somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুক্তগদ্য : আকাশ ফুরিয়ে যায়

২৩ শে এপ্রিল, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


দেখো আকাশ ফুরিয়ে যায়। ইকারুস সূর্যকে প্রিসলিন ভেবে ভুল করেছিলো। ভুলেছিলো মধু ও মোমের ডানায় কেবল চন্দ্রকে অতিক্রম করা যায়। তার সূর্যপ্রেম তাকে সমুদ্রতরঙ্গে পরিণত করে। সেই থেকে ইকারুস সমুদ্রের নুনে লাবণ্যময়। তারমানে তার ভুলগুলি ফুল হয়ে ফোটে প্রতিদিন। সে ঢেউয়ের তলের এক একটি প্রবাল পাহাড়, রঙিন মাছ আর শৈবালের নাম রাখে প্রিসলিন।

এইসব কথা কোনো রূপকথায় থাকলেও থাকতেও পারে। কিংবা পাওলো কোয়েলহোর সঙ্গে যেবার দেখা হলো হাওয়ার কার্নিভালে সেইদিন সেও বলে থাকতে পারে কিংবা নিজাম নামে যে কালো লোকটা রামাল্লার উন্মাদ-আশ্রম থেকে পালিয়ে এসে লুকিয়েছিলো আমার টবে লাগানো ক্যাকটাসের বনে, সেও বলে থাকতে পারে। এইসব আসলে গূঢ় কোনো প্রতীক্ষার কথা, যে প্রতীক্ষায় আকাশের সঙ্গে মুহূর্তের জন্য দেখা হয়ে যায় পাতালের। প্রকৃতির নিয়ম একটুখানি উত্তরে সরে গেলে দীপক রাগে উড়ে যায় তোমার বুকের উত্তরীয়। মনে করো, হঠাৎ একদিন একটা কুকুর গভীর বনের মধ্যে হারিয়ে গেলো। এবং সে একটা হরিণের প্রেমে পড়লো। হরিণটাও কুকুরটার প্রেমে পড়লো। কেউ কারো কাছে প্রকাশ করবে সেই সাহস তাদের নাই। কিন্তু তারা বন্ধু হলো। ভালোবাসা আর কামনার কথা কখনো প্রকাশ করতে পারলো না। একটি ভোরের নামে পার হয়ে গেলো মহাকাল। একইভাবে তুমিও কি আমার রক্তের ভিতর থাকো? সকল সময় এই কথাটি জেনো, আমার দুজনের একই বেদনা আছে। তুমি যেখানেই থাকো, আমি তোমাকে ভাবছি।

তুমি জানো, রত্নাকর যেমন করে বাল্মীকি হয় তেমনই একজন নিজাম। সেও আসলে এক ডাকাতের নাম। যে একশো একটা খুন করেছিলো। শেষ খুনটা করার পর তার পূর্বের একশো খুনের পাপ ধুয়ে যায়। শেষ খুনটার পেছনে তার কোনো ধর্মীয় এবং সামাজিক নৈতিকতা কাজ করেনি। কাজ করেছিলো মানবিক ক্রোধ। তাই মানুষ হওয়াটাই বড় কথা। আমি তো সামাজিক নিয়মে সমাজ মানি না। আমার নিয়ম আমার মনের মধ্যে তৈরি করি। আমার নৈতিকতা তৈরি হয় আমার মনুষ্যত্বের বিচারে। সমাজ মানুষকে তেমন কিছু দেয় না। সমাজের সেই যোগ্যতা নেই। মানুষই সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যায়, বিনিমার্ণ করে। ধর্মীয়, পুরুষতান্ত্রিক এবং বুর্জোয়া নিয়মে যে সমাজ চলে সে নিজেই কলুষিত।

আমরা শূন্যতার সন্তান। যেদিন শূন্যতা ফুরিয়ে যাবে, সেদিন আমরা কেউই থাকবো না। শূন্যতা মানে আকাশ। আকাশের ছায়া পড়ে তোমার ওষ্ঠাধরে।

তুমি যখন তোমার প্রিয়তম মানুষের সঙ্গে অভিমান করে কাঁদবে তখন তুমিও সুন্দর। তখন আয়নার সামনে দাঁড়ালে আমার কথার সত্যতা জানবে। তুমি আয়নার ভিতর যাকে দেখো সে আসলে আমি। এইবার তোমার প্রশ্নের উত্তর পেলে? বলো। আমার সঙ্গে কথা বলো মানে তোমার নিজের সঙ্গেই কথা বলো।

এইভাবে একদিন আকাশ ফুরিয়ে গেলে তারপরে তোমার সঙ্গে একদিন গাঢ় সবুজ চা বাগানে চলে যাবো। আচ্ছা, তোমাদের চা বাগান আছে? ছেলেবেলায় সিনেমা দেখে মনে হতো আমিও চা বাগানের ম্যানেজার হবো। হায় ছেলেবেলা! সেও বুড়ো হয়ে গেলো।

