somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা এবং পরের কিছু কথা

২৫ শে মে, ২০১৪ রাত ১০:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


পৃথিবীতে বর্তমানে মানুষের মানুষের সংখ্যা ৭বিলিয়নের উপরে এবং এই সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ধারনা করা হয় যে ২০৫০ নাগাদ এই সংখ্যা প্রায় ৯.৬০ বিলিয়ন (UN ২০১৪) এ পৌঁছে যাবে। এই বিশাল সংখ্যক মানুষের খাদ্যের যোগানই এখন গুরুত্তপুর্ন আলোচ্চ্য বিষয়। আর এই সমস্যার কথা মাথায় রেখেই মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল এর অন্যতম গুরুত্ব দেয়া হয়েছে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের উপর, এবং এই লক্ষমাত্রা আর্জনের সময়সীমা বেধে দেয়া হয়েছে আগামি ২০১৫ সাল নাগাদ, যা আমাদের অতি সন্নিকটে। কিন্তু আমরা যদি এই স্বপ্নালোক থেকে বেরিয়ে এসে বাস্তব পৃথিবির দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাই যে, বিগত ২০১১-২০১৩ সালে (FAO ২০১৪) পৃথিবীর মোট আধিবাসীর আট ভাগ্যের এক ভাগ খাদ্যের অভাব বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছে এবং উন্নয়নশীল দেশই প্রাথমিকভাবে খাদয়াভাব এর সমস্যায় জ্ররজ্রিত। তবে সাব-সাহারিয়ান আফ্রিকা থেকে সুরু করে এশিয়ার বেশিরাভাগ দেশি খাদ্যে লক্ষমাত্রা অর্জন করছে ধীর গতিতে। আর এদিকে উন্নত বিশ্ব নির্ভর করছে প্রযুক্তি এবং বাণিজ্যিককৃষিসম্পদের উপর। এছাড়া অন্যান্য দেশ থেকে কৃষিজাতদ্রব্য আমদানি তো আছেই।
প্রযুক্তিনির্ভর কৃষির কথা আসলে যেভাবে কৃশি খাতে যন্ত্রের আধিক্যের ব্যাবহার বৃদ্ধির কথা আসে তেমনিভাবে নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষকের হাজার বছরের লালিত বীজের গুনানুন/স্বকীয়তা হারিয়ে নতুন মিউটেটেড বীজ যা কিনা আমরা জিএম খাবারের বীজ হিসাবে চিনি, বাজার দখল করে নিচ্ছে। যান্ত্রিকতার এই ব্যাবহার কেন প্রশ্নের উত্তর আমাদের খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা আর্জন। কিন্তু আসলেই কি এটি আমাদের খাদ্যের দিচ্ছে না আমাদের প্রযুক্তি নিভর করে আর বেশি খাদ্যে অ-স্বনির্ভর করে ফেলছে এই প্রশ্নের উত্তর আমাদের অজানা।
প্রথমে আমি জিএম খাদ্যের কিছু ভাল এবং খারাপ দিক তুলে ধরব যেন পাঠকের কাছে বিষয়টা সহজ হয়ে যায়। ভ্রূণ অবস্থায় যখন কোন বীজের ডিএনএ পরিবর্তনের করা হয় এবং এটি নিজস্ব স্বকীয়তা হারিয়ে আগের সশ্ব্য বা ফলের মত দেখায় বা বড় দেখাই তখনই তাকে আমরা সাধারণ ভাষায় জিএম খাবার বলি। এই জি এম এর সুবিধা হল এর জন্মে হয়ত অতিরিক্ত সার ব্যাভার করা লাগে না অথবা কোন কোন জীএম খাদ্য সশ্বের প্রতিরোধ ক্ষমতা এত বেড়ে যায় যে পোকা মাকড় তাকে আক্রমণ করতে পারে না, নিজের শরীরেরই আক্রন্ম না করার যথেষ্ট গুনাগুন আর্জন করে। জিএম খাদ্যদের এর খুব ভালো উধাহরন হচ্ছে আপেল কুল আথবা চাল এর প্রজাতি BRRI-29। এছাড়া বর্তমানে বাংলাদেশ এ জিএম বেগুলেরও এনুমতি দেয়া হয়েছে। জিএম খাবারের আর কিছু গুনের দিক তাকালে দেখা যায় যে এ খাবার অনেক বেশি পুষ্টিকর হয়, এবং খাদ্যের সব গুনাগুন প্রয়োজনের হয়ত অতিরিক্তই থাকে। উৎপাদন ক্ষমতা বেশি তাই আমরা সহজে অনেক বেশি ফল পাই। কিন্তু যত সহজে যা অর্জন করা হয় তার টেকসই ক্ষমতা নিয়ে ততটা স্বংকা। আর এজন্যেই সারা বিশ্বে জিএম খাদ্য আজ প্রশ্নবিদ্ধ।
প্রথমে ধরা যাক জিএম খাবারের মান নিয়ে, যদিও বলা হয়ে থাকে এই খাদ্যে পুষ্টির পরিমাণ অনেক বেশি তথাপি কোন কারণে ভ্রূণ এর ডিএনএ পরিবর্তনের সময় আনাকাংখিত ঘটনা ঘটলে পুরো মানব জাতিকে সেই দায়ভাব বহন করতে হয়। মানুষ এবং জীবিত প্রাণী সবার মধ্যে সংক্রমণ ঘটে মারাত্মক রোগ এর। এছাড়া যেসব জমিতে জিএম ফসল উৎপাদন করা হয় সেসব জমি অন্য ফসলের জন্যে ব্যাভার করা যায় না, আরো বর ব্যাপার হল সেই জমি থেকে একই ধরনের পুস্তী উপাদান গ্রহণের ফলে ওই নির্দিস্ট উপাদান এর ঘাটতি দেখা যায় ওই জমিতে, যা কিনা পরবর্তিতে অনেক সার ব্যবহারেও পুর্বের অবস্থায় ফেরত আসে না। এভাবে জমি প্রব্ররতিতে চাষের অযোগ্য হয়ে পড়ে। সবছাএ বর বিষয় যে ফসলে কীটপতঙ্গ প্ররযন্ত বসে না সেটি মানুষের বা অন্যান্য প্রাণীর দেহে যে কি পরিমান বিষাক্ত দ্রব্য বহন করে নিয়ে যায় এটা সহজেই বোধগম্য। এই জিএম খাদ্য যদিও বলা হয় অনেক পুষ্টিকর কিন্তু এই খাদ্যের কোন প্রাক্রতিক স্বাদ বা ঘ্রাণ কোনটিই থাকে না। জিএম খাদ্যের আবির্ভাবের কারণে দেশের নিজস্ব বহু প্রজাতির সশ্ব্য ধ্বংস হয়ে এক প্রজাতির উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুতরাং এই জিএম খাদয়ের ভিড়ে আমরা আজ হারাছচি অনেক প্রাজাতির সুস্বাদু খাদ্য।
শুধু পরিবেশ বা শারীরিকভাবেই আমরা খতিগ্রস্থ হচ্ছি তাই নয় বরং আর্থনৈতিকভাবেও জিএম খাদ্য আমাদের প্রতিকূলতার সম্মুখীন করছে। সাধারণত জিএম বীজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ হয়ে থাকে বিশ্বের ধনী দেশগুলোর থেকে


