ঈদে প্যাকেজের মাধ্যমে বেড়াতে নেওয়ার কথা বলে গ্রাহকদের টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে একটি প্রতিষ্ঠান। সোহাগ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস নামের কারওয়ানবাজারের ওই প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় এখন তালাবদ্ধ। প্রতিষ্ঠানটির সব কর্মকর্তার মোবাইল ফোনও বন্ধ। প্রতারিত হয়ে ঈদের আনন্দ মাটি হয়েছে শতাধিক ভ্রমণপিপাসুর।
প্রতারিত ব্যক্তিদের একজন নাছির উদ্দিন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকা-বান্দরবান-কক্সবাজার-সেন্ট মার্টিনে ভ্রমণের কথা বলে তাঁদের দুই বন্ধুর কাছ থেকে ১৩ হাজার টাকা নেওয়া হয়। কথা ছিল ঈদের পরদিন ১৮ নভেম্বর তাঁদের কলাবাগান থেকে কক্সবাজারে নেওয়া হবে। কিন্তু এর আগের দিন তাঁদের মোবাইল ফোনে একটি বার্তা দিয়ে জানানো হয়, লঞ্চের সমস্যার কারণে তাঁদের সফর হচ্ছে না। অথচ বান্দরবান-চট্টগ্রামে যেতে লঞ্চের কোনো দরকার ছিল না। ঘটনার পর থেকে সোহাগ ট্যুরসের সবার মোবাইল ফোন বন্ধ। একই কথা জানান আরেক পর্যটক ফরিদুল হাসান।
একটি পোশাক কারখানার বিপণন ব্যবস্থাপক সারোয়ার জাহান চৌধুরী জানান, তাঁরা দুই বন্ধু ঈদের বন্ধে সেন্ট মার্টিন-বান্দরবান বেড়াতে যাবেন বলে ঠিক করেন। এ কারণে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখে সোহাগ ট্যুরসে গিয়ে সাড়ে ১১ হাজার টাকা জমা দেন। তাঁদের লিফলেট দিয়ে সফরসূচিও জানিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ঈদের দিন থেকেই সবার মোবাইল বন্ধ। এতে তাঁদের ঈদটাই মাটি হয়ে গেছে।
সোহাগ ট্রাভেলস অ্যান্ড টুরসের লিফলেটে দেখা গেছে, শুধু বাংলাদেশে নয়, প্যাকেজের মাধ্যমে দার্জিলিং, ভুটান, মালয়েশিয়া ও ব্যাংককসহ বিভিন্ন স্থানের প্যাকেজ দেওয়া আছে। তাতে নানা সুযোগ-সুবিধার কথা বলা হয়েছে।
৩৩ কারওয়ানবাজারের শাহ আলী টাওয়ারের ১১ তলায় সোহাগ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের কার্যালয়ে গিয়ে সেটি তালাবদ্ধ পাওয়া গেছে। ওই ভবনের একজন জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটির কয়েক মাসের ভাড়াও বকেয়া আছে।
এ বিষয়ে জানতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সোহাগ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের স্বত্বাধিকারী হাফিজুর রহমান কিছু দিন আগে প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঈদের দিনেই আমাদের সুন্দরবনে যাওয়ার জাহাজে ত্রুটি দেখা যায়। তাই আমরা সফর বাতিল করি।’
বান্দরবান-কক্সবাজার যেতে তো জাহাজ লাগে না, সেটি কেন বাতিল করা হলো, এমন প্রশ্নের জবাবে হাফিজুর বলেন, ‘৩১ জন পর্যটকের একটি প্যাকেজ নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল সুন্দরবন। নয়জনের কক্সবাজার। কিন্তু সুন্দরবনের মূল সফরেই সমস্যা হওয়ায় অর্থসমস্যা হতে পারে ভেবে কক্সবাজারের সফরও বাতিল করা হয়।’ অফিস বন্ধ কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা মানুষকে কী জবাব দেব? তাই ভয়ে তালা দিয়ে রেখেছি।’ প্রতারিত ব্যক্তিদের এখন কী হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জাহাজের অগ্রিম বাবদ আমরা দুই লাখ টাকা দিয়েছি। ওই টাকা ফেরত পেলে সবার টাকা ফেরত দিয়ে দেব।’
তবে ঘটনার দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো কেউ টাকা ফেরত পাননি। এ বিষয়ে আবার যোগাযোগ করা হলেও হাফিজুর রহমান এবার ফোন ধরেননি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