তোমাকে বলি আমি চুপিচাপ, ছায়া ছায়া থাকো ঘুমের পাশে। ফুল ফুরিয়ে যাক জলে হাওয়ার কাঁপনে। রাত আরো নামুক পায়ের পাতায়। কিছুই জানি না আমি, তবে বুঝতে পারি। হয়তো রক্তের ভিতর টের পাই। যেমন তুমি গাছ, অরণ্য, নদী, নারী, ফুল, পাখি, মাছির পেখম, মাছের চোখ আর চলন, হরিণের ছুটেচলা, জিরাফের গ্রীবা, নিজের চোখ, ওষ্ঠাধর, স্তন, হাসি ও আনন্দ, রক্তের ভিতরকার যন্ত্রণা, রাত্রি, প্রজাপতি, ঝিঁঝি, জুনিপোকা, গান আর বর্ষণ ভালোবাসো। আর এইসব আমিও ভালোবাসি। তোমার সুন্দর চোখে যাকিছু দেখে তুমি মুগ্ধ হও, চঞ্চল হও, ভালোবেসে ফেলো, আমিও তেমন। কেননা আমার চোখও তোমার মতোই সুন্দর। তোমার চোখেরই যমজ সহোদর। বিস্তারিত গতকাল নামিয়েছে শরীরে যা আছে সুন্দর ও আপ্তসত্য। ক্ষয়ের পাশে আঁতিপাতি খুঁজে ফিরি পূর্বাপর সকরুণ।

তারপর সেইসব কুকুরের, হরিণের, পাগলের, ডাকাতের, কথকের বেদনা আমরা দুজনে বুকের ভিতর ধারণ করি। তুমি চলে যাও। আমি হয়ে থাকি উদ্বাস্তু এপিটাফ। আর চুপিচাপ বলি তোমাকে, যাও প্রিসলিন, রক্ত ছিঁড়ে যাও। রক্ত খুঁড়েই এসো পুনর্বার।

--------
ছবি : আমার আঁকা
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে এপ্রিল, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:২৩
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চাদ–লিবিয়া যুদ্ধ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ২:০৭



ছবি: যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে টয়োটা যুদ্ধের সময়ে একটি টয়োটা পিকআপ থেকে চাদীয় সৈন্যরা

চাদ–লিবিয়া যুদ্ধ ছিল ১৯৭৮ থেকে ১৯৮৭ সালের মধ্যে লিবীয় ও চাদীয় বাহিনীর মধ্যে সংঘটিত কয়েক দফা বিক্ষিপ্ত যুদ্ধ।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসরায়েলী ভোট, নাতানিয়ানাহু পরাজিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সকাল ৭:০৬



***আপডেট: ৯৫% ভোট গণনা হয়ে গেছে। ( সেপ্টেম্বর ১৯)

লিকুদ দল পেয়েছে: ৩১ সীট
নীল-সাদা দল পেয়েছে: ৩২ সীট
বাকী দলগুলো: সর্বাধিক ৫৭ সীট... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গৌরব গাঁথা আমাদের ইতিহাস : ঘটনাপঞ্জি ও জানা অজানা তথ্য। [২]

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:১৮


[link|https://www.somewhereinblog.net/blog/Rafiqvai/30280327|মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গৌরব গাঁথা আমাদের ইতিহাস : ঘটনাপঞ্জি ও জানা অজানা তথ্য। [১]]
২য় পর্ব
যুক্তফ্রন্ট গঠনঃ
৪ ডিসেম্বর, ১৯৫৩।
প্রধান সংগঠকঃ মাওলানা আব্দুল হামিদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশে হচ্ছেটা কি!!!

লিখেছেন সাকলাইন তুষার, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:৩৪

বাংলাদেশের জাতীয় ডাটা সেন্টারে নাকি অনেক অনেক ভুয়া ভোটার আইডির ইনফরমেশন পাওয়া গিয়েছে,এদের প্রায় সবাই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর। এই আইডি ব্যবহার করে পাসপোর্ট-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পেপারও বের করে নিয়ে যাচ্ছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরীচিকা ( পর্ব - ২৮ )

লিখেছেন পদাতিক চৌধুরি, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:০৭



সেদিন ইচ্ছে করে কিছুটা খোঁচা দিতেই মিলিদিকে জিজ্ঞাসা করি,
-আচ্ছা মিলিদি, রমেনদাকে তোমার কেমন লাগে?
আমার কথার কোন উত্তর না দিয়ে মিলিদি বরং কিছুটা উদাস ভাবে ম্লান মুখে চুপচাপ দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×