আর আই বীজ তারা প্রথমে কমমূল্যে বিক্রি করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে। কিন্তু যখন ওই জিএম বায়বাহারকৃত জমি আর অন্য ফসল উৎপাদনে অক্ষম হয়ে যায় তখন চরা দামেও ওই বীজ কৃষকরা কিনতে বাধ্য হয়। আর এভাবেই উন্নয়নশীল বিশ্ব এই সব প্রতিষ্ঠানের কাছে জিম্মি হয়ে থাকে। নিজেরদের খাদ্যের স্বয়ংসম্পূর্ণতা আর্জন কর্মতে গিয়ে খাদ্যয়ে স্বনির্ভরতা হারায়।
এজন্যে আমাদের করণীয় আসলে আমাদেরকেই থিক করতে হবে। বেশি লাভ এর আসায় না বসে থেকে একি জমিতে কিভাবে বায়ো-দিগ্রেডেবল সার আর কীটনাশক বায়বার করা যায় সেদিকে গবেষণা কর্মতে হবে। এছাড়াও জিএম বায়বাহার করে জম্বির খতি না করে একই জমিতে দুই থেকে ৩ধরনের সফল বিভিন্ন মাস্যার চাষাবাদ করা জেতে পারে। বেশি ফালন এর জনে জিব সার এর ব্যাবাহার বাড়ান জেতে পারে। এক্ষেত্রে কৃষকের মতামতের প্রাধান্য দেয়া উচিত সরকারের উর্ধত্ন ক্ররতিপক্ষের। আর আমাদের উচিত যে জিএম খাবার খাচ্ছি তার সম্পর্কে একটু ভালভাবে জানা এবং এটা ভবিষ্যতে আমদের সমাজ, পরিবেশ এবং আরথনিতিতে কি প্রাভাব ফেলতে পারে সেটি নিয়ে ভাবা।






০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তোমার মুখের রেখা আঁকতে চেয়েছি।

লিখেছেন জায়েদ হোসাইন লাকী, ০৬ ই নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০



রাতটি ছিল নিকোটিনে ভেজা
ধোঁয়ার ভেতরে তোমার অবয়ব হঠাৎ উধাও হয়ে গেল
চাঁদ তখন লাল আর ঠিক আমার ফুসফুসের মতোই ক্লান্ত।
তুমি আলো হয়ে রইলে, আমি অবাধ্য আলোর ফসিল

আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ - ছোঁয়া

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৬ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৭

আজ বৃষ্টি তাকে প্রথম ছুঁয়েছে। ওর স্পর্শে তার সমস্ত সত্তা যেন হীরের মত স্বচ্ছ স্ফটিকে ছেয়ে গেছে। বৃষ্টি বলেছে, সে আকাশের কাছে গিয়েছিল। মেঘের কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কলকাতায় নিয়মিত যারা যাতায়ত করেন তারা এই প্রশ্নের মূখোমুখি হবেন প্রায়ই।

লিখেছেন ইমরান আশফাক, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৩

আচ্ছা, আপনাদের মধ্যে যারা কলকাতায় যাতায়ত করে থাকেন তারা স্হানীয়দের কাছেকি এই প্রশ্নটির মূখোমুখী হয়েছেন নিয়মিতভাবে: দেশভাগের সময় বাংলাদেশকে দেয়া হয়েছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুর্শিদাবাদ আর ভারতকে দেয়া হয়েছিলো খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা কেন কওমী জননী হয়েছিলেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:২৯


আওয়ামী লীগ করেন এমন অনেক মানুষ বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি বোধ করেন। শেখ হাসিনা কেন কওমি জননী উপাধি গ্রহণ করলেন? আসলে সবাই যা বলতে চান,আওয়ামী লীগের রাজনীতি তো এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

×