somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

এন ইসলাম রনি
পুরো নাম মুহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম রনি, জন্ম- যশোর, পৈত্রিক নিবাস- ঝিনাইদহ। পড়ালেখা করছি বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এ। ঠিকানা- https://www.facebook.com/nasirul.rony

অ-কবিতার স্তুপ থেকে-১৬

১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ সকাল ৯:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১।
সেই কবে থেকে জোর করে জুড়ে যাচ্ছি আকাশের সাথে এক টুকরো আকাশ.... আকাশ নই,
আকাশ নই, ছিলাম না কখনো,
তবু নিজের এক টুকরো আকাশ মেলাচ্ছি বিশাল আকাশে..
যেন আমি বিশাল আকাশের কেউ,
আমাকে নিয়েই অসীম আকাশ !


২।
এ নিঃশেষ হয়ে যাওয়ায় যখন সব প্রতিরোধ ভেঙে যায় একে একে,
হারিয়ে যায় অলৌকিকে বিশ্বাস,
তখনো আত্মসমর্পণের আগে একবার
চোখ ধাঁধাঁনো আলোর ছটায় জ্বলে উঠতে চাই জীবন
তীব্র রঙিন হয়ে ওঠে বিবর্ণ অতীত..
যেখানে প্রত্যাশায় রেখেছি ব্যস্ততাশূন্য একটুকরো মুহূর্ত- নিজের সাথে
বৃষ্টি, নদী স্রোত, আর ভোরের শব্দ,
পাতায় পাতায় নিঝুম রাতের আওয়াজ।


৩।
নৈঃশব্দের ভেতর থেকে শব্দ রা জেগে উঠছে
অন্ধকারের ভেতর থেকে আলো,
এখন ই আযান ধ্বনিত হবে
কারুকাজ করা মিনারে মিনারে,
বারান্দায় হাঁটছে কেউ, পরিচিত পায়ে,
ডেকে উঠলো পাখি -প্রথম আগন্তুক শহরের..



৪।
কোজাগরী চাঁদ অর্ধেক ঢেকে আছে মুখ
মেঘের আড়ালে, অর্ধেক রেখেছে খুলে,
হঠাৎ ই নারিকেল পাতায় ঝড়ো
বাতাস বয়ে গেল খুব,
রাস্তায় কেউ নেই, -তবু থেমে থেমে
প্রহরীর অকারণ বাঁশি,
নীরব শহরে আজো কেঁদে যাচ্ছে একটা কুকুর!!


৫।
এতো যে চুরি যায় সময় পৃথিবীতে-
সকাল বিকেল রাত শৈশব কৈশোর
কারো বা পুরোটা যৌবন,
স্বপ্ন প্রেম আরো কত কি..!
এখনো আসনি সময় বলতে বলতে
চুরি হয়ে যায় অলক্ষ্যে জীবন!
তবে আমরা কেউ পারছি না কেন
নিজের জন্য চুরি করতে একটা মুহূর্ত,কাঙ্ক্ষিত একটু সময়?


৬।
মাঝে মাঝে হঠাৎ ই এক একটা বিশাল শূন্যতা এসে যায় মস্তিষ্কের ভেতর,
যেখানে কোন শব্দ পৌঁছায় না।
বায়ুমন্ডলহীন গ্রহ উপগ্রহে যেমন শব্দহীন ভীষণ উল্কাপতন ঘটে;
নক্ষত্র ধ্বংস হয়, ধ্বংস হয় তার সমস্ত প্লানেটারি সিস্টেম শব্দহীন প্রলয়ে,
আমরা শুধু দেখে যাই আলোর ঝলকানি
-সেই সব শব্দহীন প্রলয় এর মাঝে
ধ্বংসের আলোয় শব্দ খুঁজি
যাতে বর্ণনা করতে পারি ভেতরের ভাংচুর,
পৃথিবীর কাছে কিছুটা -অন্য পৃথিবী।


৭।
এই মুহূর্তে যে নক্ষত্রের জন্ম হলো,
আমি তাকে কখনো দেখবো না!
বহু আগে, হয়তো গুহা মানবের যুগে মৃত
কোন নক্ষত্রের আলোয় সাজানো আকাশ
কে জীবন্ত বিশ্বাস করে শেষ হবে আমার সময়।
নিঃশেষ হয়ে যাওয়া মৃত নক্ষত্রদের স্মৃতি
আলো করে ধরে আছে এই আকাশ,
আমি তার স্মৃতির বুকে স্বপ্ন নিয়ে দেখে যাবো মৃত নক্ষত্রের মুখ,
একটুও জানবো না!


