somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আসুন মানুষকে ভালবাসতে শিখি

১৪ ই জুন, ২০১৬ বিকাল ৫:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

--- স্যার আমার ভুল অইয়্যা গেছে, মাফ কইরা দেন।
--- কিসের মাফ ছোট লোকের বাচ্চা, কান ধরে উঠবস কর।
--- স্যার আপ্‌নের ভাড়া দেওন লাগব না।
--- তোর সাহস কত আবার কথার উপর কথা বলিস!
--- স্যার আমি ঢাহা-শহরে নতুন রিকসা চালাই, পথ-ঘাট অত ভালো করে চিনি না, তাই ভুল অইয়্যা গেছে।
--- নতুন চালাস তাতে কি, তোদের মত ছোট লোকের বাচ্চাদের শিক্ষা হওয়া উচিৎ, না হয় একি ভুল বারবার করবি।
একজন রিকসাওয়ালা এবং একজন ভদ্রলোকের ঝগড়া শুনে আশপাশের লোকজন ভিড় জমাতে লাগল। রিকসাওয়ালা লোকটি মোটামুটি বৃদ্ধ বয়সের। ঢাকা শহরে নতুন রিকসা চালাতে এসেছে তাই শহরের অলি-গলি এত ভালভাবে চিনে না। তার অপরাধ সে ভদ্রলোকটিকে ভুল পথে নিয়ে আসছে। উপস্থিত লোকজনদে মধ্য কয়েকজন ভদ্র লোকটিকেই সাপোর্ট দিল, আর কয়েকজন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করলো। রিকসাওয়াল লোকটি নির্যাতিত হয়ে চোখের পানি মুচতে মুচতে চলে গেল। ভদ্র লোক এবং তাকে সাপোর্টার লোকজন মোটামুটি এক ধরনের আত্মতৃপ্তি অনুভব করল।
,
নিজের বিবেককে একটি বারের জন্য প্রশ্ন করে দেখুন তো এই লোকগুলোর কি লাভ হলো বাবার বয়সী একজন অসহায় বৃদ্ধ লোকটিকে অপমান করে। সেও তো আপনার আমার মতো কোন না কোন সন্তানের বাবা। তার সন্তান ও হয়তো কোন নামি-দামী কলেজ কিংবা ভার্সিটির স্টুডেন্ট। আপনার কিসের এত অহংকার? কোন ক্ষমতাবলে আপনি ঐ বৃদ্ধ অসহায় বাবার বয়সী লোকটির সাথে দূর্ব্যবহার করবেন। সে রিকসা চালায় এই কারনে? আর আপনি অনেক টাকার মালিক সে কারণে?
একটি বার ভেবে দেখুন তো আপনার পজিশনের লোকগুলোর কাছে আপনার সম্মান কতটুকু? আরে ভাই এদের মত ছোটলোকগুলো আছে বলেই তো দিনে একশত বার স্যার স্যার শোনার সৌভাগ্য আপনার হয়। আপনার পজিশনের কেউ আপনাকে স্যার স্যার বলে ডাকবে না। আপনার নাম ধরেই ডাকবে। আর টাকার কথা বলছেন? তো রিকসায় কেন, যান কোন প্রাইভেট কারে করে যান। আপনার টাকা আছে তো সামান্য মুচির কাছে কেন? যান নিজের জুতা নিজে পরিষ্কার করুন। আপনার গাঁয়ে অনেক শক্তি তাই না? তাহলে কুলির সাথে কথা কাটাকাটি করে অযথা সময় নষ্ট করছেন কেন? নিজের বোঝা নিজের মাথায় করে নিন না। তারপর দেখুন আপনার মতো ক্ষমতাশালী লোকের আত্মসম্মানে কতটুকু বাঁধে।

নিজেকে খুব ধিক্কার দিতে ইচ্ছে হয় কোন সমাজে বসবাস করছি আমরা? এ কেমন সমাজ যেখানে সামান্য প্রতিপত্তির প্রভাবে মানুষকে ছোট করে দেখা হয়? এখানে কেন ভাবা হয় না, প্রতিটি মানুষই সৃষ্টির সেরা জীব। সে রিকসাওয়ালা, মুচি, কামার-কুমোর যে শ্রেণীরই হোক না কেন। সামান্য পেশার কারনে কেন তাদেরকে অন্য চোখে, আলাদা পাত্রে রাখা হয়। সে তো আপনার আমার মতোই মানুষ। আজ আপনি কোন কোটিপতি বাবার ঘরে জন্ম নিয়েছেন, সেটা কি আপনার ইচ্ছায় নাকি পরম সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায়? একবার ভেবে দেখুন তো আপনার মত কোটিপতি ঘরের সন্তান, একটি সামান্য রিকসাওয়ালা কিংবা কোন মুচির ঘরে জন্ম নেয়া কোন অস্বাভাবিক ব্যাপার ছিল। মোটেই না, এজন্য আপনার উচিৎ প্রতিটি অসহায় মানুষকে দেখে তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া এবং সৃষ্টিকর্তার শোকরিয়া আদায় করা, একটি বারের জন্য হলেও ভাবা দরকার এদের মত হওয়া আমার কোন অস্বাভাবিক ব্যাপার ছিল না।
,
আমরা প্রত্যেকেই চাই আমাদের সন্তানেরা একটি আদর্শ ও সভ্য সন্তান হিসেবে গড়ে উঠুক। কিন্তু আমাদের বর্তমান সমাজ ব্যস্থার মাধ্যমে তা কি আদৌ কখনো প্রত্যাশা সম্ভব। কি শিখবে আমাদের সন্তান তথা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের এ সমাজ ব্যবস্থা থেকে। আমাদের প্রতিবিম্বই তো হবে আমাদের আগামী প্রজন্ম। আসুন না উচু-নিচু, ধনী গরিবের ভেদাবেদটুকু ভুলে গিয়ে মানুষকে শুধু মানুষের পরিচয়েই ভালবাসতে শিখি। মানুষকে ভালবাসাটাই হোক আমাদের প্রকৃত ভালবাসার ফসল। একটি সুন্দর সমাজ ব্যবস্থা তখনি গড়ে তোলা সম্ভব হবে যখন সমাজের প্রতিটি শ্রেণীর মানুষের প্রতি থাকবে পারস্পারিক শ্রদ্ধাবোধ, কোন পেশায় উপমায় কাউকে ছোট করে দেখা হবে না। সবার পরিচয় হবে এক আমরা মানুষ। তাছাড়া কি পাবেন কোন অসহায় মানুষটির সাথে দূর্ব্যবহার করে, তাকে হেয় পতিপন্ন করে। আপনি যদি শিক্ষিত হয়ে থাকেন, তাহলে তো আপনি শিক্ষার পরিচয়টুকুকে কলুসিত করছেন। আপনি নামে মাত্র শিক্ষিত, স্ব-শিক্ষায় শিক্ষিত আপনি নন। শিক্ষা কখনোই মানুষের সাথে খারাপ আচরণ করতে শিখায় না। আসুন না সবকিছু বাদ দিয়ে আজ থেকেই মানুষকে ভালবাসতে শিখি
,
,
লেখাঃ- নিস্তব্ধ অনুভূতি (Mohaimeens)
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুন, ২০১৬ বিকাল ৫:১৭
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×