somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মোবাইল এটিকেট

১০ ই মে, ২০০৬ দুপুর ১২:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজকের এই প্রযুক্তিময় বিশ্বে বাংলাদেশ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতেও পিছিয়ে নেই তার বড় প্রমাণ উচ্চ কলরেট থাকা সত্ত্বেও বিশাল জনগোষ্ঠীর হাতে মোবাইল ফোন সহজলভ্য হয়েছে । রাস্তাঘাটে একটু বের হলেই দেখা যায় যুবক, বৃদ্ধ, কিশোর , নির্বিশেষে বেশীর ভাগের হাতে কিংবা পকেটে শোভা পায় এই যন্ত্র। যুব সমাজের হাতে তো বাজারের ক্রেজ বিভিন্ন উন্নত মডেলের হ্যান্ডসেট। এমনকি মোবাইল ফোন বর্তমান যুগের ফ্যাশনের ও এক উপাদান বটে। এই যন্ত্র যেমন মানুষের যোগাযোগের বাধা অনেকাংশে দূর করে নৈকট্য এনে দিয়েছে তেমনি মাঝে মাঝে তা চরম বিরক্তির ও উদ্রেক করে থাকে । তাই মোবাইল ফোনের সুষ্ঠু তথা ভদ্রোজনোচিত ব্যবহার নিশ্চিত করা উচিত যাতে অপরের কোন অসুবিধা না করে নিজের কাজে লাগানো যায় । যাকে আমরা নাম দিতে পারি মোবাইলাচরণ কিংবা মোবাইল এটিকেট ।

সুষ্ঠু ভাবে মোবাইল ব্যবহারের জন্য আমরা কিছু আচরণ বিধি মেনে চলতে পারি। না মেনে চললে ক্ষতি নেই কিংবা আইন আদালতে শাস্তি হবে এমন টি ও নয়। তবে বোধকরি নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আর অন্যকে বিরক্তি উৎপাদক হতে রেহাই পেতে পারি।
কিছু উদাহরণ দেওয়া যাক। যেমন :


১. চলতি পথে কিংবা যানবাহনে দাঁড়ানো অবস্থায় কথা বলা পরিহার করুন। কেননা এতে আপনার মনোযোগ বিঘ্নিত হওয়ায় যেকোন সময় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। খুব প্রয়োজন হলে রাস্তার পাশে নিরাপদ অবস্থানে দাঁড়িয়ে আলাপ করুন। আলাপ শেষে আবার চলুন।

২. যান বাহনে চলা অবস্থায় ( বিশেষ করে ঢাকার মত শহরে ) ফোন রিসিভ করা থেকে বিরত থাকুন । কেননা যে পরিমানে শব্দ পারিপার্শ্বিক পরিবেশে উৎপন্ন হচ্ছে তাতে আপনি যেমন অপর প্রান্তের কথা শুনতে অসুবিধা হবে তেমনি অপর প্রান্তের ব্যক্তিও আপনার কথা ভালভাবে বুঝতে পারবেন না। কথোপকথনের জন্য স্বাভাবিক স্বরে কথা বলুন । অতি উচ্চ স্বরে কথা বলার ফলে আপনি আশেপাশের ব্যক্তিদের ভ্রুকুটির শিকার হতে পারেন।

৩.বিভিন্ন পরিবেশের জন্য বিভিন্ন রকম প্রোফাইল ব্যবহার করতে পারেন। প্রতিটি হ্যান্ডসেট এর মেনুতে এই প্রোফাইলগুলো থাকে । সেখান থেকে প্রোফাইলের
যেমন:
ক. বাইরের পরিবেশের (নিজের বাড়ি বা অফিস ব্যাতীত) জন্য রিং টোন বন্ধ রেখে ভাইবেশন এলার্ট ব্যবহার করা যেতে পারে । এক্ষেত্রে কীপ্যাড টোনও বন্ধ রাখতে পারেন। তাতে পাশের ব্যক্তিদেরকে বিরক্ত করা হবে না।
খ. বাড়িতে ব্যাবহার করতে পারেন হোম প্রোফাইল । যাতে রিংটোন , কীপ্যাড টোন , মেসেজ এলার্ট সব কিছু অন রাখা যেতে পারে। তবে রিংটোনের ক্ষেত্রে আপনার রুচি প্রতিপলিত হয়। তাই এমন কোন রিংটোন রাখুন যা সুশ্রাব্য ।
গ. অফিসের ক্ষেত্রে আপনার প্রাইভেসীর উপর নির্ভর করে নির্ধারণ করতে পারেন জেনারেল কিংবা সাইলেন্ট প্রোফাইল এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় সেটিংস নির্ধারণ করুন।
ঘ. শ্রেণীকক্ষ কিংবা লাইব্রেরীতে অবশ্যই রিংটোন বন্ধ রেখে ভাইব্রেশন এলার্ট চালু রাখুন।

