বনশ্রী টু সোনারগাঁও পানাম সিটি ৬২ কি.মি রাইড দিয়ে আসলাম !!!
আমরা তিন বন্ধু আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলাম ঈদের ২য় দিন সাইকেল নিয়ে ঘুরেতে বের হব! কিন্তু কথায় যাবো তা ঠিক করে রাখি নাই! যথারীতি ঈদের ১ম রাতে আমরা তিন জন স্কাইপে আলাপে বসলাম কথায় যাবো তা ঠিক করার জন্য।
আগেই বলে রাখি আমি নিশান আর বাকি দুই বন্ধুরা হল মুকুল ও ইশরাক!
লাল্লুটা আমি, নীলটা মুকুল, সাদাটা ইশরাক!
আলাপে আমি আগে প্রস্তাব রাখলাম সোনারগাঁও পানাম সিটি যাওয়ার জন্য! মুকুল ও ইশরাক চাচ্ছিল ঢাকার মধ্যে ঘুরার জন্য কারন ঈদের সময় ঢাকার রাস্তা ফাকা থাকে এবং তার চাইতে বড় কথা তারা দুই জন কখনো সর্বোচ্চ ৪-৫ কি.মি এর বেশি ও হাইওয়েতে কখনো চালায় নাই (আমিও সর্বশেষ ৭ বছর আগে সাইকেল চালিয়ে ছিলাম) আমি বললাম এই টাইমে হাইওয়ে ও মোটামোটি ফাকা থাকবে তা ছাড়া মোটার বাইক দিয়ে ঢাকা শহর ঘুরতে ঘুরতে এখন আর ঢাকায় ঘুরতে ভাল লাগে না তাই ঢাকার বাইরে যাইতে চাচ্ছিলাম! পরে শেষমেশ মুকুল ও ইশরাক রাজি হল কিন্তু শর্ত জুরে দিল পানাম সিটিই যে যাইতে হবে হবে এমন কোন কথা নাই! যতটুকু পারা যায় টতটুকু যাবে! আমি মনে মনে বললাম "বাবাজিরা একবার খালি রওনা হও পানাম সিটি যদি কাল না গেছি......)
যেই কথা সেই কাজ সকাল ৭.৪৫ মিনিটে রওনা হলাম সোনারগাঁও পানাম সিটির উদ্দেশে! বনশ্রী থেকে নন্দিপাড়া-ডেমরা হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম! আগের রাতে বৃষ্টি হয়াতে দক্ষিণ বনশ্রী আর নন্দিপাড়ার রাস্তার করুন অবস্থা! আস্তে আস্তে করে ৯.১৫ তে স্টাফ কোয়ার্টারে পৌছালাম, তারপর সেখানে আমপাতা ক্যাফেতে সকালের নাস্তা সারলাম।
আমপাতা ক্যাফের সামনে!
আমপাতা ক্যাফে থেকে বের হয়ে চা খাওয়ার জন্য চায়ের দোকানে বসলাম, চা খেতে খেতে মুকুল বলল "মামা বড়টা লাগছে" দোকানদারকে জিজ্ঞাস করলাম আসেপাশে কথাও টয়লেট আছ কিনা! সাথেসাথে দেখায় দিল সামনের মার্কেটা! মুকুল দিল দৌড়! আমি আর ইশরাক মজা নিচ্ছিলাম,
তারপর আমাদের স্টাফ কোয়ার্টার থেকে বের হতে হতে ১০.০৫ বাজলো!
হাইওয়ে উঠার পর ওদের নিয়ে আস্তে আস্তে আগাতে লাগলাম, ১০.৪০ এ মদনপুর আসার পর বৃষ্টি বাবাজি আমাদের ধইরা বসলো তারপর কোনোমতে একাটা মিস্টির দোকানে ঢুকলাম সাইকেল সহ কারন দোকান খোলা কিন্তু কার্যক্রম বন্ধ ছিল!
এই সেই মিস্টির দোকান!!
বৃষ্টি কোখন শেষ হবে অপেক্ষা করেতে করতে তিন জনই বিরক্ত হয়ে গেলাম
বৃষ্টি হচ্ছিল! আমি খেলাল করে দেকলাম আমার হাত পুরা ফুলে গেছে বাস টাইনা
এই সেই প্রাইভেটকার!!!
তারপর সিদ্ধান্ত নিলাম বৃষ্টিতে যখন ভিজেই গেলাম তো আর বইসা থাইকা লাভ নাই, রওনা হইয়া যাই! ইশরাক কতগুলা পলেথিন নিয়া আসল মবাইল গুলা পেচানর জন্য! আমি আমার একটা মোবাইল পোলিথিনে পেচালাম আর আরেকটা বেগ এ ঢুকালাম পোলিথিন ছারাই! ১১.৪৫ নাগাত ঝুম বৃষ্টির মধ্যে রওনা হলাম পানাম সিটির দিকে! বৃষ্টি আর থামার কোন লক্ষন নাই, আস্তে আস্তে এগোলাম! ১২.৪০ এর মধ্য পানাম সিটিতে পৌছে গেলাম। পানাম সিটিতে পৌছানোর পর কাড়া রোদ উঠল! পানাম সিটির শেষের দিকে একটা পুকুর পেলাম, অনেক বড় ও সুন্দর করে ঘাট বাধানো! ঘাটে সাইকেল রেখে পুকুরে নেমে গেলাম সবাই! আমি নামার আগে বেগ চেক করে দেখি আমার মবাইল পানিতে ভিজে পুরাই লুটুপুটু অবস্থা
তারপর পানাম সিটির মধ্য কিছু চবি তুললাম!
পেটে তখন ইদুর দৌড়াদৌড়ি করতে ছিল! সোনারগাঁও জাদুঘরের সামনে একটা হটেলে তেহারী খাইতে বসলাম, এমন তেহারী আমি আমার জীবনে খাই নাই পোলাউ এর উপর ৪-৫ টা শুকনা গরুর মাংস!মেঝাঝ পুরাই বিগরায় গেল
খাওয়া দাওয়া শেষ করে ১.৫০ এর দিকে আস্তে আস্তে ঢাকার দিকে রওনা দিলাম!
রওনার দেওয়ার ৮ কি.মি যাওয়ার পর আমার আরেক সেট চার্জের অভাবে বন্ধ হইয়া গেল, আফসোস লাগলো এন্ডোমোন্ডোর ট্রেকিং টা বন্ধ হইয়া গেল! কি আর করার!!!
এরপর আল্লাহর অশেষ মেহেরবানে সহীহসালামতে ৪.২০ এর মধ্যে বাসায় পৌছেগেলাম!
অবশেষে বলতেই হয় আজকের রাইডটা একটা মেমোরিবল রাইড ।
অনেক অনেক ধন্যবাদ মুকুল ও ইশরাক কে শেষ পর্যন্ত এমন একটা রাইডে সাপোর্ট দেওয়াআর জন্য
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই আগস্ট, ২০১৩ রাত ১০:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


