকাশের পরেই তুমি আগের আইডি ডিয়্যাক্টভেট করেছো। এরপর আমাদের মতো অনেকেই 'চোরের মন পুলিশ পুলিশ' বলার পর তুমি নতুন আইডি খুলেছো। তোমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পরেই তুমি আরও বেশি বাইরে বেরিয়েছো, হাসিমুখে মিডিয়াকে সাক্ষাৎকার দিচ্ছো। ভাবটা এমন যেন, তুমি কিছুই করোনি! তুমি কিছু না করলে আতংকেই তুমি কয়েকদিন ঘর থেকে বের হতে না। তোমার আচরণ, তোমার চোখ বলে দেয় তুমি অপরাধী।
তুমি ভাবছো, তুমি চাইলেই সামনে দিয়ে হাসিমুখে ঘুরতে ঘুরতে একদিন টুপ করে ইউরোপ বা তুরস্ক চলে যেতে পারবে। সেটা তুমি পারবে না। জাবেরও পারবে না। পুলিশ-প্রশাসন প্রকাশ না করলেও তোমরা হাদি হত্যার সন্দেহভাজন, তোমরা নজরদারিতে আছো। চাইলেও দেশ ছাড়তে পারবা না।
আরেকটা কথা, শেখ হাসিনা পালান নাই। আগেও বলেছি, আবারও বললাম। তিনি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তায় নিরাপদ স্থানে চলে গেছেন, তোমরা লালমনিরহাটে মব হামলা করার পর আমি যেভাবে ফরিদপুর চলে এসেছিলাম, সেভাবে। আমি চাইলে বিশ্বের যেকোনো দেশে আশ্রয় চাইতে পারতাম, পেয়েও যেতাম। কিন্তু দেশের টানে, মাটির টানে যেতে পারি না। শেখ হাসিনাও যেতে চান নাই। তিনি বাধ্য হয়েছেন। শেখ হাসিনা যদি রাষ্ট্রীয় প্রটোকল নিয়ে না যেতেন, তাহলে যে সেনা অফিসাররা তাঁকে রেখে এসেছেন, তাঁদের কোর্ট মার্শাল হতো৷
তোমরা শেখ হাসিনার পতন ঘটাও নাই। তিনি স্বেচ্ছায় নির্বাসনে গেছেন। কারণ তিনি দেশে থেকে ছাত্রদের উপর গুলি চালিয়ে ক্ষমতায় বসে থাকতে পারতেন। সব বাহিনী তাঁর হাতেই ছিলো। কিন্তু, ডিপস্টেটের সাথে বিশ্বের কেউ পারেনি, শেখ হাসিনাও পারতেন না। ১,৪০০ মৃত্যু কিছুই না, ইরানের খামেনি ১৪ হাজারেরও বেশি সাধারণ মানুষ মেরেও ক্ষমতায় ছিলেন দীর্ঘ ৪৭ বছর। শেখ হাসিনার নির্দেশে জুলাইয়ে তেমন ম্যাস কিলিং করলে স্যাটেলাইট দিয়ে সেই দৃশ্য ধারণ করে অন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আসতো, এমনকি ইরানের মতো হামলার শিকারও হতে পারতো দেশ। গণভবনে হয়তো এসে মিসাইল পড়তো! আর শেখ হাসিনাকে ধরতে পারলে উলঙ্গ করে শাহবাগে ঝুলিয়ে পিটিয়ে মারা হতো। এসব খবর পেয়েই তিনি দেশ ছেড়েছেন।
তাঁর ক্ষমতা তো যেতই, ইজ্জত ও প্রাণও যেত। ঐ আন্তর্জাতিক শক্তির সাথে যুদ্ধ করতে গেলে বাংলাদেশ দেড় বছর আগেই ইরান হতো। তিনি যা করেছেন বা তাঁকে যারা নিয়ে গেছেন (অজিত দোভাল), তাঁরা একসাথে তাঁকে ও বাংলাদেশকে বাঁচিয়েছেন।
তোমরা এখানে দেশী-বিদেশী পরাশক্তির দাবার গুটিও বলতে পারো। ক্ষমতা চেঞ্জ, প্রয়োজন শেষ তো রাজাকে বাঁচাতে সেনাদেরকে বলি দিতে হয়। তোমাদেরও হয়তো তেমন পরিণতি অপেক্ষা করছে।
আর, তোমার কী মনে হয়, এত ভারত বয়কট দুচায়ে তোমরা যে ইলকেলাব কায়েম করলা, তারপরেও তো ঠিকই ভারত বয়কট করা যাচ্ছে না, খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে তেলও আসছে ভারত থেকে। তোমাদের কি মনে হয় ভারতের সাথে কথা না বলেই বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় বসেছে? দেশের বিভিন্ন এলাকায় লীগের অফিস খুলতে দেখতে পাচ্ছো না? কয়টা ঠেকাতে পারছো? আওয়ামী লীগের বন্ধ অফিস যদি দেড় বছরেই আবার খোলা যায়, তো, শেখ হাসিনা ফিরতে কতক্ষণ?
অপেক্ষা করো জুমা! অপেক্ষার ফল মধুর হয়।
দেব দুলাল গুহ.... দেবু ফরিদী
Devdulal Guha Nipun
--------++-------------+++---------
এ সংক্রান্ত আমার গতকালের পোস্ট :
চোরের মন পুলিশ পুলিশ?
জুমা-জাবের যেন পালাতে না পারে।
হাদির 'ঘাতক'দের ভারত থেকে গ্রেপ্তারের খবরে সবচেয়ে খুশি হওয়ার কথা ছিলো ডাকসু নেত্রী ও হাদির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত জুমার। কিন্তু দেখা গেলো গ্রেতারের খবর প্রকাশের পর জুমার আইডিটাই গায়েব হয়ে গেলো! এরপর অনেকেই এ নিয়ে সমালোচনা করার পর আবার তাকে ফেসবুকে পাওয়া গেলো। কেন?
আমি হাদির হ*ত্যাকাণ্ডের সময়েই বলেছিলাম, আমার মনে হয় জুমা এর সাথে জড়িত। হাদির মৃত্যুতে সবচেয়ে লাভবানদের মাঝে ঐ আসনের এমপি হতে চাওয়া কতিপয় নেতারা (মির্জা আব্বাস বাদে), এমনকি জুমা ও জাবেরও আছে। হাদির মৃত্যুর আগে ওরা এতটা ল্যামলাইটে আসেনি। জানামতে জুমা-জাবেরদের পরিচিত বলেই হাদি অপরিচিত ফয়সালকে এত অল্পদিনে এত বিশ্বাস করে কাছে টেনেছিলো।
সে যা-ই হোক, হাদির সাথে আমার বিশাল মতাদর্শগত পার্থক্য থাকলেও, আমি খুব করে চাই সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে হাদির আসল খু*নিদেরকে আইনের আওতায় আনা হোক। নাহলে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে না। কেউ চাইলেই প্রকাশ্যে খু*ন করে পালিয়ে যাবে, বিচার হবে না, আর ভারত তাদেরকে আশ্রয় দেবে, এটাও মেনে নেওয়া যায় না। তাই, ভারতকে ধন্যবাদ অভিযুক্ত 'খু*নি'দের গ্রেপ্তারের জন্য। বাকিটা এখন সরকারের হাতে।
দেব দুলাল গুহ.... দেবু ফরিদী
Devdulal Guha Nipun
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