৪. অযথা , অপ্রয়োজনে মিসকল দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।প্রয়োজনে শর্ট মেসেজ (এস.এম.এস) পাঠান। বেশীক্ষণ কথা বলতে চাইলে ব্যবহার করুন করুন অফপিক টাইম স্লট ( বিভিন্ন অপারেটরের দেওয়া অফপিক টাইম: যেমন সকাল ৬টা থেকে ৯টা কিংবা দুপুর ৩টা থেকে ৫টা --------- ) ।

৫. শরীরের এমন স্থানে , কিংবা কাপড়ের এমন স্থানে ফোন টি রাখুন যা দৃষ্টিকটু না হয় আবার যেন অজান্তে পড়ে না যায়। এজন্য বাজারে যে সমস্ত স্ট্র্যাপ পাওয়া যায় তা ব্যবহার করুন । মোবাইল কাভার ও ব্যবহার করতে পারেন বৃষ্টি বা ঘামের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য।ব্যবহার করতে পারেন ওয়্যারলেস কিংবা ওয়্যারড হেডসেট।

৬.আপনার হ্যান্ডসেটের সাথে প্রদত্ত ইউজার ম্যানুয়ালটি ভালভাবে পড়ুন।এটি আপনার হ্যান্ডসেটের বিভিন্ন সুবিধাদি এবং ব্যাবহারের নিয়মাবলী সর্ম্পকে জানতে সাহায্য করবে। সেট সংক্রান্ত প্রাথমিক সমস্যার সমাধানে কাজে লাগবে। রক্ষণাবেক্ষনের টিপস জানতে হলেও ম্যানুয়ালটিতে একবার চোখ বুলিয়ে নিন।

৭. উন্নত মানের তথা থার্ড জেনারেশনের হ্যাস্ডসেট গুলোতে রয়েছে ক্যামেরা সহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা। তবে কখনোই উচিৎ নয় এগুলোর অপব্যাবহার করা । এ প্রসঙ্গে ক্যামেরার কথা বলা যেতে পারে। মোবাইলের ক্যামেরা কখনও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার পরিপন্থী হেত পারে অপব্যবহারের কারণে । তাই সতর্ক থাকুন ক্যামেরার যত্র তত্র ও যথেচ্ছ ব্যবহার থেকে। বিনা অনুমতিতে কিংবা গোপনে কারও কোন ছবি তোলা থেকে দূরে থাকুন। নিজের মোবাইল থেকে বিভিন্ন ডাটা যাতে সহজে অন্য কেউ ব্যাবহার করতে না পারে তার জন্য ব্লু টুথ , কিংবা ইনফ্রারেড অপশন গুলো বন্ধ রাখুন কিংবা পাস ওয়ার্ড দিয়ে সুরক্ষিত রাখুন।

৮. মোবাইল ফোন চুরি যাওয়ামাত্র থানায় জি,ডি, করুন এবং যত শীঘ্র সম্ভব সিম এর কাগজ পত্র নিয়ে মোবাইল অপারেটরের সাথে যোগাযোগ করুন।

৯. যেহেতু এটি একটি সুক্ষ্ম ইলেক্ট্রনিক যন্ত্র তাই এর যথেচ্ছ ব্যাবহার করবেন না। বরং যত্নের সাথে ব্যাবহার করুন। এটাকে কখনোই ছোট বাচ্চাদের খেলার উপকরণ হিসাবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

প্রযুক্তির উৎকর্ষকে ব্যাবহার করুন মানবকল্যাণে , অপব্যাবহারে নয়।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই নভেম্বর, ২০০৬ ভোর ৬:২৬
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সীমিত মগজ, লিলিপুটিয়ান, ডোডো পাখি (সৌজন্যে - চাঁদগাজী)...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



১. যেনা করব আমরা, ৫০১-এ যাব আমরা, পার্কে যাব আমরা। তুমি তো আলেম। তুমি কেন যাবে? তুমি তো ইসলামের সবক দাও সবাইকে। তুমি মাহফিলে কোরআন, হাদীস বয়ান কর। তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×