ছোট্ট একটা গল্প বলবো আজ। এই গল্পে স্থান বিষয়টা সম্পূর্ণ আপেক্ষিক। হতে পারে গল্পটা অ্যামেরিকার, অথবা অস্ট্রেলিয়ার, আবার হতে পারে গল্পটা আমাদের বাংলাদেশের কোন এক পরিবারের। গল্পটা হয়তো মিথ্যা, আবার হয়তো-বা সত্য।
এই গল্পের চরিত্র মাত্র দুইটি। এক বাবা আর তার এক সন্তান। অন্য কোন চরিত্রের কোনরকম প্রয়োজন নেই এই গল্পে। তাহলে শুরু করি।
গল্পের খাতিরে ধরে নেই, সন্তানের নাম 'জিমি'। জিমির বয়স কতো আর হবে, হয়তো ৬ বছর, আবার হয়তো-বা ৭ বছর। কোন এক রাতে জিমি তার রুম থেকে তার বাবার রুমে আসলো। তার বাবা তখন অফিসের কোন একটা প্রজেক্টের হিসাব করতে ব্যস্ত।
- "বাবা, কি করছো তুমি?"
--- "এইতো জিমি, আমি একটু ব্যস্ত। কিছু বলবে?"
- "বাবা, কাল ছুটির দিন। কালকে তুমি আমাকে একটু ঘুরতে নিয়ে যাবে, অনেকদিন চিড়িয়াখানা যাই না, আমাদের বাসা থেকে তো খুব কাছেই।"
--- "না, কালকে সারা সকাল আমার কাজ আছে, বিকালে পার্টি আছে। তুমি এখন যাও, ঘুমাও।"
জিমি চুপ করে কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে থাকলো। জিমি দাঁড়িয়ে আছে দেখে তার বাবা কাজ থামিয়ে আবার বললো,
--- "দাঁড়িয়ে আছো কেন? আর কিছু বলবে?"
- "একটা প্রশ্ন করি, বাবা। হোমওয়ার্ক এর একটা অংক মেলাতে পারছি না। অংকটা এরকম, ধরা যাক, তোমার বেতন মাসে ৪,০০০ ডলার। তুমি মাসে ২০০ ঘন্টা কাজ করলে, তাহলে তোমার ঘন্টা প্রতি আয় কতো?"
--- "খুবই সহজ অংক। ২০ ডলার।"
- "বাবা, আর একটা কথা বলি। তুমি আমাকে ১০ ডলার দিবে? রং-পেন্সিল কিনতাম। আমার রং-পেন্সিল শেষ হয়ে গেছে।"
--- "জিমি, তুমি ইদানিং অমনোযোগী হয়ে গেছো। সাধারণ একটা অংক আজকাল তুমি করতে পারো না। তুমি পড়তে যাও। তোমাকে আমি রং-পেন্সিল কিনে দিবো না।"
পরের দিন বিকাল বেলা। আজ ছুটির দিন। জিমির বাবা এখন পার্টিতে যাবেন। প্রতি ছুটির দিনে বিকালে তিনি তার ফ্রেন্ড-সার্কেল নিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত আড্ডা দেন। যাওয়ার আগে কি যেন মনে করে তিনি একবার জিমির রুমে গেলেন। দেখে বিছানায় জিমি চুপচাপ শুয়ে আছে।
--- "জিমি, এই নাও ১০ ডলার, রং-পেন্সিল কিনে নিও। আমি এখন বাইরে যাচ্ছি।"
- "এক মিনিট, বাবা।"
জিমি বাবার হাত থেকে ১০ ডলারের নোট-টা নিলো। এরপর দৌড়ে গিয়ে তার ড্রয়ার থেকে কি যেন নিয়ে আবার তার বাবার কাছে আসলো।
- "বাবা, স্কুলের টিফিনের পয়সা জমিয়ে এ পর্যন্ত মোট ১০ ডলার জমা করেছি, আর তোমার দেয়া এই ১০ ডলার নিয়ে আমার কাছে এখন মোট ২০ ডলার আছে। এই নাও ২০ ডলার, তোমার মাত্র এক ঘন্টার ইনকাম। বাবা, তুমি কি আমাকে একটা ঘন্টা সময় দিবে ... অনেকদিন তোমাকে কাছে পাই না ... অনেকদিন তোমার সাথে ঠিকমতো গল্প করা হয় না।"
এই গল্পটা শুধুমাত্র 'বাবা'-দের জন্য ............
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
২৭টি মন্তব্য ২৫টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন
ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন
শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন
কবিতাঃ পাখির জগত

টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।
টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।
বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন
মোহভঙ্গ!

পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।