সূর্যউদয়ে সকালের শুরু এই কথাটা সার্বজনীন কি...? নিজেকে দিয়েই তো প্রমাণ দিতে পারি...যদি চোখই না খুললাম তাহলে কি সকাল...আর কি বিকাল...সবইতো অন্ধকার...তাহলে মোটামুটি ভাবে এই কথা বলা যেতে পারে যে ...কোন ব্যক্তি যখন তার রাত্তিকালীন তন্দ্রা ছেড়ে মুখে আগুন নিয়ে টয়লেটের কমোট দর্শনপূর্বক...দন্তে কেমিক্যাল মেখে ডলাডলি সেরে চোখ মুখে পানির ঝাপ্টা দিবে তার সকালের শুরু তখন...এই গল্পের চরিত্রগুলোর সকালও ঠিক এইভাবে শুরু হয়...তখন এই প্রাচ্যে অনেকে দুপুরের খাবার খেয়ে বিকাল উপভোগ করে...
গল্পে যার কথা বলতে চাচ্ছি...অনেক প্রাত্যাহিক আবশ্যকীয় কর্ম ডিঙ্গিয়ে তার সকাল শুরু হয় ঘর মধ্যস্থিত ব্যক্তিগত কম্পিউটার চালু করে...ছোট ছোট, ঘুম ঘুম চোখ নিয়ে সে প্রবেশ করে এযুগের বিস্ময় রাজ্য ইন্টারনেটে...টেকনোলজী ম্যান টেকনোলজী...ইতিহাসের পৃথিবী আজ ছোট হতে হতে হাতেরকব্জির ভেতর তর্জনী আর মধ্যমার চাপে চাপে নৃত্য করে...
কিন্তু আমি যার কথা বলছি তার পায়ের তলায়ও যদি পৃথিবী চলে আসে তাতেও তার কিছু যায় আসে না...দুনিয়ার সে থোরাই care করে (i dont care type)...তথ্য-প্রযুক্তিতো অনেক পরের ব্যাপার...সে শুধু জানে তাকে ফেসবুক নামে এক সামাজিক যোগাযোগ (কি যে যোগাযোগ করতেছে....তা খালি ভগবানই জানে)মাধ্যম সাইটে লগ ইন করতে হবে...তারপর তার এক বন্ধুর পেইজ এ যেতে হবে...তার ফটোগ্রাফ দেখতে হবে...তার লিখা পড়তে হবে...তার ভাষ্যমতে যা কি না সে সহস্রবার পড়েছে...তবুও এই কাজটা তাকে প্রতিদিন করতেই হবে...যদিও লিখাগুলো সে সবসময় বুঝতে পারে কিনা জানা থাকে না......।।
ঘটনা যদি এই পর্যন্ত হয় ...তাহলে তা নিয়ে গপ্পো করার কি দরকার...এমনটা হতেই পারে আর হচ্ছেও...তাই না...?
কিন্তু ঘটনা চলতে থাকে যখন এমনি তার এক সকালে সে আবিষ্কার করে যে তার প্রিয় বন্ধুটি আর তার সাথে নেই...তার ছোট চোখ বড় হয়ে পরে...কুঞ্চিত হয় ব্রুযুগল...
সে হন্যে হয়ে বন্ধুটিকে খুঁজে যায়...বন্ধুটির লিখা খুঁজে যায়...কিন্তু মেলেনা...সব যেন হাওয়া ...কি হতে পারে...? নিশ্চয়ই বন্ধুটি তাকে বন্ধুনামা হতে সরিয়ে ফেলেছে...তাও একদম বিনা নোটিশে...আর তখনই ফেসবুক যেন বিবমিষার অন্য নাম হয়ে ধরা দেয়..

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


