সে ঠিক করলো আত্মহত্যা করবে। সে ঠিক করলো, সে আত্মহত্যা করবে কিন্তু মরবে না, মরতে মরতে বেঁচে যাবে। কেমন করে এমন হবে তা ভেবে অনেকগুলি উপায় বের করলো সে। তারপর সব বাতিল করে একটি উপায় সে সামনে রাখলো। উপায়টি হলো, সে একটি অ্যাম্বুলেন্সের সামনে ঝাপিয়ে পড়বে। আর অ্যাম্বুলেন্স তাকে তুলে নিয়ে যাবে।
আজ সেইদিন। সন্ধ্যা নামছে। যদিও এটা একটা এক্সপেরিমেন্ট তার কাছে। তারপরও সে পরিপাটি করে সাজগোজ করলো, নতুন একটা ফতুয়া পরলো। তার আগে স্নান করলো। এই প্রথম সে কুসুমগরম জল দিয়ে স্নান করলো। গায়ে চন্দন সাবান ঘষে ঘষে গায়ে জল ঢাললো অনেকক্ষণ ধরে। চন্দন সাবান মানে ‘বি এন্ড ফ্লাওয়ার’। এটা চায়না থেকে মায়ানমার হয়ে টেকনাফ দিয়ে দেশে আসে। এটা তার মায়ের প্রিয় সাবান। তার মনে হয়, এতে মায়ের গায়ের ঘ্রাণ আছে। যাইহোক, সে আজ মাথায় শ্যাম্পু করলো, শ্যাম্পুর পরে কন্ডিশনারও দিলো। স্নান করতে করতে দীর্ঘদিন পরে অনেক সময় নিয়ে মাস্টারবেশনও করলো। এবং খুবই তৃপ্তি পেলো। আশ্চর্যের বিষয় মাস্টারবেশনের সময় তার কোনো প্রেমিকার মুখ মনে পড়লো না।
রাত ১১টা ১৩ মিনিট। সে শহরতলির হাসপাতাল থেকে একটু দূরে বড় রাস্তার পাশে দাঁড়ালো। এইখানে কোনো বাস-স্টপেজ নাই। ফাঁকা রাস্তা। সে প্রতিরাতে শুয়ে শুয়ে এই সময় অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন শুনে।
আসছে গাড়িটা। সাইরেন ভারি হচ্ছে। হেডলাইটের হলুদ আলোয় ঝলমল করে উঠছে রাস্তা। তার মন স্থির। গাড়িটা তার দুইগজের মধ্যে চলে এলো। সে নদীতে ঝাপ দেয়ার মতো করে দুহাত সামনে টেনে ঝাপ দিলো গাড়ির সামনের রাস্তায়। আর প্রচণ্ড ধাক্কা খেলো। তারপর হলুদ আলো সব লাল হয়ে গেলো।
না, গাড়িটা থামলো না। সে পড়ে আছে রাস্তায়। তার শরীরে ব্যথা নেই। সে তাকিয়ে আছে গাড়িটার দিকে। সাইরেন মিলিয়ে যাচ্ছে ধীরে, ঝিঁঝিঁ ডাকছে সমস্ত পৃথিবীতে। লাল আলো হলুদ হচ্ছে পুনর্বার, হলুদ থেকে কালো, কালো থেকে আরো কালো।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই এপ্রিল, ২০১৭ সকাল ৯:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