৮।
মেঘের ছায়া-অন্ধকারে ডুবে গেছে দিন
ভুলে গেছি দুপুর বিকেল সন্ধ্যার মিল অমিল,
অনেকক্ষণ উইলবার স্মিথের সাথে নীল নদী(নদ) পথে
খুঁজেছি ফারাও এর মমি, -সোনালী কফিন,
ক্লান্ত চোখ, ঘড়িতে সাড়ে পাঁচ- বাপ্পির ফোন -"নিচে নামো। আসছি, এইতো ধরো মিনিট দশ"
আমিও বলিনি না
যদিও জানিনা বাইরে বৃষ্টির খবরা খবর
নীল থেকে নবগঙ্গার সাথে
কিছুক্ষণ হেঁটে আসি পুরনো শহর।


৯।
প্রহর কিছু নষ্ট গেল ভেবে,
কি জানি সব, কোথায় কোথায়, কোন দূরাশায়-
চিলেকোঠায়, নিচের ঘরের সিন্দুকেতে..
মন পাঠালাম খুঁজতে কাকে
দুপুর বাড়ির একলা ঘরে?
বিকেল গেল ছাদ পেড়িয়ে
গলির পথে, শূন্য সিঁড়ি..
সন্ধ্যা এলো
এখনো আমি কি সব খুঁজছি যেন!!


১০।
ডুবে আছি দুঃস্বপ্নের ভেতর। গোল্ডফিসের স্মৃতিভ্রষ্টতা অসুখে
মুছে যায় যদি
এ দুঃস্বপ্নের জার বন্দি জীবন ইতিহাস -সেও এক সুখ,
যেখানে স্বর্গের দ্বার খুলে আছে আক্যুরিয়ামের চির জীবন্ত সমুদ্র দেয়াল।
আর একটুখানি পেরনো বাকি..
এই তো একটুখানি...


১১।
একমাত্র তোমার কাছে থেমে আছে সময়
বাদবাকি অবাস্তব দুঃস্বপ্ন,
এখনই ভেঙে যাবে ঘুম -আমার বিশ্বাস,
বিছানায় তবু ছটফট,
শক্ত করে চার হাত পা চেপে ধরে আছে দুঃস্বপ্ন টা!


১২।
আমার যত লেখা যেগুলোকে আমি কবিতা বলেছি
সে গুলোকে ছিঁড়ে ফেলে দিতে ইচ্ছে করে
এমন কোন জ্বরগ্রস্থ হলুদ দুপুরে।
যদিও জানি সন্ধ্যা নামতেই বুকের ভেতর দীর্ঘশ্বাস ছাড়বে একটা শীতের পুকুর,
ঘূর্ণি উঠবে বাতাসে,
শূন্য পুকুরের চার দেয়ালে বাড়িখেতে থাকবে এক অচেনা নীরবতা অনর্গল।


সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ সকাল ৯:০৬
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীর ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৭


আজ দেশজুড়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। ২৪ -এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভ্ন্নি সময়ে বহু নিরীহ প্রাণ অকালে ঝরেছে। আবু সাঈদ, মুগ্ধ ছাড়াও নাম জানা-অজানা হাজারো ব্যাক্তি তাদের প্রাণ হারিয়েছেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

তেহরানের ছায়া কি এখন ঢাকা সেনানিবাসে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:০১


সোমবার সকালে জলসিঁড়িতে একটা অনুষ্ঠান হলো। ফিতা কাটা, ফুলের তোড়া, বক্তৃতা, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ, স্বাভাবিক একটা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যা যা থাকে সবই ছিল। সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান নিজে হাজির, পাশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাতিঘর (Lighthouse)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৬



বাতিঘর (Lighthouse)

বাতিঘর নিয়ে সেই ছোট্টবেলা থেকেই আমার অনেক কৌতুহল ছিল। কেন ঐ বয়সেই বাতিঘর নিয়ে আমার এতটা আগ্রহ ছিল, তার কারণ আজও খুঁজে পাই না। অথচ আমি নিজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

"৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে। শেখ হাসিনার প্রয়োজন ছিল বিশ্রাম। আওয়ামী লীগের দরকার ছিল শুদ্ধিকরণ। অন্যান্য দলগুলোরও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে বিষয়ে মজিবর ও হাসিনা এক বিন্দুও ভুল করেনি!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


বাংলাদেশের ইতিহাসে মজিবরের শেষ শাসন কাল ও হাসিনার শেষ শাসন কাল দুটি ভিন্ন সময়ে হলেও গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত মিল বহন করে। নির্বাচনী বৈধতার নিরিখে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনের সংগে ২০১৪, ২০১৮... ...বাকিটুকু পড়ুন

×