somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প : মৃত্যু

০২ রা এপ্রিল, ২০১৭ রাত ৯:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সে ঠিক করলো আত্মহত্যা করবে। সে ঠিক করলো, সে আত্মহত্যা করবে কিন্তু মরবে না, মরতে মরতে বেঁচে যাবে। কেমন করে এমন হবে তা ভেবে অনেকগুলি উপায় বের করলো সে। তারপর সব বাতিল করে একটি উপায় সে সামনে রাখলো। উপায়টি হলো, সে একটি অ্যাম্বুলেন্সের সামনে ঝাপিয়ে পড়বে। আর অ্যাম্বুলেন্স তাকে তুলে নিয়ে যাবে।

আজ সেইদিন। সন্ধ্যা নামছে। যদিও এটা একটা এক্সপেরিমেন্ট তার কাছে। তারপরও সে পরিপাটি করে সাজগোজ করলো, নতুন একটা ফতুয়া পরলো। তার আগে স্নান করলো। এই প্রথম সে কুসুমগরম জল দিয়ে স্নান করলো। গায়ে চন্দন সাবান ঘষে ঘষে গায়ে জল ঢাললো অনেকক্ষণ ধরে। চন্দন সাবান মানে ‘বি এন্ড ফ্লাওয়ার’। এটা চায়না থেকে মায়ানমার হয়ে টেকনাফ দিয়ে দেশে আসে। এটা তার মায়ের প্রিয় সাবান। তার মনে হয়, এতে মায়ের গায়ের ঘ্রাণ আছে। যাইহোক, সে আজ মাথায় শ্যাম্পু করলো, শ্যাম্পুর পরে কন্ডিশনারও দিলো। স্নান করতে করতে দীর্ঘদিন পরে অনেক সময় নিয়ে মাস্টারবেশনও করলো। এবং খুবই তৃপ্তি পেলো। আশ্চর্যের বিষয় মাস্টারবেশনের সময় তার কোনো প্রেমিকার মুখ মনে পড়লো না।

রাত ১১টা ১৩ মিনিট। সে শহরতলির হাসপাতাল থেকে একটু দূরে বড় রাস্তার পাশে দাঁড়ালো। এইখানে কোনো বাস-স্টপেজ নাই। ফাঁকা রাস্তা। সে প্রতিরাতে শুয়ে শুয়ে এই সময় অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন শুনে।

আসছে গাড়িটা। সাইরেন ভারি হচ্ছে। হেডলাইটের হলুদ আলোয় ঝলমল করে উঠছে রাস্তা। তার মন স্থির। গাড়িটা তার দুইগজের মধ্যে চলে এলো। সে নদীতে ঝাপ দেয়ার মতো করে দুহাত সামনে টেনে ঝাপ দিলো গাড়ির সামনের রাস্তায়। আর প্রচণ্ড ধাক্কা খেলো। তারপর হলুদ আলো সব লাল হয়ে গেলো।

না, গাড়িটা থামলো না। সে পড়ে আছে রাস্তায়। তার শরীরে ব্যথা নেই। সে তাকিয়ে আছে গাড়িটার দিকে। সাইরেন মিলিয়ে যাচ্ছে ধীরে, ঝিঁঝিঁ ডাকছে সমস্ত পৃথিবীতে। লাল আলো হলুদ হচ্ছে পুনর্বার, হলুদ থেকে কালো, কালো থেকে আরো কালো।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই এপ্রিল, ২০১৭ সকাল ৯:৪২
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কিছু খাতের চাকুরী বেতন-ভাতামুক্ত ঘোষণা করা যেতে পারে

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৮

এক সমীক্ষায় জানা যায়, বাংলাদেশে সরকারি চাকুরেদের প্রায় ৯১ শতাংশ ঘুষ গ্রহণ করে। এছাড়া, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেকেও মনে করেন বাংলাদেশে দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয়; যার অর্থ দাঁড়ায়, দুর্নীতিকে আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাংসের ভুলচুক

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:০৬


বারে কুত্তার চোখ রঙিন
স্বপ্ন দেখে তাই ঘিন ঘিন
তাই দেখে হাড্ডি হাসে
পিন পিন, নাকের পুহান ঘুম
রক্ত হবে সুরেশ এই চুম;
ঐ গুরুজনে কইছে কথা
কুত্তার পেটে ঘি করে ব্যথা
স্বপ্ন তো দেখবেই ভুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×